বনানী ধর্ষণ: আসামীদের 'খুঁজে পাচ্ছে না' পুলিশ

ছবির উৎস, LEISA TYLER
- Author, সাইয়েদা আক্তার
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে পুলিশ বলেছে, ঢাকার বনানী এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে গত দুদিনে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।
আসামীরা ধনী পরিবারের ছেলে বলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না- এরকম অভিযোগের মধ্যেই আলোচিত এই মামলাটি আজ বনানী থানা থেকে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনে বদলি করা হয়েছে।
প্রায় দেড় মাস আগে একটি হোটেলে আয়োজিত জন্মদিনের পার্টিতে ওই দুই তরুণীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে পাঁচ আসামীর কজন ধনী পরিবারের সদস্য বলে তাদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করা হচ্ছে।
তবে, সে অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলছেন, আসামীর গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আসামিদের ধরতে গতকাল দিনে এবং রাতে অভিযান হয়েছে, আজও হয়েছে। ঢাকা এবং সিলেটের কয়েকটি জায়গায় হানা দিয়েছে পুলিশ । সেই সঙ্গে আসামীরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য বিমানবন্দরগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।
"আসামিরা ধনী পরিবারের সদস্য বলে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এমন অভিযোগ সঠিক নয়। যে আসামি নিয়ে এত তোলপাড়, সোশ্যাল মিডিয়ায় এত আলোচনা, তাকে কেন ধরবো না আমরা? তাদের সাথে আমাদের তো কোন সখ্যতা নাই।"
গত কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।
আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রধান আসামীর অবস্থান সম্পর্কে তার বাবার বক্তব্য আর পুলিশের দাবী নিয়ে তৈরি হয়েছে পরস্পর বিরোধী এক আলোচনা।
আরও পড়ুন:খালেদা জিয়া কেন দিচ্ছেন 'ভিশন ২০৩০'
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব আলেয়া পারভীন। বিবিসিকে তিনি বলছিলেন,"আমরা আজ শুনেছি প্রধান আসামির বাবা বলেছেন গতকাল সকাল পর্যন্ত তার ছেলে বাসাতে ছিল, কিন্তু তারপর তিনি আর কিছু জানেন না। এদিকে পুলিশ বলছে, তারা কাউকে ধরতে পারছে না। এখন হয় পুলিশ মিথ্যা বলছে, না হয় আসামীর বাবা।"
এদিকে, আলোচিত মামলাটি আজ বনানী থানা থেকে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান।
এর আগে সোমবার এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ঐ কমিটি বুধবার কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল ইসলাম।
প্রায় দেড় মাস আগে একটি হোটেলে আয়োজিত জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। ঘটনা ঘটার প্রায় দেড় মাস পর পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ শুরুতে মামলাটি নিতে চায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।








