টিভি থেকেও তথ্য চুরি করছে সিআইএ: উইকিলিকস

হ্যাকিংয়ের অভিযোগ সত্যি কিনা, তা নিয়ে এখনো কোন মন্তব্য করেনি সিআইএ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হ্যাকিংয়ের অভিযোগ সত্যি কিনা, তা নিয়ে এখনো কোন মন্তব্য করেনি সিআইএ

বিশ্বজুড়ে গোপন তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে দেয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস এবার এমন গোপনীয় সব দলিল ফাঁস করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হ্যাকিং কর্মসূচীর বিস্তারিত উঠে এসেছে।

ফাঁস হওয়া দলিলে দেখা গেছে, অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনসহ উইন্ডোজ ও লিনাক্স অপারেটিং ব্যবস্থার কম্পিউটারগুলোকে লক্ষ্য করে কিভাবে ম্যালওয়্যারসহ নানাবিধ সাইবার আক্রমণ চালিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেয়া হত।

তবে এসব অভিযোগ সত্যি কিনা, তা নিয়ে এখনো কোন মন্তব্য করেনি সিআইএ।

উইকিলিকসের এই দফায় যে সব দলিল পত্র ফাঁস করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে সিআইএর হ্যাকিং কার্যক্রম ছিল ব্যাপক।

মার্কিন এই গোয়েন্দা সংস্থাটি অতি পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত সব প্রযুক্তি পণ্য সমূহকে লক্ষ্য করে ম্যালওয়্যার ছড়াতো। এর মধ্যে কোন কোন হ্যাকিং সফটওয়্যার সিআইএ নিজেই তৈরি করেছে, কিন্তু স্যামসাং টেলিভিশনে হ্যাকিং করবার জন্য একটি স্পাইওয়্যার তৈরিতে ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ সাহায্য করেছে বলেও এতে উল্লেখ হয়েছে।

স্যামসাং টিভির মতো প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে সিআইএ হ্যাকিং করছে: উইকিলিকস

ছবির উৎস, SAMSUNG

ছবির ক্যাপশান, স্যামসাং টিভির মতো প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে সিআইএ হ্যাকিং করছে: উইকিলিকস

ফাঁস হওয়া দলিলে দেখা যায়, স্যামসাংয়ের স্মার্ট টিভি সমূহকে হ্যাক করবার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল সেটির কোড নাম ছিল "উইপিং অ্যাঞ্জেল"।

এখানে উল্লেখ করা হয়েছে ওই টিভিগুলোকে ব্যবহার করে বাড়ির লোকদের কথাবার্তা রেকর্ড করার ব্যবস্থা ছিল, যা পরে ওয়াইফাই ব্যবহার করে সিআইএর দপ্তরে চলে যেত।

আরো পড়তে পারেন:

একই ভাবে আড়ি পাতা হতো স্যামসাং, এইচটিসি ও সনিসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে তৈরি মোবাইল ফোনসহ নানাবিধ প্রযুক্তি পণ্যে। এমনকি তারা অ্যাপলের আইফোন ও আইপ্যাডে আড়িপাতার ব্যবস্থাও করেছিল বলে ফাঁস হওয়া দলিলে জানা যায়।

এর আগে এডওয়ার্ড স্নোডেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর টেলিফোনে আড়িপাতা সংক্রান্ত দলিলপত্র ফাঁস করে দিলে সংস্থাটি বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়ে।

এখন হ্যাকিংয়ের তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় সিআইএকেও এ ধরণের বিব্রতকর পরিস্থিতি মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা।