রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের সরাসরি রিপোর্টিং আজকের মত শেষ করছি শাকিল আনোয়ার। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রুশ সৈন্যরা কিয়েভের প্রান্তে; ইউক্রেনের সেনাঘাঁটি, বিমানবন্দরে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা
রুশ প্যারাট্রুপাররা রাজধানী কিয়েভের প্রান্তে ইউক্রেনের একটি বিমান ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন লড়াইতে রাশিয়ার অনেক ক্ষয়ক্ষতি প্রাণহানি হচ্ছে যদিও নিরপেক্ষভাবে তা যাচাই করা যায়নি।
সরাসরি কভারেজ
ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর সারাদিন যা ঘটেছে তা এক নজরে :
-রুশ প্যারাট্রুপাররা রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পর রুশ ও ইউক্রেন সৈন্যদের লড়াই চলছে।
- বিমানঘাঁটি পুনঃনিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার অঙ্গিকার করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
-পূর্বের বন্দর শহর মারিয়োপালে ব্যাপক গোলাবর্ষণ হচ্ছে।
-চেরনোবিল নামে যে শহরে পারমানবিক দুর্ঘটনা হয়েছিল সেখানে তুমুল লড়াই চলছে।
-ইউক্রেনে প্রতিবেশী মলদোভা এবং রুমানিয়ায় ইউক্রেন হাজার হাজার লোক ঢুকেছে।
-রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাবরভ বলেছেন রাশিয়া এখনো সংলাপের জন্য প্রস্তুত
রুশ সৈন্যরা রাজধানী কিয়েভের প্রান্তে
ইউক্রেনের রাজধানী থেকে বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডামস জানাচ্ছেন রুশ সৈন্যরা রাজধানী কিয়েভ থেকে ২০ মাইল দূরে আন্তোনভ বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে সকাল থেকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিমান ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকা থেকে করা মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক সিএনএনের লাইভ রিপোটিং চলার সময় রুশ প্যারাট্রুপারদের চোখে পড়ছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন যারা যা ধারনা করেছিলেন রুশ সৈন্যরা তা চেয়ে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
রাশিয়া এখন কী করবে?
পল অ্যাডামস বলছেন কিয়েভের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এখন রুশ প্যারাট্রুপাররা হয়ত অগ্রসরমান রুশ সাঁজোয়া বাহিনীর জন্য অপেক্ষা করবে নতুবা ঐ ঘাঁটি থেকে নিজেরাই কিয়েভের ওপর হামলা শুরু করবে। ব্যাপারটি যে কোনো সময় ঘটতে পারে।
কিয়েভে এখন কারফিউ। রুশ বিমান হামলার ভয়ে মাঝে মধ্যে সাইরেন বাজছে। মানুষজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে। অনেকে পাতাল রেল স্টেশনগুলোতে গিয়ে বসে আছেন।
সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ কিয়েভ ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন।
রাশিয়া আলোচনার জন্য সবসময় প্রস্তুত: সের্গেই লাবরভ
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাবরভ বলেছেন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালালেও রাশিয়া সবসময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
“দুঃখের বিষয় এই যে আমাদের পশ্চিমা বন্ধুরা আন্তর্জাতিক আইনকে মর্যাদা দেননা। বরঞ্চ তারা তাকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করছেন এবং তাদের গড়া ‘আইন-ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নে চেষ্টা করে চলেছেন,” রুশ সরকারি সংবাদ সংস্থাই আইআরএকে বলেছেন মি লাবরভ।
“আমেরিকান সহকর্মীদের সাথে আমাদের বিস্তারিত কথা হয়েছে। নেটো সদস্যদের সাথেও কথা বলেছি,” তিনি বলেন।
মি লাবরভ বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব অনুসরণের পথ এখনো খোলা রয়েছে।
মি লাবরভ বলেন “ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘ চার্টারের মূল নীতিতে ফেরার জন্য যে কোনো আলোচনায় বসার জন্য রাশিয়া সবসময় প্রস্তুত থাকবে।“
