ইরান ও ইসরায়েল 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক' যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণা
কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, যদিও এই হামলায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের হামলা ছিল 'খুব দুর্বল,' এবং এখন শান্তির সময়। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
সরাসরি কভারেজ
ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের ১১তম দিনের বিবিসি বাংলার কভারেজ এখানে শেষ হচ্ছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা করা যুদ্ধবিরতি, দুই দেশের হামলা, পাল্টা হামলার সর্বশেষ সব তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন
সেখানে রয়েছে এই সংঘাতের নতুন ও সর্বশেষ সব তথ্য।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতে যা যা ঘটেছে:
ইসরায়েল ও ইরান একটি 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক' যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে ইরান বা ইসরায়েল- কোনও দেশের পক্ষ থেকেই এই বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়নি।
ইরানের তেহরানসহ একাধিক স্থানে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। সেসব এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কিছু এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে ইরান। মঙ্গলবার সকালে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হবে বলে তারা জানিয়েছে।
সোমবার রাতে কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। তবে সেখানে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে 'খুব দুর্বল' হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।
কাতারে ইরানের হামলার পর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এখনো যুদ্ধবিরতির কোনো নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, তেহরানে হামলায় বিধ্বস্ত একটি গাড়ি
ট্রাম্পের “সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতির” ঘোষণার প্রায় আধা ঘণ্টা আগেই, মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল—একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা তাদের বলেছেন, তেহরান এখনো কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্য “প্রতারণামূলক”—যার উদ্দেশ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে শত্রুরা ইরানের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, আর ইরান তার পাল্টা হামলা আরও জোরদার করার দ্বারপ্রান্তে। শত্রুর মিথ্যাচারে কান দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”
বিবিসির পার্সিয়ান বিভাগের সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, তেহরান ও কাছাকাছি শহর কারাজ, উত্তর শহর রাশৎ থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ইরানের বার্তা সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, বিস্ফোরণের ঘটনার পরে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে।
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে তার কৌশলের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারেন, হোয়াইট হাউস থেকে বার্ন্ড ডেবসামেন জুনিয়র
যদি এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন একে হোয়াইট হাউসের পররাষ্ট্রনীতিগত অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করবে—এমনটাই ধারণা করা যায়।
ইউক্রেন ও গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটানোর তার প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সংঘর্ষ এবং পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন—যদিও এসব ইস্যু অধিকাংশ আমেরিকানের মনোযোগের বাইরে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান—বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ইতি টানা যায়, যা ক্লিনটন, বুশ, ওবামা কিংবা বাইডেন কেউই করতে পারেননি—তাহলে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা একে বাস্তব অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরবেন।
তবে এখনো পর্যন্ত ইসরায়েল বা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। এবং যুদ্ধবিরতি আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
আজ রাতে প্রেসিডেন্টের কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি নেই, এবং হয়তো তাকে ক্যামেরার সামনে দেখা যাবে না।
তবে আগামীকাল যখন তিনি নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং নেটো সম্মেলনে যোগ দেবেন, তখন তিনি হয়তো এই যুদ্ধবিরতিকেই প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরবেন—যে তার কৌশল, যত জটিলই হোক, কার্যকর হয়েছে।
ব্রেকিং, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণা
