হেনস্তার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই মামলা, মবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লাগবে 'অভিযোগ'

কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুলের গলা চেপে ধরেন এক ব্যক্তি

ছবির উৎস, Screengrab

ছবির ক্যাপশান, কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুলের গলা চেপে ধরেন এক ব্যক্তি
    • Author, তানহা তাসনিম
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি- ডিআরইউ'তে আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ১২ ঘণ্টা পর তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। কিন্তু "জুলাই যোদ্ধা" পরিচয়ে সেখানে মব সৃষ্টি করা হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হেনস্তার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই পুলিশ যখন বাদী হয়ে সন্ত্রাসের অভিযোগে মামলা করেছে, এনিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে পুলিশ দাবি করেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।

তবে মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যারা হেনস্তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে কাউকে অভিযোগ আনতে হবে বলে পুলিশ বলছে। ঢাকার শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালিদ মনসুর বলেন, "পাবলিক বা কেউ একজন অভিযোগ করলে" তাকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে।

এদিকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলাটিতে "ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের" বরাতে বলা হয়েছে, "আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মঞ্চ ৭১ এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিলেন।

"আর এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছিল"।

যদিও আলোচনা সভায় হেনস্তার ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আলোচনা সভার প্রথম বক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই ২০-২৫ জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর চড়াও হন।

ফলে আলোচনা সভায় আর কেউ কথা বলার সুযোগই পাননি।

এছাড়াও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে, আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের টানাহেঁচড়া, মারধর এমনকি গলা চেপে ধরার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

মব সৃষ্টির ঘটনায় ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামীর নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন 'মঞ্চ ৭১'র সমন্বয়ক ও মানবাধিকার আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

তাদের কাছে থাকা প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন ওই আইনজীবী।

তবে জামায়াতের ব্যানারে ঘটনাস্থলে কেউ যায়নি বলে জানিয়েছেন দলটির পল্টন থানার নেতা শাহীন আহমেদ খান। বরং জুলাইকে ধারণ করা অনেকে সেখানে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

পুরো ঘটনায় সরকারের অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। একইসাথে একে "অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনের পুনরাবৃত্তি" বলেও আখ্যায়িত করেছেন কেউ কেউ।

বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকীকে ঘেরাও করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিতে থাকেন কয়েকজন

ছবির উৎস, Screengrab

ছবির ক্যাপশান, বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকীকে ঘেরাও করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিতে থাকেন কয়েকজন

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ, ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র প্রতিহত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবিতে গত পাঁচই অগাস্ট 'মঞ্চ ৭১' নামের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করে।

এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই বৃহস্পতিবার 'আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান' শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের মূল আয়োজকের আসতে দেরি হওয়ায় বেলা ১১টার দিকে আলোচনা সভা শুরু হয়। এসময় গণমাধ্যম কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য দিতে গিয়ে "সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা" করার অভিযোগ তোলেন প্রথম বক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।

নিমন্ত্রণ পেয়ে আলোচনা সভায় গিয়েছিলেন সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, অধ্যাপক কার্জনের বক্তব্য শেষ হবার পরপরই হঠাৎ করে গেটের দিকে হইচই শুনতে পান। বেরিয়ে এসে দেখতে পান কয়েকজন মানুষ চিৎকার করে বলছে এখানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, ফ্যাসিবাদের দোসর আছে।

এসময় তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা একই দাবি তুলে কক্ষটিতে তালা মারার চেষ্টা করেন বলে জানান মি. খান। পরে ২০-২৫ জন সেখানে ঢুকে পড়েন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, হেনস্তাকারীরা সেখানে ঢুকেই লতিফ সিদ্দিকীকে ঘেরাও করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় ধারণ করা বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, পেছন থেকে একজন তাকে ধাক্কাও দেন।

আলোচনা সভা থেকে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না ও আইনজীবী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ

ছবির উৎস, Screengrab

ছবির ক্যাপশান, আলোচনা সভা থেকে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না ও আইনজীবী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করা ওই ব্যক্তির নাম "সম্ভবত আল-আমিন ছিল"।

"ভারতের প্রেসক্রিপশনে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে। জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন হতে দেবে না," এমন কথাও বলেন ওই ব্যক্তি।

এর পরপরই কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে একটি চেয়ার ভেঙে ফেলে এবং ব্যানার ছিড়ে ফেলে।

তারপর ধাওয়া দিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধার গলা চেপে ধরেন এবং আরেকজনকে মারধর করে তার পাঞ্জাবি ছিড়ে ফেলেন বলে জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক।

এই সময়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ও আইনজীবী কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুলকে গলা চেপে ধরেন এক ব্যক্তি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন।

এছাড়া আরেকটি ভিডিওতে হ্যান্ডমাইক দিয়ে একজনকে আঘাত করতেও দেখা গেছে।

প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা এসব ঘটনার পর পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে হেনস্তার শিকার ব্যক্তিদেরই ‌আটক করে নিয়ে যায় এবং পরে "অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের" অভিযোগে মামলা দেয়।

মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাসহ ১৬ জনকে আজ শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়।

তবে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেননি লতিফ সিদ্দিকী। "যে আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে জামিন চাইবেন না"- মি. সিদ্দকী এমন মন্তব্য করেছেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের দায়ের করা মামলায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।

ঘটনার সময় হ্যান্ডমাইক দিয়ে এক ব্যক্তিকে আঘাত করতে দেখা গেছে

ছবির উৎস, Screengrab

ছবির ক্যাপশান, ঘটনার সময় হ্যান্ডমাইক দিয়ে এক ব্যক্তিকে আঘাত করতে দেখা গেছে

মব সৃষ্টি করেছে কারা?