রুশ সেনা অভিযান শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর থেকে সাংবাদিকরা ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের সচক্ষে দেখা ঘটনা এবং ছবি-ভিডিও পাঠাতে শুরু করেছেন।
এরকম এক ভিডিও ফুটেজে পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের কাছে চুগুয়েভ সামরিক বিমান ঘাঁটিতে আগুন ও কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে।
সূত্র অজানা হলেও ফুটেজের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।
ইউক্রেন কমপক্ষে ৪০ সৈন্যের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে
ইউক্রেন বলছে তাদের অন্তত ৪০জন সৈন্য মারা গেছে, এবং তিরিশ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ মারাগেছে।
এরমধ্যে ওডেসা বন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮ জন মারা গেছে বলে বলা হচ্ছে।
পাশাপাশি, ইউক্রেন সেনাবাহিনী দাবি করেছে তারা প্রায় ৫০জন রুশ 'দখলদারকে' গুলি করে হত্যা করেছে এবং ছয়টি রুশ বিমান গুলি করে নামিয়েছে, যদিও নিরপেক্ষভাবে এ দাবি যাচাই করা যায়নি।
রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপরহামলা চালিয়েছে।
পশ্চিম ইউক্রেনের একটি বিমানবন্দরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সত্যতা বিবিসি যাচাই করতে পেরেছে।এর আগে মস্কো বলেছিল তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুএ বং কয়েকটি বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে কিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির পশ্চিমে ইভানো-ফ্র্যাকিভস্ক বিমানবন্দর।
পূর্ব ইউক্রেনেও তুমুল লড়াই হচ্ছে বলে খবর আসছে। দেশটির দ্বিতীয় বড় শহর খারকিভের বাসিন্দারা বলছেন দুই পক্ষের মধ্যে গোলাবিনিময় এবং অনবরত বিস্ফোরণে তাদের ভবনের জানলাগুলো কাঁপছে।
ইউক্রেনের মারিয়োপোলে যুদ্ধের আতঙ্কের কথা বলছেন শহরের এক বাংলাদেশি বাসিন্দা
ইউক্রেনের সময় ভোর পাঁচটায় বিকট একটা বোমার শব্দে ঘুম ভাঙে মারিয়োপোল শহরে বাংলাদেশি ছাত্র আহমেদ ফাতেমি রুমির। শহরের বিভিন্ন দিক থেকে আনুমানিক আটটি বা দশটি হামলা হয়েছে বলে তারা শুনছেন।
মাত্র দুমাস আগে বাংলাদেশ থেকে সেখানে মারিয়োপোল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি পড়তে গেছেন রুমি।
তারা ভয়ের মধ্যে আছেন বলে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানিয়েছেন।
“ইউক্রেন সরকার আইন জারি করে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। ফলে ইচ্ছা করলেও আমি এখান থেকে মুভ করতে পারছি না,” বলছিলেন আহমেদ ফাতেমি রুমি।
বাজার দোকান, শপিং মল আর ব্যাংকে মানুষের প্রচুর ভিড় এবং আতঙ্কিত মানুষ মজুত করার জন্য শুকনো খাবার কিনতে শুরু করেছে বলে তিনি জানান। তবে রাস্তাঘাটে অন্য সময়ের তুলনায় মানুষ অনেক কম বলে তিনি জানাচ্ছেন।
“প্রতিটা এটিএম বুথের সামনে কম করে হলেও ৬০ থেকে ১০০ জন মানুষ লাইন দিয়ে আছে এবং টাকা তুলছে।”
আহমেদ ফাতেমি রুমি জানাচ্ছেন তার বিশ্ববিদ্যালয় সকাল ১০টার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তিনি মারিয়োপোল ছেড়ে নিরাপদ কোন শহরে যাবার জন্য রেল স্টেশন ও বাস স্টপে দৌড়াদৌড়ি করছেন সকাল থেকে। কিন্তু শহর ছাড়তে তিনি এখনও সফল হননি বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দশ থেকে বারো জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে বলে তিনি জানান।
ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ইউক্রেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডে ঢোকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোলকে মন্ত্রী বলেন পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসতে বাংলাদেশের দূতাবাস ইউক্রেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সাথে যোগাযোগ রাখছে।
