রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের লাইভ খবরাখবর আজকের মত এখানে শেষ করছি আমি শাকিল আনোয়ার। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া সমাধান হবেনা: দাবিতে অনড় পুতিন
ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে বেলারুশে এক বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, ফরাসী প্রেসিডেন্ট ম্যাক্র তাকে ফোন করলে প্রেসিডেন্ট পুতিন আবারো বলেছেন ইউক্রেনের 'নিরস্ত্রীকরণ' এবং 'নিরপেক্ষ' রাষ্ট্র হিসাবে থাকার নিশ্চয়তা ছাড়া বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়।
সরাসরি কভারেজ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ:
-যুদ্ধ বিরতির লক্ষ্যে বেলারুশে তাদের এক আলোচনা শেষ করেছে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল। বোঝাপড়া নিয়ে কিছু জানা যায়নি।
-ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রর সাথে সোমবার এক টেলিফোন আলাপের পর এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন বলেছে নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়ার ‘বৈধ’ উদ্বেগ বিবেচনায় নিলেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান সম্ভব।
-ইউক্রেনে ভারতীয় অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন সীমান্ত পেরোতে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মারধরও করা হয়েছে
-ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের শাস্তি হিসাবে রাশিয়া এবং বেলারুশকে খেলাধুলোর সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বা আইওসি। খেলাধুলোর বিষয়ক সমস্ত ফেডারেশনের কাছে এ ব্যাপারে আইওসির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।
- ইউএনএইচসিআর হিসাব দিয়েছে এখন পর্যন্ত চার লাখ ২২ হাজার মানুষ ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনা শেষ
যুদ্ধ বিরতির লক্ষ্যে বেলারুশে তাদের এক আলোচনা শেষ করেছে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল।
দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগে দুই দেশের কর্মকর্তারা শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পরামর্শের জন্য নিজ নিজ রাজধানীতে ফিরে যাচ্ছেন বলে বেলারুশের সংবাদ সংস্থা বেলটাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এ বৈঠক থেকে বড় কোনো অর্জনের আশা কোনো পক্ষেরই তেমন ছিলনা।
ইউক্রেন দাবি করেছে এখনই যুদ্ধ বন্ধ করে রুশ সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যদিকে ক্রেমলিন বলেছে এমন সমাধান হতে হবে যাতে দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হয়।
ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া আপোষ-সমাধান হবেনা: দাবিতে অনড় পুতিন
ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রর সাথে সোমবার এক টেলিফোন আলাপের পর এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন বলেছে নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়ার ‘বৈধ’ উদ্বেগ বিবেচনায় নিলেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান সম্ভব।
ফরাসী প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে মি ম্যাক্র প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করে ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেন। তিনি ইউক্রেনে সমস্ত হামলা, বিশেষ করে বেসামরিক লোকজন, সড়ক এবং অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
ফরাসী বিবৃতিতে বলা হয় যে মি ম্যাক্রর অনুরোধ রাখতে তার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।
কিন্তু ঐ টেলিফোন আলাপের পর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি প্রকাশ করা হয় তাতে স্পষ্ট যে যেসব যুক্তি এবং দাবিতে ইউক্রেনের হামলার নির্দেশ মি পুতিন দিয়েছিলেন তা থেকে তার একচুল নড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
পশ্চিমাদের কাছ থেকে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞায় তিনি যে কোনো চাপ বোধ করছেন তার কোনো লক্ষণ অন্তত ঐ বিবৃতিতে পাওয়া যায়নি।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয় যে মি পুতিন ফরাসী প্রেসিডেন্টকে বলেছেন “বোঝাপড়া একমাত্র সম্ভব যদি নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়ার বৈধ উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া হয়।“
রুশ বিবৃতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন “ক্রাইমিয়ার ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্ত্ব মেনে নিতে হবে, ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ এবং নাৎসীমুক্তকরণের সমাধান হতে হবে, এবং ইউক্রেন যেন একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র থাকে তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।“
ফরাসীদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে সংঘাত যাতে আয়ত্তের বাইরে না চলে যায় তার জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাক্র প্রেসিডেন্ট পুতিনকে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন।
ইউক্রেনে ভারতীয় অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন সীমান্ত পেরোতে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মারধরও করা হয়েছে। পড়তে ক্লিক করুন
ইউক্রেনে বিদেশী সামরিক সরঞ্জাম কীভাবে ঢুকছে?
ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে বিবিসির মার্ক লোয়েন জানাচ্ছেন আমেরিকা সহ পশ্চিমা দেশগুলো থেকে পাঠানো অস্ত্র-গোলাবারুদ ইউক্রেনে যাচ্ছে পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে, বিশেষ করে পোল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে।
পোল্যান্ড এ ব্যাপারে অগ্রণী হয়ে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছে।
আমেরিকা, কানাডার মত দূরের দেশ ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে সামরিক পরিবহন বিমানগুলো পোল্যান্ডে আসছে। তারপর সড়কপথে সেগুলো ইউক্রেন সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ট্রেনে করেও ইউক্রেনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম পোল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে। যেমন, চেক রিপাবলিক অস্ত্র সাহায্য পাঠিয়েছে ট্রেনে করে।
ইউক্রেনের আকাশসীমা সমস্ত বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে।
সমস্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছে রাশিয়া, বেলারুশ
ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের শাস্তি হিসাবে রাশিয়া এবং বেলারুশকে খেলাধুলোর সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বা আইওসি।
খেলাধুলোর বিষয়ক সমস্ত ফেডারেশনের কাছে এ ব্যাপারে আইওসির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।
আইওসি কার্যনির্বাহী বোর্ড সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে যেসব ক্ষেত্রে ঐ দুই দেশের অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ কোনোভাবেই বন্ধ করা সম্ভব হবেনা, সেখানে তারা যেন অন্তত রাশিয়া বা বেলারুশের নামে অংশ না নিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।
“কোনো জাতীয় প্রতীক, রং, পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীত প্রদর্শন করা যাবেনা,” বিবৃতিতে বলা হয়।
আজ এখন পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন লড়াই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেসব খবর পাওয়া গেছে :
- ইউক্রেনে রুশ সৈন্য ঢোকার পঞ্চম দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিদল যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে বেলারুশের একটি সীমান্ত শহরে আলোচনা শুরু করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বলা হয়েছে তারা এই মুহূর্তে যুদ্ধ বিরতি এবং রুশ সৈন্য প্রত্যাহার চায়।
-শান্তি বৈঠকে রুশ প্রতিনিধিদলের প্রধান প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি বলছেন মস্কো এমন একটি বোঝাপড়া চায় যা দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে।
- ইউএনএইচসিআর হিসাব দিয়েছে এখন পর্যন্ত চার লাখ ২২ হাজার মানুষ ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে।
-ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যেলেনস্কি বলেছেন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আছে এমন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাশিয়ার সাথে লড়াইতে ইউক্রেনকে রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রুশ সৈন্যদের অস্ত্র ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। রুশ সেনাদের উদ্দেশ্য করে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন:”কম্যান্ডারদের কথায় কান দিওনা। অস্ত্র রেখে প্রাণ বাঁচাতে দেশে ফিরে যাও।“
কারাগার থেকে দাগি আসামী ছেড়ে দেবে ইউক্রেন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যেলেনস্কি বলেছেন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আছে এমন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাশিয়ার সাথে লড়াইতে ইউক্রেনকে রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
“নৈতিকতার বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত সহজ নয়। কিন্তু প্রতিরক্ষার জন্য এটি কাজে লাগবে।“
ভিডিওতে এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রুশ সৈন্যদের অস্ত্র ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
রুশ সৈন্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “অস্ত্র ত্যাগ করো। এদেশে থেকে চলে যাও। তোমাদের কম্যান্ডারদের বিশ্বাস করোনা। প্রোপাগান্ডা বিশ্বাস করোনা। নিজের জীবন বাঁচাও।“
ইউক্রেনকে দ্রুত সদস্য করে নেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট যেলেনস্কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রায় ৪২২,০০০ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে - জাতিসংঘ
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা বলেছে তারা ইউক্রেনে লোকদের ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়ার খবর পাচ্ছে।
একজন মুখপাত্র টুইট করেছেন যে ইউএনএইচসিআর এ ধরনের খবর খতিয়ে দেখছে।
ইউএনএইচসিআর হিসাব দিয়েছে এখন পর্যন্ত চার লাখ ২২ হাজার মানুষ ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে।
মুখপাত্র বলেছেন যে, ইউএনএইচসিআর "ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা এই লোকদের শরণার্থী হিসাবে বিবেচনা করে"।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: পুতিনের পারমাণবিক সতর্কাবস্থা কী বার্তা দিচ্ছে?