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও ইরান একটি 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক' যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী "প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে" এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, যখন উভয় দেশ তাদের চলমান সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেবে।
এই যুদ্ধকে ''১২ দিনের যুদ্ধ'' বলে নাম দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ঘোষণায় ধীরে ধীরে উভয় দেশের বৈরিতার অবসানের কথা বলা হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, "২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হলে" এই যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বলে বিবেচিত হবে।
এই ঘোষণায় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এটি এমন একটি যুদ্ধ ছিল যা "বছরের পর বছর ধরে চলতে পারত এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করে দিতে পারত", কিন্তু তা হয়নি—এবং আর কখনো হবে না।
তবে এখনো পর্যন্ত ইসরায়েল বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
তার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরানের ঘনবসতিপূর্ণ সেভেনথ ডিস্ট্রিক্ট এলাকা খালি করে দেয়ার জন্য বাসিন্দাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসরায়েল। এরপর সেখানে বিমান হামলার কথা জানা গেছে।
পাল্টা জবাবে ইসরায়েলির কিছু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সতর্ক বার্তা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার সকালে সেসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে
ছবির উৎস, EPA
ছবির ক্যাপশান, হরমুজ প্রণালীতে তিনটি কন্টেইনার জাহাজকে যাত্রা করতে দেখা গেছে, যেগুলো পরে গতিপথ পরিবর্তন করে।
বিবিসির বাণিজ্য সংবাদদাতা জোনাথন জোসেফস যখন এই
প্রতিবেদনটি লিখছেন তখন বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮.৫ শতাংশ কমে
ব্যারেল প্রতি ৭০.৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা তেলের বিশ্ববাজারে একটি বিশাল পতন।
এটি বিপরীতমুখী মনে হলেও, ওয়াশিংটনের থিংক
ট্যাঙ্ক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রবিন ব্রুকস, সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্লেখ করেছেন, এটি "সম্পূর্ণ
যুক্তিসঙ্গত"।
গোল্ডম্যান স্যাক্স এবং আইএমএফ এর সাবেক
অর্থনীতিবিদ বলছেন, "যদি ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার ব্যাপারে সিরিয়াস হত, তবে তারা হরমুজ
প্রণালীতে একটি তেলের ট্যাঙ্কার ডুবিয়ে দিত"।
বাজারের প্রতিক্রিয়া এই
চিন্তাভাবনাকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে বলেই মনে হচ্ছে।
বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই জাহাজ চলাচলের সরু এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ইরান এই পথকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে
এমন শঙ্কা আপাতত কম বলেই মনে হচ্ছে।
সম্প্রতি জাহাজের নেভিগেশন সিস্টেমে ইলেকট্রনিক
হস্তক্ষেপের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও, এই অঞ্চল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী বলছে,
"সমুদ্রের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এমন কোনও ইঙ্গিত
নেই"।
কুয়েত, বাহরাইন ও আমিরাতের আকাশপথ আবারো সচল
কুয়েত এবং বাহরাইনের আকাশপথ আবারো খুলে দেয়া
হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশ দুটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের
হামলার পর আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষও।
সশস্ত্র সংঘাত ও উস্কানি বন্ধ করতে হবে- রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে "সশস্ত্র সংঘাত"
এবং "উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড" বন্ধের আহ্বান জানালো রাশিয়ার পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে "রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে” চলারও
আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে "ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র
ও ইসরায়েলের অযৌক্তিক আগ্রাসন, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রকাশ্য চেষ্টা এবং রাষ্ট্রীয়
সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন" অবিলম্বে বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়।
আশ্রয়স্থলে থাকার নির্দেশনা প্রত্যাহার করলো কাতারের মার্কিন দূতাবাস
সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া আশ্রয়স্থলে থাকার
নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে কাতারের মার্কিন দূতাবাস।
তাদের ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা নিয়ে দেয়া সবশেষ
বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে "কোনও বাধা ছাড়াই" কনস্যুলার
সেবা পুনরায় শুরু করা হবে।
তবে এখনও কাতারের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে বলেও জানানো হয় এবং
যারা ভ্রমণ করছে তাদেরকে সরকারের দেয়া সবশেষ তথ্যগুলোর দিকেও সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
'অভিনন্দন বিশ্ব, এখন শান্তির সময়'- ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় বললেন ট্রাম্প
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পরে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ''অভিনন্দন বিশ্ব, এখন শান্তির সময়।''
ইরানের হামলার বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া "খুবই দুর্বল" এবং
"আমাদেরকে আগেই নোটিশ দেওয়ার জন্য" তাদেরকে ধন্যবাদ।
"ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের প্রতিক্রিয়া
খুবই দুর্বলভাবে দিয়েছে, যা আমরা আশা করেছিলাম এবং খুবই কার্যকরভাবে প্রতিহত করা
হয়েছে," ট্রুথ সোশ্যালে
বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওই অঞ্চলের শান্তির জন্য কাতারের আমির যা করেছেন, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, ইরান ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
করেছে, যার ১৩টি
"ধ্বংস" করা হয়েছে এবং আরেকটি অন্যদিকে চলে গেছে।
ওই হামলায় কোনও আমেরিকানের ক্ষতি হয়নি এবং "তেমন কোনো
সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতিও হয়নি", তিনি বলেছেন। এমনকি কাতারের কোন বাসিন্দাও নিহত বা আহত হয়নি,
জানান ট্রাম্প।
"সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তারা তাদের 'সিস্টেম' থেকে সবকিছু বের করে এনেছে এবং আশা করি, আর কোনও ঘৃণা থাকবে
না। আমাদেরকে আগেই নোটিশ দেওয়ায় আমি
ইরানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই," তিনি বলেছেন।
"সম্ভবত ইরান এখন এই অঞ্চলের শান্তি ও
সম্প্রীতির দিকে এগোতে পারে, এবং আমি উৎসাহের সঙ্গে ইসরায়েলকেও একই কাজ করতে একই কাজ
করতে বলবো," মি. ট্রাম্প বলেন।
'মাথার ওপর দিয়ে মিসাইলগুলো আসতে দেখলাম'”- কাতারে বসবাসরত ওয়েলশ প্রবাসী
ছবির উৎস, NewyddionS4C / BBC Wales
ছবির ক্যাপশান, কাতারে বসবাসরত ওয়েলশ প্রবাসী রোড্রি ওগওয়েন উইলিয়ামস
"আমরা গলফ মাঠে ফোর্থ হোল এর কাছেই ছিলাম।
মাথার ওপর দিয়ে মিসাইলগুলো আসতে দেখলাম, সেগুলোর মধ্যে কমপক্ষে দুটি বা তিনটিকে আটকানো হয়েছিল।”
এভাবেই পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছিলেন
কাতারে বসবাসরত ওয়েলশ প্রবাসী এবং রেস্তোরাঁর
মালিক রোড্রি ওগওয়েন উইলিয়ামস। তিনি জানান, সন্ধ্যায় লুসাইলের দোহা গলফ্ ক্লাবে
ছিলেন তিনি।
রোড্রি বলছেন, "আমরা এখন খুবই সংবেদনশীল
পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছি।"
এটি কেবল কাতারের বাসিন্দাদের জন্যই নয় বরং বাহরাইন ও কুয়েতের মতো আশপাশের উপসাগরীয়
আরব দেশগুলোর জন্যও "খুবই উদ্বেগজনক," বলেন মি. রোড্রি।
কারো আগ্রাসন মেনে নেবে না ইরান- খামেনি
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি
ইরান কারও ক্ষতি করেনি এবং "কোনও
পরিস্থিতিতেই কারও আগ্রাসন" মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে
একথা বলেছেন তিনি।
মি. খামেনি বলেছেন, ইরান কারও
আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং এটিই ইরানি জাতির
"যুক্তি"।
ট্রাম্প এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি—তিনি কীভাবে জবাব দেবেন?
ছবির উৎস, EPA-EFE/Shutterstock
ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল—শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার প্রতিশোধ তারা নেবে। এখন, সেই প্রতিশোধ বাস্তবায়িত হয়েছে।
শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—যুক্তরাষ্ট্রের কোনও স্বার্থে ইরান হামলা চালালে, তার জবাবে আসবে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া। তিনি আরও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোতে আঘাত হানা হতে পারে।
এরপর টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিশ্ব অপেক্ষা করেছে—ইরান কী করে।
যদি ক্ষয়ক্ষতি সীমিত হয়, তবে ট্রাম্প হয়তো সাময়িকভাবে সংযত থাকবেন—এই আশায় যে ইরান এখন হয়তো আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসতে রাজি হবে।
একই রকম পরিস্থিতি ঘটেছিল জানুয়ারি ২০২০-তে, যখন ট্রাম্প বাগদাদে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নেতা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেন।
ইরান তখন ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, শতাধিক মার্কিন সেনা আহত হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা উত্তেজনা না বাড়িয়ে পিছু হটে।
সেই সময় ঠান্ডা মাথার কৌশলই জয়ী হয়েছিল।