“দূতাবাসের পক্ষ থেকে হোয়াটঅ্যাপে গ্রুপ করে গতকাল প্রায় তিনশর মতো বাংলাদেশির সাথে বৈঠক করা হয়েছে। ইউক্রেনে থেকে বাংলাদেশিদের পোল্যান্ডে নিয়ে এসে আপাতত আশ্রয় দিতে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। সেখানে থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।“
মি আলম জানান ইউক্রেনে বসবাসরত বিদেশীদের ১৫ দিনের জন্য সাময়িক ট্রানজিট ভিসা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোল্যান্ড।
“আজ বা কালকের মধ্যে পোল্যান্ড তাদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে বলে আশা করছি। তারপর বাংলাদেশিরা পোল্যান্ডে ঢুকতে পারবেন। “
তিনি জানান, ওয়ারসতে বাংলাদেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনে হাজার খানেক বাংলাদেশি রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় সংলাপ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের নীতিতে বিশ্বাসী।
“দুঃখজনকভাবে পরিস্থিতি গুরুতর রূপ নিয়েছে। শান্তির পথে যেসব সমস্যা রয়েছে আলোচনার মাধ্যমে তার সুরাহা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সেই সংলাপের পথে যাওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।“
এই যুদ্ধ বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে শাহরিয়ার আলম বলেন সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডের লেইন বলেছেন আজই ইউরোপিয়ান নেতাদের কাছে 'ব্যাপক এবং সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ' এর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
মিজ ফন ডের লেইন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মি পুতিন ইউরোপে যুদ্ধ ফিরিয়ে এনেছেন।
ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়ার পর সাত বছরে প্রথমবারের মত ব্যারেল প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
কয়েকদিন আগে মি. পুতিন শান্তি চুক্তি বাতিল করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী-অধ্যুষিত এলাকায় সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়ার পর তেলের দাম ৯৮ ডলার হয়েছিল।
এই সংঘাতের খবরে সমস্ত শেয়ার বাজারে দরপতন হয়েছে। ইউরোপের সব বড় বড় স্টক মার্কেটে দিনের শুরুতেই দাম আড়াই থেকে চার শতাংশ পড়ে যায়।
অন্যদিকে মার্কিন ডলার, সুইস ফ্রাঁ এবং সোনার দাম বেড়ে গেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান সঙ্কট নিয়ে এতক্ষণ বিবিসি বাংলা'র লাইভ পেইজ পরিচালনা করছিলেন নাগিব বাহার। এখন সরাসরি রিপোর্টিং করছেন শাকিল আনোয়ার।
রাশিয়ার আক্রমণ বিভিন্ন দিক থেকে আসছে
কিয়েভে বিবিসি'র কূটনৈতিক প্রতিবেদক পল অ্যাডামস জানাচ্ছেন, রুশ বাহিনী কয়েকটি দিক থেকে ইউক্রেনে ঢুকে পড়েছে।
ইউক্রেন বলছে রুশ সেনাবাহিনীর যানবাহন উত্তরে বেলারুশ ও দক্ষিণে ক্রাইমিয়া ছাড়াও বেশ কয়েকটি অংশ দিয়ে ইউক্রেনে প্রবেশ করেছে।
এছাড়া পূর্বাঞ্চলে খারকিভ এবং লুহানস্ক অঞ্চল দিয়ে রুশ বাহিনী প্রবেশ করেছে।
দশ দিন আগে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের এক মূল্যায়ণে উঠে আসে যে কিয়েভ শহরে উত্তর দিক থেকে আক্রমণ চালাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ডনবাসের কাছে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী সেনা ঘাঁটিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ধারণা করা যাচ্ছে যে সব দিক থেকেই হামলা পরিচালিত হচ্ছে।
ব্রেকিং, রাশিয়ার বোমা হামলায় সাত জনের মৃত্যু: ইউক্রেন পুলিশ
রাশিয়ান বাহিনীর বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজন মারা গেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের পুলিশ।