রাশিয়া ইউক্রেন শান্তি আলোচনা শুরু
ইউক্রেনে রুশ সৈন্য ঢোকার পঞ্চম দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিদল যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বলা হয়েছে তারা এই মুহূর্তে যুদ্ধ বিরতি এবং রুশ সৈন্য প্রত্যাহার চায়।
অন্যদিকে রুশ প্রতিনিধিদলের প্রধান প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি বলছেন মস্কো এমন একটি বোঝাপড়া চায় যা দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে।
বৈঠক শুরু আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যেলেনস্কি রুশ সৈন্যদের অস্ত্র নামিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি ইউক্রেনকে দ্রুত সদস্যপদ দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি অনুরোধ করেছেন।
এখনকার মতো বিবিসি বাংলার লাইভ পাতা থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি মুন্নী আক্তার। ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাতের সবশেষ আপডেট জানাতে যুক্ত হচ্ছেন শাকিল আনোয়ার।
রাশিয়ার সাথে আলোচনার জন্য় বেলারুশ সীমান্তে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা
কিয়েভ থেকে বিবিসির আবদুজালিল আব্দুরাসুলভ বলছেন, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, তাদের প্রতিনিধিদল রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনা করতে ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তে পৌঁছেছে।
তারা বলেছেন তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয় একটি যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে সৈন্য প্রত্যাহার।
এর আগে জানা যায় যে, লজিস্টিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আলোচনা পেছানো হয়েছে।
রোববার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন তিনি এই আলোচনা থেকে কোন অগ্রগতি আশা করেন না।
তবে একইসাথে তিনি বলেন খুব ছোট হলেও তাদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিৎ যাতে কেউ ইউক্রেনকে যুদ্ধ বন্ধ করার চেষ্টা না করার জন্য দোষ দিতে না পারে।
ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখলের রুশ দাবি প্রত্যাখ্যান ইউক্রেনের
রুশ সেনারা ইউরোপের বৃহত্তম যেপোরযিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করেছে বলে রাশিয়া যে দাবি করেছিল ইউক্রেনের কর্মকর্তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্র-চালিত পারমাণবিক কোম্পানি এনারগোটম, সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেছে যে, মস্কোর এই ধরনের দাবি "সম্পূর্ণ মিথ্যা"।
এর আগে সোমবার রাশিয়া বলেছিল যে, তাদের সৈন্যরা কেন্দ্রটি দখল করেছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ এক বিবৃতিতে বলেছেন: "রাশিয়ান সেনারা যেপোরযিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশের এলাকা সম্পূর্ণভাবে পাহারা দিচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ করছে।"
তিনি আরো বলেন কর্মীরা কেন্দ্রটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে এবং তেজস্ক্রিয়তা স্বাভাবিক মাত্রায় রয়েছে।
ছবিতে: দুই দিনের কারফিউ শেষে কিয়েভের কিছু দৃশ্য
ইউক্রেনের রাজধানী থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে রাশিয়ার সৈন্যরা অগ্রসর হওয়ায় কিয়েভে দুই দিনের কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শহরের সুপারমার্কেটগুলি আবার খোলা হয়েছে এবং অনেক মানুষ বাইরে বের হয়েছে। রুশ বাহিনী শহরটিতে বোমাবর্ষণের কারণে গত দুই দিনের বেশিরভাগ সময় ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে কাটিয়েছে কিয়েভবাসী।
রাশিয়ার গোলাবারুদ এবং রকেট রাজধানীর আবাসিক এলাকায় আঘাত করেছে এবং অনেক লোক সরকারী পরামর্শ অনুসরণ করে পাতাল রেল স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছে।
ইউক্রেনে হামলার পঞ্চম দিনে এখন পর্যন্ত যা যা হলো:
আপনি যদি মাত্র আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে থাকেন তাহলে ইউক্রেন সম্পর্কে আপডেটগুলো জেনে নিতে পারেন এখানে:
