বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সব
প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
একই সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে ডাকা এক সভায় তিনি গত তিনটি নির্বাচনে
পোলিং অফিসারসহ যারা নির্বাচনি দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচনি কর্মকর্তা
নিয়োগ দেওয়া যায় কি-না তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন ।
এছাড়া নির্বাচনের আগে ওসি, এসপি, ডিসি ও ইউএনওদের রদবদলের কথাও এই
সভায় বলা হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে তার প্রেস উইং জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাতে এই সংবাদ সম্মেলনে
জানান যে, সভায় প্রধান উপদেষ্টা ১৮-৩৩ বছর বয়সীদের জন্য পৃথক একটা ভোটার তালিকা এবং
তাদের জন্য আলাদা বুথ কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটি খতিয়ে দেখতে বলেছেন।
“যারা প্রথমবারের মতো ভোট দিবে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা
হয়েছে। প্রথম ভোটটা যেন তাদের জন্য ভালো স্মৃতি হয় তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা
দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা”।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আজকের সভায় কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন যার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা
সিদ্ধান্ত নিবে।
মি. আলম বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে হবে এবং এর অর্থ হলো
নির্বাচনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা এখনি শুরু করতে হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন।
তিনি জানান যে, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনকে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক
যত প্রস্তুতি দরকার হয় সেগুলো ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে বলেছেন।
“১৭ হাজার নতুন পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডে নেয়া হচ্ছে নির্বাচনকে
সামনে রেখে। তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষন শেষ করতে বলেছেন। সভায় জানানো হয়েছে ৮ লাখের
মতো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য নির্বাচন দায়িত্বে থাকবেন। তারা সবাই যেন ডিসেম্বরের
মধ্যেই প্রশিক্ষণ পায়,” প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে বলেছেন তার প্রেস সচিব।
এছাড়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যেন কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে নির্বাচনকে
সামনে রেখে এবং একই সাথে নির্বাচনকালে আইন শৃঙ্খলা সদস্যরা কীভাবে মোতায়েন হবে তা
নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ওই সভায়।
সভায় বলা হয়েছে যে এবারের নির্বাচনে ৪৭ হাজারের মতো ভোট কেন্দ্র
থাকবে এবং এর মধ্যে ১৬ হাজারের মতো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব জায়গায়
কিভাবে শান্তিপুর্ণ ভোট হয় তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মি. আলম।
এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র যাতে সিসিটিভির আওতায় আসে সেজন্য প্রয়োজনীয়
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করার
কথাও বলা হয়েছে এই সভায়।
প্রেস উইং জানায়, নির্বাচনের সময় সাত দিনের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য মোতায়েন কিভাবে করা যাবে তা নিয়েও আলোচনা
হয়েচে। এছাড়া মিডিয়া বা পর্যবেক্ষকের নামে কেউ যাতে দলীয় কর্মী কেন্দ্রে পাঠাতে না
পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।