যুদ্ধবিমান গুলি ঝাঁঝরা করে দেওয়ার পরেও বেঁচে গিয়েছিলেন যে শিখ পাইলট

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রয়্যাল এয়ার ফোর্সে যোগদানকারী হাতে গোনা কয়েকজন ভারতীয়দের মধ্যে একজন ছিলেন হরদিত সিং মালিক।

ছবির উৎস, STEPHEN BARKER

ছবির ক্যাপশান, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রয়্যাল এয়ার ফোর্সে যোগদানকারী হাতে গোনা কয়েকজন ভারতীয়দের মধ্যে একজন ছিলেন হরদিত সিং মালিক।
    • Author, গুরজোত সিং
    • Role, বিবিসি সংবাদদাতা

“এক জার্মান আমাকে আক্রমণ করে। ডান পায়ে গুলি করেছিল সে। তারপর আমি তাকে গুলি করি আর তার পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করতে থাকি।"

“যে গুলিটা আমাকে আঘাত করেছিল সেটা এসেছিল জাহাজের পেট্রোল ট্যাঙ্কের অংশের কাছ ঘেঁষে। তার উচ্চতা আর একটু বেশি হলেই আমার বিমানে বিস্ফোরণ হয়ে যেত।”

“চারটে জার্মান যুদ্ধবিমান আমার পিছনে ছিল। তারা আমাকে লক্ষ্য করে বারবার গুলি চালিয়েছে।”

“ডানা ঝাপটানো পাখির মতো দৌড়াচ্ছিলাম। আর উড়তে পারছিলাম না। প্রথম কয়েক মুহূর্তে মনে হয়েছিল, আমি মরতে বসেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা না হওয়ায় আমার মনে হয়েছিল কোনও এক দৈব শক্তি আমাকে রক্ষা করে চলেছে। পরে জানানো হয়েছিল ৪০০টারও বেশি গুলি লেগেছিল আমার বিমানে।”

এই কথাগুলো লেখা আছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সেনানী হরদিত সিং মালিকের আত্মজীবনী 'আ লিটল ওয়ার্ক, আ লিটল প্লে'-তে।

অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডির হরদিত সিং মালিক প্রথম 'ফ্লাইং শিখ' হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রয়্যাল এয়ার ফোর্সে যোগদানকারী হাতে গোনা কয়েকজন ভারতীয়দের মধ্যে একজন ছিলেন হরদিত সিং মালিক। প্রথম পাগড়িধারী (শিখ) ভারতীয় পাইলট ছিলেন তিনি।

ওই গুলিবর্ষণের ঘটনার বিষয়ে তিনি পরে লিখেছিলেন, “এই অলৌকিক ঘটনা আমার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায়, তোমার সেই দিন মৃত্যু হবে যেদিন ঈশ্বর চাইবেন।”

পাগড়ির জন্য বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয়েছে তাকে। সেই বাধা অতিক্রম করে নিজের পৃথক পরিচয় তৈরি করেন তিনি। ‘ফ্লাইং হবগব্লিন’-সহ একাধিক উপাধি অর্জন করে ইতিহাসের পাতায় নামও লিখিয়েছিলেন ।

আরও পড়তে পারেন
হরদিত সিং মালিক প্রথম 'ফ্লাইং শিখ' হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

ছবির উৎস, STEPHEN BARKER

ছবির ক্যাপশান, হরদিত সিং মালিক প্রথম 'ফ্লাইং শিখ' হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

‘লায়ন অফ দ্য স্কাইজ’

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

হরদিত সিং মালিক ১৮৯৪ সালের ২৩ নভেম্বর পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন পাঞ্জাবে ব্রিটিশ সরকার যে ছ’টা সেনানিবাস তৈরি করেছিল তার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডি ছিল অন্যতম।

সেখানে তার বাবা সর্দার মোহন সিং ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। এলাকায় তার বেশ সুনামও ছিল।