তবে এবার যদি মার্কিন নাগরিক নিহত হন বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাহলে ট্রাম্পের ওপর পাল্টা জবাব দেওয়ার চাপ অনেক বেড়ে যাবে।
রবিবার মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছিলেন—আগের প্রেসিডেন্টদের মতো নন ট্রাম্প, তিনি হুমকি দিলে তা বাস্তবায়ন করেন।
কিন্তু সেই পথে হাঁটলে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা এমনকি ট্রাম্পের নিজের সমর্থকরাও চায় না।
কাতারের প্রতি সংহতি জানালেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ
কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, কাতারের সাথে সংহতি ঘোষণা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ।
মি. ম্যাক্রঁ জানিয়েছেন, কাতার এবং
ওই অঞ্চলের ফরাসি অংশীদারদের সাথে ফ্রান্স ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।
তিনি আরও বলেন, "আমি সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা হ্রাস এবং আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি। এই বিশৃঙ্খলার চক্রের অবসান ঘটাতে হবে।"
বিপ্লবী গার্ডের হামলার পর বিশ্ব নেতাদের মধ্যে এমানুয়েল ম্যাক্রঁই
প্রথম মন্তব্য করলেন।
এটি ছিল ইরানের পরিকল্পিত ও হিসাব করা হামলা, ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার, নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা
কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রথমে এক ভয়াবহ উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়—যা গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার আশঙ্কা তৈরি করে।
এখনো সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কাতার এই হামলায় ক্ষুব্ধ—তারা একে তাদের সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিশেষ করে কাতার হতাশ, কারণ তারা ইরানে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছিল এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল।
তাদের সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক সম্পর্কও রয়েছে—উভয় দেশ সমুদ্রের মাঝে থাকা একটি বিশাল গ্যাসক্ষেত্র ভাগ করে ব্যবহার করে।
তবে, ইরানের এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত।
এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, এবং ধারণা করা হচ্ছে—হামলার আগে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছিল, যেমনটি তারা ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানির হত্যার প্রতিক্রিয়ায় করেছিল।
মাত্র ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে—যদিও তা বিপজ্জনক, তবে ইরানের সম্ভাব্য পূর্ণ শক্তির তুলনায় তা অনেকটাই সীমিত।
তাই এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল—মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে ভয়াবহ পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এখন সিদ্ধান্তের পালা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
যদি তিনি এখানেই থামেন, তবে হয়তো আজ রাতই হবে এই সংঘাতের সর্বোচ্চ বিন্দু।
এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনার পথও আবার খুলে যেতে পারে।
তবে ট্রাম্প কী ভাবছেন, তা এখনো অনিশ্চিত। যদি তিনি পাল্টা জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে এই গ্রীষ্ম উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য হয়ে উঠতে পারে এক উত্তপ্ত অধ্যায়।
সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প- যুক্তরাষ্ট্র এখন কী করে, সবার নজর সেদিকে, সারাহ স্মিথ, উত্তর আমেরিকা সম্পাদক
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, হোয়াইট হাউজ
এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজের ‘সিচুয়েশন রুম’-এ অবস্থান করছেন, পূর্বনির্ধারিত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেখান থেকেই তাঁরা কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই হামলা পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল না।
গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যে হামলা করে, তারপর থেকেই এমন পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব মার্কিন বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় ছিল, প্রস্তুত ছিল এমন একটি হামলার জন্য।
তবে ইরানের এই হামলার প্রকৃত মাত্রা ও পরিসর সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
যখন সেই তথ্য পাওয়া যাবে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সামনে দাঁড়াবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এখন কীভাবে জবাব দেওয়া হবে?
এই মুহূর্তটি এক জটিল সন্ধিক্ষণ। এখানেই নির্ধারিত হবে—এই সংঘাত কি আরও বিস্তৃত, জটিল ও অনাকাঙ্ক্ষিত এক যুদ্ধের দিকে গড়াবে, নাকি এখনো তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব?
