বিবিসি বাংলার লাইভ পেজ আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের বিস্তারিত খবরাখবর জানতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
তুরস্কের আন্তালিয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে যে বৈঠক হয়ে গেল তাতে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের সবশেষ খবর।
বিবিসি বাংলার লাইভ পেজ আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের বিস্তারিত খবরাখবর জানতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মেয়র বলছেন, প্রায় ২০ লাখ লোক শহরটি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন – যা রাজধানীর জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।
ভিতালি ক্লিৎসকো বলেন, শহরের প্রতিটি রাস্তা এবং ভবন এখন এক দুর্গে পরিণত হয়েছে।
রুশ বাহিনী এখন শহরটির আরো কাছাকাছি চলে এসেছে, এবং একটি হাইওয়ের নিয়ন্ত্রণ দখলের জন্য ইউক্রেনীয় ও রুশ সৈন্যদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে।
জাতিসংঘ বলছে, ইউক্রেন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালানো লোকের সংখ্যা এখন ২৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ’ থেকে বের হয়ে গেছে রাশিয়া – জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও নেটো দেশগুলো ‘রাশিয়ার প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয়’। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও নেটো দেশগুলোর বিরুদ্ধে তারা এমনও অভিযোগ তুলেছে যে তারা কাউন্সিলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিচ্ছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, এই রাষ্ট্রগুলো ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এবং ইউরোপের সাধারণ মানবাধিকার ও আইনি পরিস্থিতি ধ্বংস করতে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে’।
ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অব ইউরোপ, যারা মহাদেশে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বজায় রাখার উদ্দেশে কাজ করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে এই সংস্থার প্রতিষ্ঠা হয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা বৈধ নয়।
টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নিজেদের জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে এবং রাশিয়া শান্তভাবে তার নিজের সমস্যার সমাধান করবে।
মি পুতিন বলেন, রুশ তেল আমদানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তার সরকার বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলবে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, রুশ সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা ইউক্রেনে থার্মোবারিক রকেট বা ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেছে।
থার্মোবারিক অস্ত্র অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি করে কারণ এটা বাতাস থেকে অক্সিজেন শুষে নেয় – যার ফলে এ অস্ত্র আরো বেশি মারাত্মক।
এই অস্ত্র বেআইনি নয়, তবে এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে।
এর আগে আফগানিস্তান ও ভিয়েতনামে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এ ছাড়াও লন্ডনে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ধারণা করছে যে রাশিয়া ইউক্রেনে সেই একই ভাড়াটে সৈন্যদের ব্যবহার করছে যাদের বিরুদ্ধে সিরিয়া, লিবিয়া ও মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর মারিউপোলে আবার বোমাবর্ষণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।
ওই শহরের কাউন্সিল টেলিগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে বলছে যে রাশিয়ার বাহিনী শহরের কেন্দ্রে বৃষ্টির মতো বোমা ফেলছে।
তারা বলছে আবাসিক এলাকাতেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে।
রুশ সৈন্যরা কয়েকদিন ধরে শহরটি ঘিরে রেখে সেখানে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে সেখানে বিদ্যুৎ, পানি ও খাদ্যের সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেন সরকার বলছে, মানবিক ত্রাণ-সাহায্য নিয়ে গাড়ির একটি বহর মারিউপোল শহরে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আক্রমণের কারণে তারা ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।
