আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ম্যাচ পাতানোয় প্ররোচনার দায় স্বীকার করেছেন লঙ্কান দলের বাংলাদেশি মালিক তামিম রহমান
শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লীগের দল ডাম্বুলা থান্ডারের মালিক তামিম রহমানকে গত বছরের এলপিএল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এক ক্রিকেটারকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে প্ররোচিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এই তামিম রহমান ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক। মামলাটি বুধবার কলম্বো উচ্চ আদালতের বিচারক উদেশ রানাতুঙ্গার আদালতে তোলা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে দাখিল করা অভিযোগপত্র অভিযুক্তের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিচারক অভিযুক্তকে দুই লাখ রুপি নগদে এবং দুই জামিনদারের জিম্মায় এক কোটি রুপির মুচলেকায় মুক্তির আদেশ দেন।
অভিযুক্তের পক্ষে আইনজীবী কালিঙ্গা ইন্দতিসা আদালতে জানান, ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তামিম রহমানকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল, পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
কালিঙ্গা ইন্দতিসা আরো বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলেও তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। এই মামলার কারণে তিনি দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন, যার ফলে তার পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগের বিষয়ে দোষ স্বীকার করেছেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে চান। এ বিষয়ে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে মৌখিক ও লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রতিরক্ষার উপস্থাপিত তথ্যের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য সময় চান।
পরে আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ৮ই ডিসেম্বর নির্ধারণ করে।
অভিযোগ কী ছিল?
অভিযুক্তকে ২০২৪ সালের এলপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে এক বড় ধরনের ম্যাচ ফিক্সিং চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, যারা এক বিশাল ম্যাচ পাতানোর পরিকল্পনা করছিল।
তদন্তে জানা গেছে, ডাম্বুলা দল যেন তাদের পছন্দমতো খেলোয়াড় ব্যবহার করতে পারে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী উদারা করুণাথিলাকে আদালতকে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেছেন তিনি এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার সঙ্গে করে শ্রীলঙ্কায় এনেছেন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে 'প্রিভেনশন অব করাপশন ইন স্পোর্টস অ্যাক্ট'-এর ৫ ও ৬ নম্বর ধারার আওতায় তদন্ত চলছে।
তদন্ত এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় এবং আরও কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া বাকি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তকে রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন জানায়।
দলটির মালিকানায় কারা আছেন
২০২৩ সালের এলপিএল টুর্নামেন্টে ডাম্বুলা অরার মালিক ছিলেন অরা লঙ্কা লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিরঞ্জিত থাম্বুগালা। তবে ২০২৪ সালে তিনি দলটির মালিকানা থেকে সরে দাঁড়ান।
এরপর ডাম্বুলা ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন মালিক হিসেবে দায়িত্ব নেয় ইম্পেরিয়াল স্পোর্টস গ্রুপ।
এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের নাগরিক তামিম রহমান ও গোলাম রাকিবের যৌথ মালিকানাধীন। তামিম রহমান ব্রিটিশ নাগরিকত্বও ধারণ করেন।
ডাম্বুলা থান্ডারের মালিক হিসেবে তামিম রহমান চলতি বছরের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় নিলামেও অংশ নেন।
এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে- লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) দলের মালিক তামিম রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, এর পরপরই পাঁচ অংশগ্রহণকারী দলের একটি দাম্বুলা থান্ডার্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে এলপিএল কর্তৃপক্ষ।
তামিম রহমানকে ২০১৯ সালের প্রিভেনশন অব অফেন্সেস রিলেটিং টু স্পোর্টস অ্যাক্ট অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছিল, যা খেলাধুলায় দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
শ্রীলঙ্কা পুলিশ জনপ্রিয় ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে জানিয়েছে, কলম্বো বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার আগেই আটক করা হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তামিম রহমানকে।
এই আইনের প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি দমন ইউনিটও অংশ নিয়েছিল বলে জানা গেছে।