* রুশ সৈন্যরা রাজধানী থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও, কিয়েভ ইউক্রেনের হাতেই রয়েছে এবং শহরে দুই দিনের কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে
·উত্তর-পূর্বের চেরনিহিভ শহরে রাতভর রাশিয়ার সেনারা ভারী গোলাবর্ষণ করেছে কিন্তু এটি এখনো ইউক্রেনের হাতে রয়েছে
·রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে যে, ইউক্রেনে আক্রমণের সময় তাদের বাহিনী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যদিও কয়েকদিন ধরে তারা দাবি করেছে যে তাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
·কিয়েভ এবং মস্কোর প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনার জন্য বেলারুশে যাচ্ছেন, যদিও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন, তিনি আশা করেন না যে আলোচনা থেকে কোন ফলাফল আসবে।
·এদিকে, রাতে বেশ কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বেলোরুশের স্বৈরশাসক আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো তার কিছু সৈন্যকে রুশ আক্রমণে যোগ দেওয়ার জন্য মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
·অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থনীতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মস্কোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি করেছে এবং বিদেশীদের কাছে থাকা সিকিউরিটি বিক্রি করা থেকে দালালদের নিষেধ করেছে।
·এবং যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক ব্রিটিশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশের অন্য সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের সাথে লেনদেন করতে নিষেধ করেছে।
রাশিয়ার পারমাণবিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি- যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘোষণা করেছেন যে তার পারমাণবিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তার একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে এবং একই সাথে এটি ইউক্রেনে সংগঠিত বাজে পরিস্থিত থেকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও বটে।
বেন ওয়ালেস বিবিসি ব্রেকফাস্টকে বলেন, পুতিনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
"তিনি এই সত্যটি ভুলে যেতে পারবেন না যে এই মুহূর্তে তার একমাত্র সেরা বন্ধু বেলারুশের প্রেসিডেন্ট বলেই মনে হচ্ছে... তাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে তিনি অবশ্যই এখানে ইতিহাসের ভুল পক্ষকে সমর্থন করছেন"।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য রাশিয়ার পারমাণবিক ভঙ্গিতে পরিবর্তনের মতো কিছু দেখছে না।
তিনি বলেছেন, ব্রিটেনও একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং পুতিন জেনে রাখবেন যে, পারমানবিক অস্ত্র সম্পর্কিত কিছু ঘটলে পশ্চিমাদের দিক থেকেও সমপরিমাণ কিংবা কঠোর জবাব মিলবে।
বেন ওয়ালেস বলেন, পারমাণবিক পরিস্থিতি উস্কে দিতে যুক্তরাজ্য কিছু করবে না। তবে "এটি একটি বাক-যুদ্ধ এবং এটি যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয় সেটি আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে"।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়েছে
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে যে, এটি রুবলের মূল্যহ্র্রাস এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবেলায় মূল সুদের হার সাড়ে নয় শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করেছে। কারণ কর্মকর্তারা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক পতন ঠেকাতে দৌড়ঝাঁপ করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, মস্কো কোম্পানিগুলোকে তাদের বৈদেশিক মুদ্রায় আয়ের ৮০ শতাংশ বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিবৃতিতে বলেছে, "রাশিয়ার অর্থনীতির বাহ্যিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।"