তুরস্কের আন্তালিয়া শহরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে শান্তি আলোচনার পর তুর্কী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসলু এই বৈঠকটিকে “গুরুত্বপূর্ণ সূচনা” বলে উল্লেখ করেছেন।
তুরস্কের একটি সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, “মাত্র একটি বৈঠক থেকে অলৌকিক কিছু আশা করা ঠিক নয়।”
২৪শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুটো দেশের মধ্যে এতো উচ্চ পর্যায়ের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
তুর্কী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অনেক অসুবিধা সত্ত্বেও, আমি বলবো একটি ভালো বৈঠক হয়েছে। আমরা মানবিক করিডোর খোলা রাখার ওপর জোর দিয়েছিলাম।”
এই যুদ্ধে তুরস্ক নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চেষ্টা করছে। কারণ দুটো দেশের সঙ্গেই তাদের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
আপনি যদি এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধে সর্বশেষ যা ঘটছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা-জনিত উদ্বেগের বিষয়ে “কেউই আমাদের কথা শোনে না।”
তিনি দাবি করেন, পূর্ব ইউক্রেনে সম্প্রতি যেসব এলাকা “মুক্ত করা হয়েছে” সেসব এলাকায় কিছু “নতুন তথ্য” পাওয়া গেছে যা থেকে বোঝা যায় যে এসব এলাকার ওপর হামলার ব্যাপারে কয়েক মাস ধরেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জীবাণু অস্ত্র তৈরির জন্য পেন্টাগন ইউক্রেনকে ব্যবহার করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এধরনের অভিযোগকে “উদ্ভট” বলে উল্লেখ করেছে।
মি. লাভরভ বলেন, হোয়াইট হাউজের এই অস্বীকৃতিতে “বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই” এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ বলেছে এরকম কিছু হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই কারণ “গভীর গোপনীয়তার” সঙ্গেই আমেরিকা এসব অস্ত্র তৈরি করছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা তুরস্কের আন্তালায়ায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে দুই দেশই ইউক্রেনে উদ্ধুত মানবাধিকার সংকট অবসানে পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে।
মি. কুলেবা বলেছেন: “ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘব এবং রুশ দখলদার বাহিনীর হাত থেকে ইউক্রেনের অঞ্চল স্বাধীন করার প্রয়াসে এই আলোচনা চালিয়ে যেতে আমি প্রস্তুত”।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসি’র রুশ মালিক রোমান আব্রামোভিচের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
যেই সাতজন রুশ অলিগার্কের সম্পত্তি জব্দ করে দেয়া হয়েছে, তাদের একজন রোমান আব্রামোভিচ।
অনলাইনে পোস্ট করা যুক্তরাজ্যের কোষাগারের এক নথিতে উঠে আসে যে, আব্রামোভিচ একজব ‘ক্রেমলিন পন্থী অলিগার্ক’, যার সাথে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
পুতিন অথবা ক্রেমলিনের সাথে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার অভিযোগ এর আগে অস্বীকার করেছেন মি. আব্রামোভিচ।
তুরস্কে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভ।
রুশ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যুদ্ধের অগ্রগতি কী – এই প্রশ্নের জবাবে মি. লাভরভ বলেন যে এটি একটি ‘বিশেষ অভিযান’ যা ‘সার্বিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে’।
পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে লাভরভ অভিযোগ করেছে যে তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে ‘বিপজ্জনক আচরণ’ করছে। তিনি বলেছেন এটি ‘তাদের তথাকথিত নীতি ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধে’।
রাশিয়ার অন্য কোন দেশে আক্রমণ করার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা – এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করেনি।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভের সাথে বৈঠকের পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেছেন যে, এই মুহুর্তে দু’টি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে হবে। একটি হলো মারিউপোলে মানবিক করিডোর স্থাপন করা এবং চব্বিশ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভ ক্রেমলিনে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দেবেন, যেন মারিউপোলে মানবিক করিডোর স্থাপনের জন্য কাজ শুরু করা হয়।
