আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

লাইভ, ২৭৪ আফগান সেনা নিহত, দাবি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

আবারো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এদিকে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় এখনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কথা জানা যাচ্ছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

সরাসরি কভারেজ

  1. ২৭৪ আফগান সেনা নিহত, দাবি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

    আফগান তালেবানদের সাথে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত, ২৭ জন আহত এবং একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

    শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

    এছাড়া এই সংঘাতে ২৭৪ জন তালেবান সেনা নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ বলেন, আফগান তালেবানরা পাকিস্তানের ১৫টি সেক্টরের ৫৩টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই সবই করা হয়েছে বিশ্বব্যাপী 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে চিহ্নিত টিটিপির সহযোগিতায়।

    মি. চৌধুরী দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযানে ৭৩টি আফগান সামরিক পোস্ট সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। "১৮টি পোস্ট আমাদের দখলে রয়েছে এবং ১১৫টি ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে,” বলেন তিনি।

    যদিও তার এসব দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২১ এবং ২২শে ফেব্রুয়ারি রাতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির বিরুদ্ধে "খুব সতর্কতার সাথে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরের অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে" হামলা চালিয়েছিল, যার উপর ভিত্তি করে আফগান তালেবান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তিনি জানান, টিটিপির বিরুদ্ধে ২২টি হামলায় পাকিস্তানের কোনো বেসামরিক লোক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার এবং পাক্তিকায় চালানো হামলায় কাবুলের পদাতিক ব্রিগেড সদর দপ্তর সহ বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছিল।

    এক প্রশ্নের জবাবে মি. চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এবং বেসামরিক নেতৃত্বের নির্দেশ অনুসারে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করছি।”

    এছাড়া আফগান সরকারকে পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যেকোন একটিকে বেছে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  2. পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চাপিয়ে দেওয়ার' অভিযোগ তালেবান সরকারের

    “নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আফগানিস্তানের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান,” এই মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

    পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    মি. মুজাহিদ বলেন, প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সকল দেশের সাথে আফগানিস্তান ভালো এবং ইতিবাচক সম্পর্ক চায়।

    আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, "আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না এবং আজও এই বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করেই আমাদের পররাষ্ট্র নীতি এবং আমরা কারও প্রতি শত্রুতার পথ নিতে চাই না।"

    মি. মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সম্পূর্ণরূপে তাদের দেশের বিষয় এবং এটি নতুন কিছু নয়।

    তিনি বলেন, "প্রায় বিশ বছর ধরে, পাকিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ২০০৭ সালে, টিটিপি পাকিস্তানে তাদের উপস্থিতি ঘোষণা করে, এরপর থেকে পাকিস্তান সেখানে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ২০১৪ সালের অপারেশন জারব-ই-আজব।"

    মি. মুজাহিদ বলেন, তালেবানরা প্রায় চার বছর ধরে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আছে, "তাই পাকিস্তানের এখন তাদের পুরনো এবং ঘরোয়া সমস্যা আফগানিস্তানের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো মানে হয় না।"

    তিনি অভিযোগ করেন, "তারা বেশ কয়েকবার সীমা অতিক্রম করেছে, আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের উপর বোমা হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের চালানো হামলায় নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, শিশু এবং মহিলাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”

    অতীতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েও পাকিস্তান সেটি ভঙ্গ করেছে বলে দাবি করেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র।

    আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কেবল আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করেছি এবং কখনও কাউকে আক্রমণ করিনি। আমরা সর্বদা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর জোর দিয়েছি, এবং আমরা এখনও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই।”

  3. দুই দেশের সীমান্ত পয়েন্টগুলোর পরিস্থিতি কী?

    আফগানিস্তানের খোস্ত, পাকতিয়া, পাক্তিকা, নানগারহার এবং কুনার প্রদেশে গত রাতের মতো সরাসরি কোনো সংঘর্ষ হয়নি বলে জানিয়েছেন বিবিসির সংবাদদাতা হেফজুল্লাহ মারুফ।

    তবে, “কুনারের কিছু সূত্র জানিয়েছে যে, সীমান্তবর্তী জেলা শুলতান, দাঙ্গাম এবং নারিতে উভয় পক্ষ মাঝে মাঝে একে অপরের দিকে কামানের গোলা নিক্ষেপ করে,” বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    বিবিসির এই সংবাদদাতা বলছেন, সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও, গত রাতের হামলায় আফগানিস্তানের বেসামরিক নাগরিক এবং তালেবান সৈন্য নিহত ও আহত হয়েছেন।