ধনী পরিবারে জন্ম হওয়ায় শুরু থেকেই পাশ্চাত্য শিক্ষা লাভ করেন হরদিত সিং মালিক।

পরে পাতিয়ালা রাজ্যের 'প্রধানমন্ত্রী' হন এবং ভারতের স্বাধীনতার পরে কানাডায় প্রথম হাই কমিশনারও হন।

প্রয়াত লেখক খুশবন্ত সিং সে সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিখ ব্যক্তিত্ব হিসাবে বর্ণনাও করেছেন তাকে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসবিদ স্টিভেন বার্কার একটা বই লিখেছেন হরদিত সিং মালিক সম্পর্কে। তার নাম 'লায়ন অফ দ্য স্কাইজ'।

তিনি লিখেছেন, “যদিও হরদিত সিং মালিক ১৪ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে চলে এসেছিলেন, নিজের শিকড়ের সাথে সব সময় যোগাযোগ ছিল তার।”

হরদিত সিং মালিক তার আত্মজীবনী 'আ লিটল ওয়ার্ক, আ লিটল প্লে'-তে তার পরিবার সম্পর্কে লিখেছেন, "মা খুব ধার্মিক ছিলেন, আমার জীবনে তাঁর গভীর প্রভাব ছিল। আমার বাবা কোনো কাজ করার আগে শিখ ধর্ম অনুযায়ী আরাধনা করতেন।”

হরদিত সিং মালিকের মায়ের নাম ছিল লজবন্তী ভগত।

ইতিহাসবিদ স্টিফেন বার্কার একটা বই লিখেছেন হরদিত সিং মালিক সম্পর্কে। তার নাম 'লায়ন অফ দ্য স্কাইজ'।

ছবির উৎস, STEPHEN BARKER

ছবির ক্যাপশান, ইতিহাসবিদ স্টিভেন বার্কার একটা বই লিখেছেন হরদিত সিং মালিক সম্পর্কে। তার নাম 'লায়ন অফ দ্য স্কাইজ'।

স্টিভেন বার্কার লিখেছেন, রাওয়ালপিন্ডিতে জীবনের প্রথমদিকের বছরগুলো কাটানোর ফলে ব্রিটিশ সরকারকে কাছ থেকে বোঝার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি (হরদিত সিং মালিক)।

মি বার্কারের কথায়, শিখ সন্ত আত্তার সিংয়ের (মাস্তুয়ানা) সংস্পর্শ তার উপরে প্রভাব ফেলেছিল।

সামরিক ইতিহাসবিদ সোমনাথ সাপ্রুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরদিত সিং মালিক বলেছিলেন, সন্ত আত্তার সিংয়ের সঙ্গে দেখা না হলে তার জীবন অন্য রকম হত।

তিনি ১২ বছর বয়সে রাওয়ালপিন্ডির একটি সমাবেশে লালা লাজপত রাইয়ের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দেখেছেন।

পাগড়ির কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে।

ছবির উৎস, BRITISH PATHE

ছবির ক্যাপশান, পাগড়ির কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে।

১৪ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে পাড়ি

মি. বার্কার লিখেছেন যে সম্পন্ন পরিবারের ১৮ বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় ছেলেদের শিক্ষার জন্য ব্রিটেনে যাওয়ার রেওয়াজ ছিল। কিন্তু খুব কম মানুষই ভাবতে পারতেন ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর স্কুল এবং তার পরবর্তী শিক্ষার জন্য ব্রিটেনে যাবে।

ইস্টবোর্ন কলেজ থেকে পড়াশোনা করার পরে, হরদিত সিং মালিক অক্সফোর্ডের বলিওল কলেজে পড়াশোনা করেন, যেখানে তিনি অনেক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসেন যারা পরবর্তী জীবনে সাফল্য অর্জন করেন।

ছেলেবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল মি মালিকের। ইংল্যান্ডে আসার পরও ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যান এবং তার কলেজের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন।

