আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সাবিনা খাতুন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দলের বর্তমান অধিনায়ক এবং স্ট্রাইকার।
সাবিনা খাতুন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দলের বর্তমান অধিনায়ক এবং স্ট্রাইকার।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সাবিনা অভিষেক ঘটে জাতীয় দলে। তার আগে নিজ জেলা সাতক্ষীরায় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলেছেন।
শুরুতে শখের বসে খেলতেন ক্রিকেট, এছাড়া অন্যান্য খেলায় অংশ নিতেন নিয়মিত। কিন্তু সাতক্ষীরা জেলা কোচ মো. আকবরের মাধ্যমেই ফুটবলের হাতেখড়ি। বর্তমান ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
সাবিনা খাতুন, বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার যিনি বিদেশি কোন ক্লাবে খেলেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন্স ফুটবল টিমের স্ট্রাইকার।
তিনি মালদ্বীপ পুলিশ ক্লাবে খেলেছেন ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
মালদ্বীপে সাফল্যের আগেই আটটি টুর্নামেন্টে সাবিনা ১০টি আন্তর্জাতিক গোল পেয়েছেন, এছাড়া গত পাঁচ বছরে জাতীয় এবং স্থানীয়ভাবে পেয়েছেন ১১৬টি গোল।
জানুয়ারীতে শেষ হওয়া নারী সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টে একটি হ্যাট্রিকসহ সাতটি গোল করেছেন।
যার উপর ভর করে প্রথমবারের মত সাফে রানার্স আপ হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবলাররা।
সাবিনা জানান, ২০১৪ সালে পাকিস্তানে তৃতীয় সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে গিয়ে তিনি মালদ্বীপের বিপক্ষে দুটি গোল করেছিলেন।
সেখান থেকেই তারা তাকে পছন্দ করেছেন। মালদ্বীপ ফুটসাল ফুটবল ফিয়েস্তা ২০১৫ তে মোট ১৪টি টিম অংশ নেয়।
সেবার তিনি ছয়মাসে ৩৭ টি গোল করেন সেখানে। টপ স্কোরার এবং বেস্ট ফাইভ প্লেয়ারের মধ্যে একজন হন সাবিনা।
প্রথমবারের সফলতার পর আরো একবার যান মালদ্বীপের একটি ক্লাবের হয়ে খেলতে।
বর্তমানে দুবাই এর একটি ক্লাবের সাথে কথা চলছে খেলার ব্যাপারে।
তবে সাবিনার ইচ্ছা ইউরোপের কোন ক্লাবের হয়ে খেলা। বাংলাদেশের একজন নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশের ক্লাবে খেলাটা তিনি গৌরবের মনে করেন।
এর আগে সত্তরের দশকে বাফুফের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক স্ট্র্রাইকার কাজী সালাহউদ্দিন হংকং প্রফেশনাল লিগের স্থানীয় টিম ক্যারোলিনা হিল এফসিতে খেলতে গিয়েছিলেন।
এর পর কয়েকজন পুরুষ ফুটবলার গিয়েছেন। কিন্তু দেশের বাইরের মাটিতে কোন লিগে নারী ফুটবলার হিসেবে প্রথম সাবিনাই যোগ দিয়েছেন।
১৯৯৩ সালে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
তার পিতা মো: সৈয়দ গাজী ও মা মমতাজ বেগম। পাঁচ বোনের মধ্যে সাবিনা চতুর্থ। বড় বোনের কাছ থেকে পেয়েছেন সবচেয়ে বড় সার্পোট।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল টিমের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতা একেবারেই কম।
এর কারণ হিসেবে সাবিনা বলছিলেন পূর্নাঙ্গ নারী ফুটবল টিম হিসেবে বাংলাদেশের দলের যাত্রা শুরু হয়েছে অনেক পরে।
তিনি সেখানে পাশের দেশ নেপাল ও ভারতের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন “সেখানে একেক জন খেলোয়ারের বয়স ও অভিজ্ঞতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ তাদের মেয়েদের ফুটবলের ইতিহাস ৩০/৪০ বছর পুরোনো”।
কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন “মাঠে যখন খেলতে যান তখন তাদের পোশাক থাকে হাফপ্যান্ট ও জার্সি। ঢাকার বাইরে খেলতে যেয়ে দর্শকদের কাছ থেকে কটু মন্তব্য শুনতে হয়। এতে করে জুনিয়র মেয়েরা মন খারাপ করে।আমি তাদের সাহস দেই, যে ফুটবল খেলতে এসেছেন এসব মাথায় নিলে চলবে না”।
তবে অধিনায়কের দায়িত্ব অনেক কঠিন বলেই তাঁর মনে হয়।
তিনি বলছিলেন “টিমের সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা, কোচের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা এসব কিছু করতে হয়”। তিনি বলছিলেন “যেহেতু বাংলাদেশ এখনো সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তাই আমি থাকাকালীন চেষ্টা করবো অন্তত বাংলাদেশকে সাফস গেমসে চ্যাম্পিয়ন করতে”।
মেয়েদের ফুটবল নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী সাবিনা।
তিনি বলছিলেন “ছেলেদের ফুটবলের চেয়ে মেয়েদের ফুটবল অনেকটা এগিয়ে রয়েছে, সেটা তাদের পারফরমেন্স বলেন বা খেলার মান বলেন”।
সাবিনা খাতুনের সাথে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার ফারহানা পারভীন।