    নানগারহারেও সরাসরি কোনো লড়াই হয়নি, তবে তোরখাম সীমান্তের কাছে মাঝেমধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তোরখাম সীমান্তের কাছে একটি বড় অস্থায়ী শরণার্থী শিবির রয়েছে, যেখান থেকে যুদ্ধের ভয়ে শরণার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, পাকিস্তান থেকে তোরখাম হয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশকারী শরণার্থীরা সংঘর্ষের ভয়ে তোরখাম থেকে ফিরে গেছেন। প্রতিদিন শত শত পরিবার তোরখাম দিয়ে আফগানিস্তানে ফিরছেন বলেও জানান মি. মারুফ।

    খোস্ত, পাকতিয়া এবং পাক্তিকায় সরাসরি কোনো সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও কিছু সূত্র অনুসারে, অন্যান্য প্রদেশের মতো উভয় পক্ষই একে অপরের দিকে গুলি চালাচ্ছে।

    অন্য একটি সূত্রের মতে, পাক্তিকার সারোবি জেলায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। যদিও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তালেবান সরকার।

  4. রমজান মাসে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের উত্তেজনায় উদ্বেগ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ।

    তিনি জানিয়েছেন এই দুই ইসলামিক দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বা “সরাসরি যুদ্ধ” কারো স্বার্থের পক্ষেই ভালো নয়।

    প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে “সরাসরি যুদ্ধ” ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি বার্তায় আনোয়ার ইব্রাহিম উল্লেখ করেছেন, “উভয় পক্ষের প্রাণহানি গভীর শোকের কারণ। রমজান মাসে এই যে সহিংসতা ঘটছে, তা পরিস্থিতিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে”।

    তিনি লিখেছেন, মালয়েশিয়া চায় পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান দুই দেশই “সর্বোচ্চ স্তরের আত্মনিয়ন্ত্রণ দেখাক এবং অবিলম্বে সমস্ত সামরিক অভিযান বন্ধ করুক”।

    তিনি বলেন যে পাকিস্তানের “নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বৈধ এবং অবশ্যই তার সমাধান করতে হবে। আফগানিস্তানের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকেও সম্মান করতে হবে। এই দুই নীতি একে অপরের বিরোধী নয়। এগুলো কেবল আলোচনার টেবিলেই একমাত্র এর সমাধান করা যেতে পারে”।

    “এই সংঘাতে সমস্ত বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রার্থনা করছি এবং আশা করছি যে উভয় পক্ষই শান্তি বেছে নেবে এবং নিজেদের সাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ব্যবহার করবে”।

  5. পাকিস্তানের অভিযোগ বৈধ, তবে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাও জরুরি: মাওলানা ফজলুর

    আফগানিস্তানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের ধর্ম ভিত্তিক দল জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম (এফ)-এর প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান।

    তার মতে, সাম্প্রতিক আবহে একতরফা সামরিক অভিযান সমস্যার সমাধান করবে না বরং জটিলতা বাড়িয়ে তুলবে।

    জেইউআই-এফ মিডিয়া সেলের জারি করা এক বিবৃতি অনুযায়ী, মাওলানা ফজলুর রহমান জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তার বিষয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ বৈধ, তবে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রতি শ্রদ্ধাও প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, আবেগের বশবর্তী হয়ে আচরণ দুই দেশের জন্যই জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।

    মি. রহমান বলেন, “দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ, একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা কাঠামো এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত। কূটনৈতিক অভিযান এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে পারে।”

    মাওলানা ফজলুর রহমান দুই দেশকে সংযম, সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল মনোভাব দেখানোর এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

  6. পাকিস্তানের ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণার অর্থ কী?

    কাবুল এবং আরো দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিমান হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে “সরাসরি যুদ্ধ” ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    এখন প্রশ্ন হলো, এর অর্থ কী?