শুধু তাই নয়, তিনি একজন ভাল গল্ফারও ছিলেন। তার মৃত্যুর পর গল্ফ এশিয়া সোসাইটিও তাকে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে।

তিনি বলিওল কলেজে আধুনিক ইউরোপীয় ইতিহাস অধ্যয়ন করেন।

হরদিত সিং মালিক গল্ফও ক্রিকেট খেলতেন।

ছবির উৎস, STEPHEN BARKER

ছবির ক্যাপশান, হরদিত সিং মালিক গল্ফ ও ক্রিকেট খেলতেন।

বায়ুসেনাতে যোগ দেন

হরদিত সিং মালিক ১৯১৭ সালে যখন বলিওল কলেজে পড়তেন, সে সময় তার একাধিক সহপাঠী প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেন।

মি মালিকও তার অন্যান্য সহপাঠীদের মতো যুদ্ধে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি ফ্রান্সের রেড ক্রসের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসাবে কাজ শুরু করেন। যে শহর থেকে কাজ শুরু করেন তিনি তার নাম ছিল কনিয়াক।

মি বার্কার লিখেছেন, ২১ বছর বয়সে ফ্রান্সে আসা হরদিত সিং মালিকের ধারণাই ছিল না যে ভারতের স্বাধীনতার পরে তিনি (ভারতের) রাষ্ট্রদূত হবেন।

ফ্রান্সে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি (হরদিত সিং মালিক) আত্মজীবনীতে লিখেছেন, “আমি না বলে দেওয়ার পরেও সেখানকার হাসপাতালের লোকেরা মনে করতেন আমি বোধহয় একজন ভারতীয় মহারাজা।”

মি বার্কার লিখেছেন, “ফরাসি রেড ক্রসের সাথে কাজ করার সময় হরদিত সিং মালিক যুদ্ধে যোগ দেন। প্রথমেই সরাসরি যুদ্ধে যেতে চেয়েছিলেন তিনি।”

কীভাবে ফরাসি বিমান বাহিনীতে যোগ দেওয়া যায় সে বিষয়ে বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করতে থাকেন।

স্টিভেন বার্কার লিখেছেন, জাহাজগুলো তখন এত শক্তিশালী ছিল না, ছিল ফাইবার ও কাঠের তৈরি।

তার প্রথম পোস্টিং ছিল হ্যাম্পশায়ারের অলডারশটে। সেখানে থাকা খুবই কঠিন ছিল, যে কথা তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন হরদিত সিং মালিক।

মি বার্কার বিবিসিকে জানিয়েছেন, সামরিক নিয়ম ভেঙ্গে সর্দার মালিককে বিমান বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল।

তার কথায়, “বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনে বিমানবাহিনীর পাইলটের এতটাই ঘাটতি ছিল যে তারা ভারতীয়দের (তখন ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল) নিয়োগের কথা ভাবতে শুরু করে।”

“নিয়োগ শুরু হয় ১৯১৬ সালের অক্টোবর মাসে যা চলেছিল ১৯১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত। পাঁচজন ভারতীয়কে সে সময় নিয়োগ করা হয়, যাদের মধ্যে হরদিত সিং মালিক ছিলেন একমাত্র শিখ।”

সেনায় থাকাকালীন পাগড়ি পরার জন্য তিনি সংগ্রাম করেন এবং শেষপর্যন্ত উচ্চতর আধিকারিকেরাও রাজি হন।

ছবির উৎস, STEPHEN BARKER

ছবির ক্যাপশান, সেনায় থাকাকালীন পাগড়ি পরার জন্য তিনি সংগ্রাম করেন এবং শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষও রাজি হন।

পাগড়ির জন্য সংগ্রাম

হরদিত সিং মালিক তার সুনাম অর্জন করেছিলেন তার যোগ্যতার জোরে। তবে কিছু ক্ষেত্রে পাগড়ির জন্য তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছিল।

