আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রুশ সীমান্ত শহরে হামলায় নিহত ২০, ইউক্রেনে পাল্টা ড্রোন হামলা রাশিয়ার
রাশিয়ার একটি শহরে বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত আর শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর ইউক্রেনে ড্রোন হামলা চালাতে শুরু করেছে রাশিয়া। এর আগে শুক্রবার রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত হয়েছে অন্তত ৩৯ জন।
গত দুই দিনে ইউক্রেন ও রাশিয়া দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কিয়েভ এবং খারকিভে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, স্থানীয় মেয়র বলেছেন সেখানকার বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে গিয়েছে।
শনিবার রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্ত শহর বেলগোরোদে ইউক্রেন হামলা চালানোর পর এবার পাল্টা হামলা চালালো মস্কো।
বেলগোরোদে ইউক্রেনের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।
তবে ইউক্রেনের একটি নিরাপত্তা সূত্র জোর দিয়ে বলেছে যে, শনিবারের অভিযানে শুধুমাত্র রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাশিয়া ইউক্রেন জুড়ে হামলা চালানোর পরে এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলো। ওই হামলায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
দুই পক্ষের চলমান যুদ্ধে এটি রাশিয়ার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র বোমা হামলা বলে দাবি করেছে কিয়েভ।
ইউক্রেন ২০২৩ সালের শেষ দিনে প্রবেশ করার সাথে সাথে সর্বশেষ এই হামলার ঘটলো ঘটলো।
ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসন যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছে যে, রাজধানী কিয়েভের আশেপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনিবার গভীর রাত থেকেই কাজ করছে।
মেয়র ইহর তেরেখভ টেলিগ্রামে বলেছেন, ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে।
"কোন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়নি। বরং ক্যাফে, আবাসিক ভবন এবং অফিসে হামলা হয়েছে" তিনি বলেন।
"নববর্ষের প্রাক্কালে, রাশিয়ানরা আমাদের শহরকে ভয় দেখাতে চায়, কিন্তু আমরা ভয় পাই না - আমরা ভাঙবো না এবং আমাদের কেউ হারাতে পারবে না।"
কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন ধারণা পাওয়া যায়নি সেইসাথে এখনও কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার, রুশ হামলায় খারকিভে ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেন এবং রাশিয়ায় কয়েক দিন একের পর এক হামলার পর সর্বশেষ নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
শুক্রবার ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক বোমা হামলায় ৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ১৬০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রাজধানী কিয়েভসহ বেশ কয়েকটি শহরে রাশিয়ার বোমা আঘাত হেনেছে।
কিয়েভের মেয়র, ভিটালি ক্লিচস্কো বলেছেন, শহরে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন - শুক্রবার কিয়েভের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ দিন।
এর পরই রাশিয়ার ওপর ইউক্রেন হামলা চালায়।
এদিকে মস্কো দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে মারাত্মক বিমান হামলার পেছনে ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছে - সীমান্তের কাছে বেলগোরোদে ২০ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ওই হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে বলে বেলগোরোদের গভর্নর জানিয়েছেন।
তিনি এক টেলিগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, "ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর গোলাগুলি গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।"
বিবিসির সাথে কথা বলার সময়, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সূত্র বলেছে যে, "ইউক্রেনীয় শহর এবং বেসামরিকদের উপর রাশিয়ার সন্ত্রাসী হামলার জবাবে" রাশিয়ার ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
বেলগোরোদের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে, তারা রাশিয়ান বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যকলাপের সমালোচনা করেছে।
বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের এই ঘটনাকে 'রাশিয়ার বিমান বাহিনীর অদক্ষতার' নজির বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সূত্র। তারা বলছে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ভঙ্গুর অবস্থার কারণেই এরকম ঘটনা ঘটেছে।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে কিয়েভ "যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের পরাজয় থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছে এবং আমাদের উসকানি দিতে চাইছে"।
তিনি আরও বলেন: "তাদের এই অপরাধের কোন ছাড় দেয়া হবে না।"
শনিবার, ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের গভর্নর বলেছেন যে একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে একজন নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে, ইউক্রেনের খারকিভ শহরে রাশিয়ার হামলায় ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সরকার জানিয়েছে।
খারকিভের আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান বলেছেন, রাশিয়া ওই শহরে ছয়টি রকেট হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছে যে বেলগোরোদের বিস্তৃত অঞ্চলে ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে - এবং ব্রায়ানস্ক, ওরিওল, কুরস্ক এবং মস্কো অঞ্চলে ৩২টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
ব্রায়ানস্কের গভর্নর বলেছেন, ওই হামলায় মূলত দুটি গ্রামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং একটি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় মিডিয়া - গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে - রিপোর্ট করেছে যে বেশ কয়েকটি ড্রোন ওই অঞ্চলের একটি ইলেকট্রনিক্স কারখানায় আঘাত হেনেছে। দাবি করা হচ্ছে ওই স্থাপনায় রাশিয়ান সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হতো।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় মস্কো বারবার ইউক্রেনকে ড্রোন হামলার পেছনে দায়ী করেছে।
কিয়েভ খুব কমই সীমান্তের ওপারে এ ধরনের হামলার কথা স্বীকার করেছে, যদিও এর আগে তারা এই ধরনের হামলা চালিয়েছে।
এদিকে মস্কো অভিযোগ করেছে, শনিবার ইউক্রেন তাদের ওপর ইউক্রেনীয় ওলখা, চেক-নির্মিত ভ্যাম্পায়ার রকেট সহ বিভিন্ন ধরনের গোলা হামলা চালিয়েছে।
শনিবার রাশিয়ার অনুরোধে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় - রাশিয়া বলেছে যে তারা সেখানে চেক প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে বলেছে।
হামলায় চেক গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে বলে রাশিয়া যে দাবি করেছে বিবিসি তা যাচাই করতে পারেনি।
বৈঠকের সময়, জাতিসংঘে রুশ দূত, ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে "একটি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর ইচ্ছাকৃত ও নির্বিচারে হামলা চালানোর অভিযোগ এনেছেন।”
তবে ইউক্রেনের মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স, তার এই দাবি সাথে সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তারা বলেছে যে বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যুদ্ধের আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ইউক্রেন জাতিসংঘের আইনের অধীনে নিজেকে রক্ষা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ অন্যরা বলেছেন যে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সংঘাত শুরু করেছে তাই রাশিয়ায় নিহতের দায় তাদের।
জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি জন কেলি বলেছেন, " পুতিন এই ছুটির মৌসুমে শান্তির বার্তা দেয়ার পরিবর্তে, অসংখ্য ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোকে বেছে নিয়েছেন।"
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব, মোহাম্মদ খিয়ারি, দুই পক্ষের হামলার "দ্ব্যর্থহীন নিন্দা" করেছেন এবং বলেছেন যে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা "আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন, অগ্রহণযোগ্য এবং এখনই তা শেষ হওয়া উচিত"।
এরমধ্যে একটি হামলার ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি, কিন্তু সেটি শেয়ার না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায় এক স্তূপ গাড়ি, তারমধ্যে কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে এবং অন্তত একজন ব্যক্তি রাস্তায় স্থবির হয়ে পড়ে আছেন।
পুরো ভিডিও জুড়ে বিকট শব্দ এবং গাড়ির হর্নের শব্দ পাওয়া যায়। একজনকে দেখা যায় রাস্তায় পড়ে থাকা ব্যক্তিকে সাহায্য করতে দৌড়ে আসছেন।
এরপরই ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো দৃশ্য অস্পষ্ট হয়ে যায়।