    এই প্রসঙ্গে আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আমিন সইকাল বিবিসির নিউজডে প্রোগ্রাম-এ বলেছেন, এটি একটি “অত্যন্ত গুরুতর অগ্রগতি” এবং ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা আফগান তালেবানদের “শাস্তি” দিতে চায়, যাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক হামলার নেপথ্যে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর আরব অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা সইকাল বলেছেন, “দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান করছে। এখন, পাকিস্তানিরা ঘাড়ের দিকে (তীব্রতর অবস্থানে আঘাত বোঝাতে) যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা তালেবানদের পাকিস্তানি তালেবানদের সমর্থন করার জন্য সত্যিই শাস্তি দিতে চায়, যারা গত এক বা দুই বছরে পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুতে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালিয়েছে এবং প্রচুর মানুষকে হত্যা করেছে।”

    ‘আধুনিক আফগানিস্তান’ শীর্ষক বইয়ের লেখক মি. সইকাল বলেন, “এই উত্তেজনা বৃদ্ধি আফগান জনগণের জন্য বিপর্যয়কর হবে, যারা নিজেরা অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।”

  7. তিনটি স্থানে ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ বেশ কয়েকটি শহরে হামলা চালানো হয়েছে বলে আফগানিস্তানের তালেবানের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পাকিস্তান বলছে, ছোট ড্রোন ব্যবহার করে দেশের তিনটি শহরে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে।

    শুক্রবার বিকেলে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া বার্তায় আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইসলামাবাদ, নওশেরা ও অ্যাবোটাবাদের সামরিক স্থাপনাগুলোয় বিমান হামলা চালানো হয়েছে”।

    “এই হামলাগুলো সফল হয়েছে” পোস্টটিতে দাবি করা হয়।

    তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তান তাদের ভূখণ্ডে যে বিমান হামলা চালিয়েছে, তার জবাব হিসেবেই এসব হামলা করা হয়েছে।

    এ দাবিগুলোর পর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা তারার এক্সে তার বার্তায় বলেছেন, আফগান তালেবান অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা লক্ষ্য করে ছোট ড্রোন ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল, যা পাকিস্তান ব্যর্থ করে দিয়েছে।

    তারার পোস্টে আরও বলেন, “অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সব ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কোনো প্রাণহানি ঘটেনি”।

    তিনি আরও লেখেন, “এই ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করে যে আফগান তালেবান সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে”।

    বিবিসির সংবাদদাতা আজিজুল্লাহ খানের তথ্য অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াবি এলাকায় কর্তৃপক্ষ একটি ছোট ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছে।

    বিবিসি উর্দুর খবরে সোয়াবির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ড্রোনটি একটি স্কুলের কাছে বিধ্বস্ত হয় এবং এতে একটি মেয়ে আহত হয়েছে।

    জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াকাস রফিক বলেছেন, ড্রোনটি আবাসিক এলাকার কাছে পড়লেও বড়ধরনের ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, ওই স্কুলটি সম্ভবত হামলার লক্ষ্য ছিল না।

  8. পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানার দাবি আফগানিস্তানের তালেবানদের

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদের ফৈজাবাদের কাছে একটি সামরিক শিবিরে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।

    এক্স হ্যান্ডেলে তালেবান সরকারের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তারা পাকিস্তানের নওশেরা, জামরুদ সামরিক উপনিবেশ এবং অ্যাবোটাবাদের সেনা সেনানিবাসেও বিমান হামলা চালিয়েছে।

    “পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান, কেন্দ্র এবং স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে,” বলেও জানিয়েছে তালেবান সরকার।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের তরফে কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিকায় পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে। আফগানিস্তানের এই দাবির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে কাবুলে হামলার একটি দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, দুই পক্ষই একে অপরের উপর চালানো হামলায় ব্যাপক হতাহতের দাবি করেছে। তবে ক্ষতি বা হতাহতের সঠিক তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি বিবিসি।

  9. আফগানরা ‘তাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করবে’ - সাবেক রাষ্ট্রপতি কারজাই

    কাবুল, কান্দাহার এবং পাক্তিকায় পাকিস্তানি হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই। আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হিসাবে ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “সকল পরিস্থিতিতে আফগানরা পূর্ণ ঐক্যের সঙ্গে তাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করবে এবং সাহসের সাথে আগ্রাসনের জবাব দেবে।”

    তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানকে “নিজের নীতি পরিবর্তন করতে হবে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ভাল প্রতিবেশীর মতো আচরণ করতে হবে এবং শ্রদ্ধা ও সভ্য সম্পর্কের পথ বেছে নিতে হবে।”

    প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানিস্তানে থাকা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের একজন কারজাই একজন হামিদ কারজাই।

  10. তুরস্কের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তান

    আফগানিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। পাকিস্তানের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়ে একটি পোস্ট করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসহাক দার ফোনালাপের সময় হাকান ফিদানকে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানি বাহিনী “প্ররোচনা ছাড়া আফগান আগ্রাসনের” জবাব দিয়েছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, “দুই নেতাই ওই অঞ্ছলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর জোর দিয়েছেন এবং ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।”

