আটলান্টিক মহাসাগরের ওপরে অচল হলো এয়ার ফ্রান্স বিমানের ইঞ্জিন

ইঞ্জিন

ছবির উৎস, DAVID REHMAR

ছবির ক্যাপশান, বিমানের জানালা দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি দেখা যাচ্ছিল।

আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর প্যারিস থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি এয়ার ফ্রান্সের বিমানের ইঞ্জিনের কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়লে বিমানটি জরুরী অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

গ্রিনল্যান্ড পার হয়ে উড়ে যাবার সময় এয়ারবাস এ৩৮০ উড়োজাহাজের চারটি ইঞ্জিনের একটি অচল হয়ে পড়ে।

এয়ার ফ্রান্সের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিমানটিতে ৪৯৬ জন যাত্রী এবং ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

ডেভিড রেহমার নামের একজন সাবেক উড়োজাহাজ ম্যাকানিক ঐ বিমানটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, তার কাছে মনে হয়েছে ইঞ্জিনের ফ্যান বিকল হয়ে পড়ায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি বলেন, হঠাৎ করেই বিমানটি নড়ে ওঠে এবং এরপর বিকট এক শব্দ শোনা যায়। যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

মি. রেহমার বলেন, কয়েক মুহূর্তের জন্য তার কাছে মনে হচ্ছিল বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়বে।

তবে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে উড়োজাহজটি স্থিতিশীল হবার পর তিনি বুঝতে পারেন যে বিমানের ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাইলটরা খুব দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেন বলে তিনি জানান।

ডানা

ছবির উৎস, DAVID REHMAR

ছবির ক্যাপশান, উড়োজাহাজের ডানা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বিমানটি নিরাপদেই অবতরণ করে।

তিনটি ইঞ্জিনের সাহায্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা উড্ডয়নের পর কানাডার পূর্বাঞ্চলে ল্যাব্রেডর বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি।

যাত্রীদের তোলা ছবিতে দেখা যায় ইঞ্জিনের সামনের অংশটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং ডানার ওপরের অংশও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে কানাডার ছোট বিমানবন্দরটি এয়ারবাস এ৩৮০-র মত বড় বিমান দেখভাল করার মত উপযুক্ত না হওয়ায় যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই আটকে রয়েছেন।

মি. রেহমার বলেন, যাত্রীদের স্থানান্তরের জন্য মন্ট্রিয়াল থেকে দুটি এয়ার ফ্রান্স ৭৭৭ উড়োজাহাজ আসছে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

এয়ার ফ্রান্স একটি বিবৃতিতে বলেছে, বিমানটির একটি ইঞ্জিন 'মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত' হয়েছে এবং তাদের কর্মীরা "ঘটনাটি সুচারুভাবে সামাল দিয়েছে"।