কর্মকর্তারা বলছেন ওদেসার বাইরে পোডিলস্ক শহরের একটি সেনা ঘাঁটিতে হওয়া হামলায় ছয়জন মারা গেছেন এবং সাতজন আহত হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশ আরো জানিয়েছে যে মারিউপল শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ব্রেকিং, সীমান্ত পার করেছে রুশ সেনা বহর: ইউক্রেনের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী
রুশ সেনাবাহিনীর বহর ইউক্রেনের উত্তরে চেরনিহিভ ও সুমি অঞ্চল দিয়ে এবং পূর্বাঞ্চলে লুহানস্ক ও খারকিভ অঞ্চল দিয়ে দেশটির ভেতরে প্রবেশ করেছে বলে জানাচ্ছে ইউক্রেনের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী, ডিপিএসইউ।
ডিপিএসইউ বলছে, কামানের গোলা চালানোর পর রুশ সেনাবাহিনী সীমান্তের ভেতরে আগ্রাসন শুরু করে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী ও সশস্ত্র বাহিনী ‘শত্রুকে প্রতিহত করতে সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
'আমরা সবাইকে প্রতিহত করবো'
বৃহস্পতিবার সকালে টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান যে পুরো ইউক্রেনে সামরিক শাসন জারি করা হচ্ছে।
পাঁচটি রুশ বিমান ভূপাতিত: ইউক্রেনের সেনাবাহিনী
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে তারা পাঁচটি রুশ বিমান ও একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “শান্ত থাকুন ও ইউক্রেনের রক্ষকদের ওপর বিশ্বাস রাখুন।”
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে।
ছবিতে কিয়েভের সবশেষ পরিস্থিতি
ঘণ্টা দুয়েক আগে মি. পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযানের ঘোষণা দেন।
তার কিছুক্ষণ পরেই কিয়েভের আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনগুলোতে শহরের মানুষ আশ্রয় নিতে জড়ো হয়।
অনেকে বাসে করে শহর ছেড়ে যেতে উদ্যত হন।
এছাড়া মহাসড়কে শহর ছাড়তে চাওয়া গাড়ির লম্বা লাইনও দেখা গেছে।
বেলারুশ থেকে সেনা আগ্রাসন হচ্ছে: ইউক্রেন
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে যে প্রতিবেশী দেশ বেলারুশের সেনারাও রাশিয়ার সেনাদের সাথে অভিযানে যোগ দিচ্ছে, অর্থাৎ ইউক্রেনের উত্তর দিক থেকেও এখন আক্রমণ হচ্ছে।
বেলারুশ দীর্ঘদিন যাবত রাশিয়ার মিত্র। বিশ্লেষকরা এই ছোট দেশকে রাশিয়ার ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা মক্কেল রাষ্ট্র হিসেবে বলে থাকেন।
রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছে কিয়েভের বাসিন্দারা
মস্কোর স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন।
এর কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা এবং মিসাইল হামলা শুরু হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে জরুরি সাইরেন বাজানো হয় এবংবিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় যে মহাসড়কগুলোতে শহর ছেড়ে যেতে চাওয়া মানুষের গাড়ির ভিড়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই আতঙ্ক প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন যে তারা বোমা থেকে সুরক্ষা পেতে আশ্রয় কেন্দ্র এবং বেজমেন্টে আশ্রয় নিচ্ছেন।
কিয়েভে বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিক লুক হার্ডিং টুইট করেছেন যে রাস্তায় অপেক্ষাকৃত কম মানুষ দেখা যাচ্ছে এবং মানুষকে ক্যাশ মেশিনগুলোতে লাইন দিতে দেখা যাচ্ছে।
বিমানবাহিনী রুশ বিমান হামলা প্রতিহত করছে: ইউক্রেনের সেনাবাহিনী
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী ইউক্রেনের পূর্বে ‘তীব্র বোমা হামলা’ শুরু করেছে।
ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে যে কিয়েভের কাছে বরিস্পিল বিমানবন্দরসহ একাধিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
রুশ বিমান হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী লড়াই করছে বলে বলা হয়েছে ঐ বিবৃতিতে।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর নগরী ওদেসায় রুশ প্যারাট্রুপার নামার খবর অস্বীকার করা হয়েছে ঐ বিবৃতিতে।