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ছিল—একটি নিখুঁত, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং সেখানেই থেমে যাওয়া। কিন্তু ইরানের পাল্টা জবাব ছিল অবশ্যম্ভাবী।
এখন গোটা বিশ্ব অপেক্ষা করছে—এই প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি ডেকে আনবে, সেটা দেখার জন্য।
ব্রেকিং, তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে
পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে, ওই এলাকার বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন বিবিসির ফার্সি বিভাগের
সংবাদদাতা ঘোনচেহ হাবিবিয়াজাদ।
দেশটির রাজধানীতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথাও জানিয়েছে মেহরের মতো আধা-সরকারি ইরানি সংবাদমাধ্যমও।
কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় প্রতিক্রিয়া:
সৌদি আরব কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে এবং একে কাতারের বিরুদ্ধে ইরানের ‘আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও সুসম্পর্কের নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কাতারের পাশে রয়েছে এবং কাতারের নেওয়া সব পদক্ষেপে পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা দেবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত-ও একইভাবে ইরানের এই হামলাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাহরাইন-ও কাতারের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছে, ইরানি হামলার পর।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিব বলেছেন, কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের এই হামলা শুধু কাতারের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
এই বিষয়ে আরও প্রতিক্রিয়া আসছে, যা পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে।
পাল্টা আঘাত হানতে ট্রাম্প ব্যাপক চাপের মুখে পড়বেন, গ্যারি ও'ডনোহিউ, প্রধান উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা, ওয়াশিংটন ডিসি
কাতার থেকে একের পর এক খবর আসছে, আর হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উদ্ভূত পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তাঁরা।
১০ দিন আগে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ প্রায় প্রতিদিনই বৈঠকে বসছে।
এবারের বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাতারের আল উদেদ বিমানঘাঁটি। এটি কেবল এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটিই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অগ্রবর্তী সদর দপ্তরও।
মাত্র কয়েক দিন আগেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সপ্তাহান্তের হামলার আগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ঘাঁটিটির টারমাক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছিল।
গত মে মাসে মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘাঁটিটি পরিদর্শন করেছিলেন।
সেসময় সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার অগ্রাধিকার হলো সংঘাতের ইতি টানা, নতুন সংঘাত শুরু করা নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা আমাদের মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনে মার্কিন শক্তি প্রয়োগ করতে আমি কখনোই পিছপা হব না।’
সোমবারের হামলার পর প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইরানের যেকোনো প্রতিশোধমূলক হামলার জবাব আরও বহুগুণ শক্তি দিয়ে দেওয়া হবে’।
যদিও এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেই মনে হচ্ছে, তবুও প্রেসিডেন্টকে পাল্টা হামলা চালিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁর হুমকি অন্তঃসারশূন্য নয়। আর এ জন্য তিনি তীব্র চাপের সম্মুখীন হবেন।
ছবির উৎস, Getty Images
আল উদেইদ ঘাঁটি সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
কাতারের
রাজধানী দোহার কাছে অবস্থিত আল উদেইদ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কেন্দ্রীয়
কমান্ডের বিমান অভিযানের সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করে। এখানে প্রায় আট হাজার মার্কিন
সেনা অবস্থান করে।
ব্রিটিশ সেনা সদস্যরাও এই ঘাঁটিতে অনেক
সময় থাকে। কখনো কখনো এই ঘাঁটি আবু নাখলা এয়ারপোর্ট হিসেবেও পরিচিতি পায়।
বর্তমানে এই স্থাপনাটি ইরাকে
মার্কিন অভিযানের জন্য সদর দপ্তর এবং সরবরাহ ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে। এই উপসাগরীয়
অঞ্চলের দীর্ঘতম বিমান অবতরণ স্ট্রিপও এতে রয়েছে।
কাতার ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে আল
উদেইদ ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার দেয়। ২০০১ সালে আমেরিকানরা ঘাঁটি ব্যবস্থাপক হিসেবে
দায়িত্ব নেওয়ার পর দোহা এবং ওয়াশিংটন ২০০২ সালের ডিসেম্বরে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
লন্ডন-ভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা
গ্রে ডাইনামিক্সের মতে, ওই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে আল উদেইদ স্থাপনায় মার্কিন
সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে স্বীকৃতি দেয়।
২০২৪ সালে সিএনএন জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র কাতারের সাথে আরও ১০ বছরের জন্য তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে একটি
চুক্তিতে পৌঁছেছে।