পাহাড়ে ভূমিধস: উদ্বাস্তুরা ত্রাণের খবর চান

ছবির উৎস, STR
- Author, আহ্রার হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
চন্দ্রবাহু চাকমা ভর দুপুরে এসে বসে আছেন চেয়ারম্যান বরুন কান্তি চাকমার দোরগোড়ায়।
রাঙামাটির বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের যে পাহাড়ে চন্দ্রবাহুর বাড়ি, সেই উলুছড়ির গোড়াতেই সবার চেনা কাপ্তাই লেক।
মঙ্গলবার বিকেলবেলা আক্ষরিক অর্থেই পাহাড় ভেঙে পড়ে চন্দ্রবাহুর বাড়ির উপর।
বাঁধভাঙা মাটির জোয়ারে চাপা পড়ে তার আধাপাকা টিনের বাড়ি আর অর্থকরী ফলের বাগান।
অবশ্য আগেভাগেই পরিবারের ৫ সদস্য গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল আরেক আত্মীয়ের শক্তপোক্ত বাড়িতে।
চাকমা ভাষায় এসব কথা সংবাদদাতাকে বলছিলেন চন্দ্রবাহু। তার কথাবার্তা বাংলায় তরজমা করে শোনান চেয়ারম্যান বরুন কান্তি।
ভারী বর্ষণে গতকাল (মঙ্গলবার) বাংলাদেশের পাহাড়ী অঞ্চলে যে ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে তাতে সবচাইতে বেশী প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাঙামাটিতেই।
এখন পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়নি।
ওদিকে একটি বড় সংখ্যায় মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ায় তাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।
কিন্তু একদিকে ভূমিধসের কারণে রাঙামাটির সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, ওদিকে রাঙামাটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ছবির উৎস, STR

ছবির উৎস, focusbangla
রাঙ্গামাটি থেকে সংবাদদাতা সুনীল দে জানাচ্ছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠিক করার জন্য সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছে না। কারণ রাস্তার উপর গাছপালা পড়ে সেখানকার সাথে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ফলে রাঙামাটিতে আবার কখন বিদ্যুৎ সংযোগ পুন:স্থাপিত হবে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এখন পর্যন্ত যতদূর জানা যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন কিছু কিছু ত্রাণ বিতরণ করছে। আর সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হেলিকপ্টারযোগে কিছু ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রাঙামাটিতে পৌঁছেছেন বলে জানাচ্ছেন সংবাদদাতারা।
কিন্তু শহর থেকে মাত্র কুড়ি কিলোমিটার দূরবর্তী বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বরুন কান্তি বলছেন, তার ইউনিয়নের সতেরোশো পরিবারের সবাই কোন না কোনভাবে এই ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত। সবার ত্রাণ প্রয়োজন। কিন্তু সংস্থান নেই। কেউ কোন সাহায্য নিয়ে এখন পর্যন্ত আসেওনি।
"আপনি যদি ওখানে যান, তাহলে দেখবেন, যেখানে ঝোপ জঙ্গল ছিল, পাহাড় ছিল, ফলের গাছ ছিল, ওগুলা কিছু নাই এখন। সব জমিতে পড়ে গেছে নয়তো কাপ্তাই লেকে পড়ে গেছে"।
চেয়ারম্যান বলছিলেন, বন্দুকভাঙ্গায় আজ সাপ্তাহিক হাটের দিন। বিভিন্ন পাহাড় থেকে হাট উপলক্ষে সেখানে আসছেন মানুষজন এবং তার কাছে এসে জানতে চাইছেন কিছু সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না।
কিন্তু চেয়ারম্যান তাদের কিছু জানাতে পারছেন না।
উপজেলা প্রশাসন তার কাছে তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে, তিনি ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন তালিকা তৈরী করবার জন্য।
কিন্তু পূর্বের অভিজ্ঞতার কথা মনে করে চেয়ারম্যান ভয় পাচ্ছেন, "তালিকা পাঠানোর পরেও যদি কিছু না আসে! তখন গ্রামবাসীকে কি জবাব দেবেন তিনি?"
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, STR