    এর আগে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

  11. সংঘাত অবসানের জন্য ‘সংলাপ ও আলোচনার’ আহ্বান চীনের

    আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” চীন। সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই পক্ষকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে পার্থক্য ও বিরোধ নিষ্পত্তি” করার আহ্বান জানিয়েছে।

    পাশাপাশি এ-ও জানানো হয়েছে যে, চীন তাদের “নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে সংঘাতের মধ্যস্থতার জন্য কাজ করছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা হ্রাস এবং উন্নতির জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালন চালিয়ে যেতে প্রস্তুত” তারা।

    মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, “প্রতিবেশী এবং বন্ধু হিসেবে, চীন এই উত্তেজনার বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সংঘর্ষের ফলে হতাহতের ঘটনায় দুঃখিত। যেকোনো উত্তেজনা দুই পক্ষের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে।”

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশ তাদের জনগণের মৌলিক স্বার্থে এবং এই অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

  12. পাকিস্তানি হামলায় পাকতিকায় তিনজন নিহত, জানিয়েছে আফগান টিভি

    আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলায় একজন নারী এবং দুই স্কুলপড়ুয়া শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল।

    ওই টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একটি বেসামরিক বাসভবনে বোমা বিস্ফোরণে আরও সাতজন আহত হয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুই দেশই একে অপরের উপর হামলার পর হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে দাবি জানিয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।

  13. পাকিস্তানের নিশানায় তালেবানদের সরকারি স্থাপনা

    আফগানিস্তানে পাকিস্তানি হামলার একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক ও আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান।

    তিনি জানিয়েছেন, "সাম্প্রতিকতম হামলায় ,সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুর’ বদলে আফগানিস্তানে তালেবানদের সরকারি স্থাপনাগুলোকে নিশানা করছে পাকিস্তান।"

    বিবিসির নিউজডে প্রোগ্রামে তিনি বলেছেন, “এটি এখন শাসকগোষ্ঠীকেই নিশানা করছে।” পাকিস্তানের দাবি, আফগান তালেবানরা তাদের উপর হামলা চালানোর জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে।

    দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।

    এদিকে, তালেবানদের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, তারা সীমান্তের অপর প্রান্তে পাকিস্তানকে নিশানা করে “নিরলস আক্রমণ” চালাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা বলেছেন, এটি একটি “অনিশ্চিত পরিস্থিতি,” যা প্রকৃত সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

  14. গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংয়ে গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গিয়েছে- এএফপি

    আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রধান সীমান্ত ক্রসিংয়ে গুলি ও গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে, এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

    পাকিস্তানের তোরখাম শহর এবং আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশ সংযোগকারী তোরখাম ক্রসিং দুই দেশের মধ্যে বাসিন্দাদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

    গত অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত বেশিরভাগই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তোরখাম ক্রসিংসহ কয়েকটি এই তালিকায় নেই।

    পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার জন্য অনেক আফগান নাগরিক এই ক্রসিং ব্যবহার করেন। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার আবহে তাদের অনেকেই ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছেন। জীবনযাত্রার অবনতির কথাও বলেছেন।

    একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ক্রসিংয়ের কাছে থাকা শিবিরে বৃহস্পতিবার রাতে চালানো হামলায় বেশ কয়েকজন শরণার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে।

    পাকিস্তান থেকে আফগানে ফিরেছেন এমন এক ব্যক্তি এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি "রক্ত" দেখেছেন। আহত শিশু ও নারীদেরও দেখেছেন। অন্য এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে সবাই পালিয়েছেন।

  15. আফগানিস্তানের দামানে আঘাত করেছে পাকিস্তানি বিমান হামলা, মাহফুজ জুবাইদ বিবিসি নিউজ প্রোডিউসার

    আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় শুক্রবার ভোরে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এরপর পাকিস্তানকে নিশানা করে পাল্টা হামলা চালায় আফগানিস্তানের তালেবান।

    বিবিসিকে তালেবানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কান্দাহার প্রদেশের দামান জেলায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে পাকিস্তানি বিমান।

    তবে তিনি জানিয়েছেন এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। দামান জেলায় তালেবান সীমান্তরক্ষীদের একটি ঘাঁটি রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুই দেশেই একে অপরের উপর চালানো হামলায় ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে দাবি করেছে। তবে সেগুলো বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