তিনি আরো বলেন এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া সম্ভব নয় যদি রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার উদ্দেশ্য না থাকে।
রুশ বাহিনীর দখলে থাকা শহরগুলো থেকে বেসামরিক নাগরিকরা যেন বের হয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে সাতটি ‘মানবিক করিডোর’ শুরু করছে ইউক্রেন, জানিয়েছেন ইউক্রেনের উপ প্রধানমন্ত্রী ইরইয়ানা ভেরেশ্চুক।
মানবিক করিডোর এমন অঞ্চল, যেখানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দিতে সাময়িকভাবে সেনা কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের শহর সুমি’র আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন যে শহর ছাড়তে চাওয়া মানুষ এরই মধ্যে ঐ অঞ্চল ছেড়ে বের হতে শুরু করেছেন এবং সেখানে স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিরতি চলছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়া দু্ই দেশই মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে রাজি হয়েছে।
ইউক্রেনের সাথে সংঘাত চলমান থাকলে রাশিয়ায় ব্র্যান্ডগুলো থাকা ‘খুবই কঠিন’ হয়ে পড়বে – বলছেন বিজ্ঞাপণ নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা বিশেষজ্ঞ স্যার মার্টিন সোরেল।
ম্যাকডোনাল্ডস, কোকা কোলা এবং স্টারবাকসের মত ব্র্যান্ডগুলো গত সপ্তাহে রাশিয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
লন্ডন ভিত্তিক বিজ্ঞাপণ সংস্থা এসফোর ক্যাপিটালের সাবেক প্রধান নির্বাহী স্যার মার্টিন সোরেল বিবিসি রেডিও ফোর’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন: “আমার মনে হয় ইউক্রেনে যেরকম সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ আমরা দেখছি, সেই হিসেব করলে ব্র্যান্ডগুলোর জন্য রাশিয়ায় থাকা বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।”
জাতিসংঘের ৮ই মার্চ পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী ইউক্রেনের শরণার্থীরা যেসব দেশে গিয়েছেন:
পোল্যান্ড – ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৯০৩
হাঙ্গেরি – ২ লাখ ৩ হাজার ২২২
স্লোভাকিয়া – ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০৩
রাশিয়া – ৯৯ হাজার ৩০০
রোমানিয়া – ৮৫ হাজার ৪৪৪
মলদোভা – ৮২ হাজার ৭৬২
বেলারুস – ৫৯২
এছাড়া জাতিসংঘের বলছে ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ ইউরোপের অন্যান্য দেশে গেছেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার ইউক্রেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভ ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা এই মুহুর্তে তুরস্কের আন্তালায়ায় বৈঠক করছেন।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের দখল হয়ে যাওয়া শহর মারিউপোলের ডেপুটি মেয়র বিবিসিকে জানিয়েছেন যে বুধবার রুশ বাহিনী যে মাতৃত্বকালীন ও শিশু হাসপাতালে বোমা হামলা করেছিল, সেখানে এক শিশু সহ তিনজন মারা গেছেন।
ঐ হামলায় অন্তত সতের জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গর্ভবতী নারীও ছিলেন।
ডেপুটি মেয়র সার্গেই অরলভ বিবিসিকে বলেন, “আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে তারা এই হাসপাতালের বিষয়ে জানতো। এই শহরে এ নিয়ে তৃতীয় হাসপাতাল ধ্বংস করলো তারা।”
তিনি বলেন, আগের দিন ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি কোভিড হাসপাতাল ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করে তারা।
ইউক্রেনে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে আলাদা আলাদাভাবে অন্তত ১৮টি হামলা হয়েছে বলে বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
পুরো অভিযানের সময় জুড়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন রুশ অথবা রুশ সমর্থক জোটের বক্তব্য প্রচারের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
বিবিসি’র চীন গণমাধ্যম বিশ্লেষক কেরি অ্যালেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনের গণমাধ্যমে ইউক্রেন বিষয়ক খবরাখবরে রুশপন্থী বক্তব্য গুরুত্বের সাথে জায়গা পায়।
মারিউপোলে শিশু ও মাতৃসদন হাসপাতালে বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।
ইউক্রেন অভিযোগ করেছে যে, যখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল সেসময় রাশিয়া হাসপাতালে বোমা হামলা করেছে।
ঐ হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।