শিশুদের 'যৌন শিক্ষার বই' নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় বিতর্ক

ছবির উৎস, ফেসবুক
ইন্দোনেশিয়ায় একটি শিশুপাঠ্য বইয়ে 'স্বমেহন বিষয়ে শিক্ষা দেয়া' নিয়ে অনলাইনে অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বইটির নাম 'আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখছি' - এবং এর লেখক ফিতা চাক্রা।
বইটির একটি বিশেষ পৃষ্ঠা ইন্দোনেশিয়ানরা ব্যাপকভাবে অনলাইনে শেয়ার করছেন, যাতে একটি বাচ্চা ছেলেকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সে বলছে, "আমি দু'পায়ের মাঝখানে বালিশ দিয়ে শুই। আনন্দের জন্য আমি আমার শরীর ওপরে-নিচে দোলাই। আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভালো লাগছে।"
আরেক স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, শিশুটি বলছে, "আমি আনন্দের জন্য একটি নতুন খেলা পেয়েছি। কখনো কখনো আমি আমার হাত প্যান্টের ভেতর ঢোকাই। আমি বার বার এটা করছি।"
ইন্দোনেশিয়ার মত মুসলিম-প্রধান দেশে বিশেষ করে অভিভাবক ও সন্তানদের মধ্যে যৌন বিষয়ে কথাবার্তা বলার সামাজিক প্রচলন একেবারেই নেই।
অনেক অভিভাবকই এসব পৃষ্ঠার ছবি অনলাইনে শেয়ার করে যৌনশিক্ষার ব্যাপারে তাদের ক্রোধ প্রকাশ করছেন।

ছবির উৎস, TIGA SERANKAI
ফেসবুকে একজন লিখেছেন, "মায়েরা, বাচ্চাদের জন্য বই কেনার সময় সাবধান হোন। বইতে কি আছে তা যাচাই করে নিন।"
আরেকজন লিখেছেন, এ বই যদি যৌন বিষয়ে শিক্ষার জন্যেই হয়ে থাকে - তাহলে এর বর্ণনা এত বিস্তারিত কেন?
তবে ইন্দোনেশিয়ায় যৌনশিক্ষার গুরুত্ব এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া ঠেকানোর ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ছে। কিন্তু এ সত্বেও ইন্দোনেশিয়ার একটি কমিশন কে পি এ আই বলেছে, এই বইটি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর এবং এতে যৌন অনাচার সৃষ্টি হতে পারে।
তবে এর প্রকাশক টিগা সেরাংকাই বলছেন, শিশু এবং অভিভাবকদের এসব বিষয়ে শিক্ষিত করে তোলার জন্যই এই বই।
এক বিবৃতিতে তারা এও বলেছেন যে তারা বইটি বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন, কারণ কিছু সম্প্রদায় এখনো এর জন্য তৈরি নয়। তবে এখনো অনলাইনে বইটি বিক্রি হচ্ছে।

ছবির উৎস, TIGA SERANKAI
বইটির লেখক ফিতা চাক্রা বলেন, বইটির কিছু অংশ বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরে এর সমালোচনা করা হচ্ছে দেখে তিনি দু:খ পেয়েছেন।
তার মতে, অনেক সময় নিয়ে লেখা এ বইটির মূল লক্ষ্য শিশুদের যৌন নিপীড়ন খেকে রক্ষা করা।
ইন্দোনেশিয়ায় বই নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে একটি বই বেরোয় যারা নাম - 'আমার এখন ডেটিং শেখার সময় হয়েছে'।
তখন এর লেখক টোগে এপ্রিলিয়ানটোর বিরুদ্ধে টিনএজারদের মধ্যে যৌনতা ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।