  16. পাকিস্তানের ৫০ জন সেনাকে হত্যার দাবি আফগান তালেবানের, ইয়ামা বারিজ,কাবুল থেকে আফগান সার্ভিস সংবাদদাতা

    আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিবিসিকে বলেছেন, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু পাকিস্তানি সৈন্যকে আটক করেছে।

    তিনি আরো দাবি করেন, এ হামলায় ৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।

    তবে এই সংখ্যার বিষয়টি কেউ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

    এদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগান তালেবানের ২৭টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং তালেবান বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

  17. এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

    পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ভোররাতে আফগানিস্তানের রাজধানীতে বোমা হামলা চালিয়েছে—এর আগে দুই দেশের দীর্ঘ পাহাড়ি সীমান্তজুড়ে কয়েক মাস ধরে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ চলছিল।

    যা জানা দরকার তা হলো—

    • পাকিস্তানি বাহিনী কাবুলসহ কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
    • পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, তার দেশের বাহিনী শত্রুদের “চূর্ণ” করার সক্ষমতা রাখে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে “সরাসরি যুদ্ধের” ঘোষণা দিয়েছেন।
    • “আমাদের ওপর হামলা হলে আমরা পাল্টা জবাব দেব, তবে এই মুহূর্তে আমরা সংঘর্ষ শুরু করব না,” বিবিসিকে বলেছেন তালেবানের এক সামরিক মুখপাত্র।
    • জাতিসংঘ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, আর ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
    • পাকিস্তানের মিত্র সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার পাকিস্তানি সমকক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করতে।
    • এই বিমান হামলা দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলমান বৈরিতার পর ঘটেছে।
  18. পাকিস্তানের কিছু এলাকায় আফগান তালেবানের হামলা বন্ধ আছে

    আফগানিস্তানের কান্দাহার এবং হেলমান্দ প্রদেশ থেকে পাকিস্তানকে নিশানা করে চালানো তালেবানদের আক্রমণ বন্ধ হয়েছে। দক্ষিণ আফগানিস্তানের সূত্র বিবিসির পাশতো সার্ভিসকে এই তথ্য জানিয়েছে।

    শুক্রবার ভোররাতে পাকিস্তানি বিমান হামলার পর পাল্টা আক্রমণ চালানোর কথা আগেই জানিয়েছিলেন তালেবান সরকারের একজন মুখপাত্র।

    আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন কাবুল, কান্দাহার এবং অন্যান্য প্রদেশে হামলার পর, কান্দাহার এবং হেলমান্দের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নিশানা করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে।

    দুই দেশই একে উপরের উপর চালানো হামলায় হতাহতের বিষয়ে দাবি করলেও সে নিয়ে সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি।

  19. আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা সৌদি আরবের

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার আবহে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বিষয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন বলে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ‘অঞ্চলের পরিস্থিতি’ এবং ‘উত্তেজনা কমানোর উপায়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

    ইসহাক দার বর্তমানে একটি সরকারি সফরে সৌদি আরবেই রয়েছেন।

  20. 'ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হয়েছে, তারপরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি'- কাবুলের বাসিন্দার অভিজ্ঞতা, মাহফুজ জুবাইদে, নিউজ প্রডিউসার

    কাবুলের ৬ নম্বর জেলার দাশতি বারচি এলাকার একজন বাসিন্দা—যা গত রাতের পাকিস্তানি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলোর কাছেই অবস্থিত—আমাকে বলেছেন, হামলার সময় একটি বিস্ফোরণে তার বাড়ি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে।

    তিনি বলেন, “শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এটা ভূমিকম্প, কারণ কয়েক দিন আগে কাবুলে ভূমিকম্প হয়েছিল। তারপরই আমরা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি”।

    নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো ওই বাসিন্দা বলেন, দাশতি বারচির মানুষ বিস্ফোরণের পরপরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে এবং পুরো রাত জেগে থাকে।

    “এরপর আর কেউ ঘুমায়নি। সবাই ভয় পাচ্ছিল”।

    তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের অল্প কিছুক্ষণ পর কাবুলের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে।

    “যখন আমরা মাথার ওপর জেট উড়তে দেখলাম, বুঝতে পারলাম এগুলো পাকিস্তানের সামরিক বিমান”।

    তিনি বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তুহয়েছে যে এলাকা সেটি তার বাড়ি থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে।

    “আমার স্ত্রী এবং বাবা-মা খুব ভয় পেয়েছিল। আমরা সবাই পুরো রাত জেগে ছিলাম”।