বৃহস্পতিবার মব সৃষ্টি করে হেনস্তার ঘটনায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন 'মঞ্চ ৭১'র সমন্বয়ক ও মানবাধিকার আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বড়ভাই লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে যে আচরণ করেছে, সেটা অচিন্তনীয়।"

"আমি ফুটেজ দিয়ে দেখাইতে পারবো, যে লোকটা এটা লিড দিছে সে জামায়াতের আমিরের পেছনে আরেকটা ছবিতে আছে," বলেন তিনি।

তার দাবি, "যারা স্বাধীনতাবিরোধী, যারা একাত্তরকে সহ্য করতে পারে না, যারা একাত্তরের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি, যারা স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, যারা এদেশকে সাম্প্রদায়িক আর মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়" তারাই এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

মন্ত্রণালয়ের সাথে আলাপ করে পুলিশ মামলা করেছে দাবি করে জেড আই খান পান্না বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও চায় না ৭১'র নামে কিছু হোক।

একটি জাতীয় গণমাধ্যমের খবরেও হামলার সময় উপস্থিত একজন নিজেকে জামায়াতে ইসলামির পল্টন থানার নেতা শামীম হোসেন পরিচয় দিয়েছেন।

তবে এমন দাবি নাকচ করেছেন দলটির পল্টন থানার আমির শাহীন আহমেদ খান।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "মঞ্চ ২৪" নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আগেরদিনই আলোচনা সভার কথা অনেকে জানতে পারেন। তারা আহ্বান জানান, ফ্যাসিস্টের দোসররা যেন জুলাইবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করতে না পারে।

এমন আহ্বানে সাড়া দিয়ে পল্টন থেকে অনেকে ডিআরইউতে গিয়ে উপস্থিত হন।

"সেখানে জামায়াতের কেউ থাকতে পারেন। তবে তারা কেউ জামায়াতের কর্মী হিসেবে না বরং জুলাইকে ধারণ করে গেছেন," বলেন তিনি।

এদিকে আইনজীবী মি. পান্না বলেন, যারা হেনস্তা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলো আর যারা হেনস্তা করলো তাদের বিরুদ্ধে মামলাতো দূরে, আটকও করা হলো না। এরচেয়ে বেশি অবাক হবার কী আছে?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য প্রমাণ দিলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে "সিসি ক্যামেরা দেখে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা" চলছে বিবিসিকে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মি. মনসুর।

"অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওই ব্যবস্থা করবো আমরা। আর যেহেতু এটা তদন্তাধীন বিষয় পুরাটাই, এটাও তদন্তের অংশ। যেহেতু মামলা হইছে, এটা আন্ডার ইনভেস্টিগেশন। পুরা বিষয়টাই... এটা নিয়েও আমরা কাজ করতেছি," বলেন তিনি।

তবে মামলার কপি চাইলে এই কর্মকর্তা তা আদালত থেকে কিংবা মিন্টু রোডের মিডিয়া সেল থেকে সংগ্রহ করতে বলেন।

সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান
ছবির ক্যাপশান, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান

"ফ্যাসিজমকেই আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে"

এই ঘটনায় বিস্ময় ও নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান। একে "অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনের পুনরাবৃত্তি" বলেও আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

"পাঁচই অগাস্টের পরে আমি একটা প্রবণতা লক্ষ্য করছি- মুক্তিযুদ্ধ, ৭১, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এগুলোকে কোনো একটা পক্ষ থেকে এবং বেশ শক্তিশালী পক্ষ – তারা এটাকে ম্লান করে দেয়ার চেষ্টা করছেন," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

"মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রোপার্টি (সম্পত্তি) না" উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা জনযুদ্ধ ছিল। আমাদের ওপর এটা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল এবং আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিলাম।

"এটাতো কোনো লিমিটেড কোম্পানি না, যে এটা অমুক দলের যুদ্ধ," যোগ করেন তিনি।

ইতিহাস বিকৃত হয়েছে বলে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তা নিয়ে আলাপ না হলে সঠিক ইতিহাস কখনো লিপিবদ্ধ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনেকটা একই কথা বলছেন আইনজীবী শাহদীন মালিক। বলেন, "মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানকে সব মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দলীয়ভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এগুলো এসব কিছুরই বহিঃপ্রকাশ।"

"সার্বিকভাবে বিচারব্যবস্থা যে ভঙ্গুর হয়ে গেছে, এই ঘটনা সেটারই প্রতিফলন" বলে মন্তব্য করেন তিনি।

"আগে যেমন কিছু হলেও বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা হতো, এখন বিএনপির জায়গায় আওয়ামীপন্থি হিসেবে আখ্যায়িত করে মামলা হচ্ছে। এখন সেটা আরও বেশি হচ্ছে।"

এদিকে যারা মব তৈরি করলো তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে যাদের হেনস্তা করা হলো তাদের বিরুদ্ধেই মধ্যরাতে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের মামলা দেয়ায় "ভুল বার্তা যাবে" বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন।

"এটি জনগণকে খেপিয়ে তুলছে। যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের এটা বুঝতে হবে। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যে মামলা-মোকদ্দমা বা যে বয়ান আমরা শুনতাম একই বয়ান আজকে শোনা দুঃখজনক। গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের সাথে এটা যায় না," বলেন তিনি।

"এই ধরনের ঘটনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিজমকেই আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে," বলেন মি. লিটন।