নিজের আত্মজীবনীতে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

"সামরিক ইউনিফর্মের সঙ্গে পরার জন্য টুপির বদলে খাঁকি রঙে আমার পাগড়ি রাঙিয়ে ফেলি। একজন সার্জেন্ট মেজর পাগড়ি দেখে জিজ্ঞাসা করলেন আমার টুপি কোথায়। আমি সেই অফিসারকে বুঝিয়ে বলি, একজন শিখ হিসেবে আমার পাগড়ি পরা জরুরি।”

“অন্য এক অফিসার এসে বিষয়টি মেটান।”

“পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনা করেন এবং এরপর আমাকে পাগড়ি পরার অনুমতি দেওয়া হয়।”

কলেজের একটা ঘটনা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “রাতের খাবার পর, পাঁচ-ছয়টা ছেলে আমাকে ঘিরে ধরে এবং আমার পাগড়ি খুলতে বলে। তারা দেখতে চেয়েছিল এর নিচে কী আছে।”

“তাকে বলেছিলাম আমি একজন শিখ এবং আমার পাগড়ি খুলব না। তারা আমার দিকে এগিয়ে আসে পাগড়ি খুলতে। খুব রাগ হচ্ছিল। কিন্তু ওদের সামনে আমি একাই ছিলাম।”

“খুব শান্তভাবে বলেছিলাম যে আমি তোমাদের থামাতে পারব না, কিন্তু যে আগে আমার পাগড়ি স্পর্শ করবে, আমি তাকে যেভাবেই হোক মেরে ফেলব।”

হরদিত সিং লিখেছেন, “ওই ছেলেগুলো জানত যে শিখরা কৃপাণ রাখে। বিষয়টা মজার বদলে অন্য দিকে যাচ্ছে দেখে তারা পিছিয়ে আসে।”

লেখক খুশবন্ত সিং হরদিত সিংও তার লেখায় হরদিত সিং মালিকের উচ্চ প্রশংসা করেছেন।

ছবির উৎস, LIBRARY-ARCHIVES.CANADA.CA

ছবির ক্যাপশান, লেখক খুশবন্ত সিংও তার লেখায় হরদিত সিং মালিকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ

মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে দেখা করেছিলেন তিনি। সে সময়ে হরদিত সিং মালিক পাতিয়ালা রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

দিল্লির ভগবান দাস রোডে হরদিত সিং মালিকের ভাই তেজা সিং মালিকের বাড়িতে এই বৈঠক হয়।

বৈঠক সম্পর্কে মি মালিক বলেন, “এই ঐতিহাসিক বৈঠকটা তখনও পর্যন্ত আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি চিত্তাকর্ষক ছিল।”

"জিন্নাহ কোনও উপদেষ্টা ছাড়াই এসেছিলেন। আর এদিকে আমাদের দলে মহারাজা ভূপিন্দর সিং, তারা সিং, জ্ঞানী কর্তার সিং এবং আমি ছিলাম।”

হরদিত সিং তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন যে "শিখদের পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন জিন্নাহ। আমাদের দাবিগুলো জানাতে বলেন এবং তিনি যে সেগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত সে কথাও জানান।”

কিন্তু তার অবর্তমানে কে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে এ কথা জিজ্ঞাসা করায়, জিন্নাহ উত্তর দিয়েছিলেন, “আমার কথা পাকিস্তানে ঈশ্বরের বাণীর মতো মানা হবে।”

এই প্রসঙ্গে মি মালিক তার আত্মজীবনীতে লেখেন, “এ ধরনের ঔদ্ধত্য পাগলামি।”

স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে হরদিত সিং মালিক।

ছবির উৎস, STEPHEN BARKER

ছবির ক্যাপশান, স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে হরদিত সিং মালিক।
আরো পড়তে পারেন

'তিনি আর সেই মানুষ ছিলেন না'

হরদিত সিংয়ের মৃত্যুর পর ১৯৮৫ সালে হিন্দুস্তান টাইমসে খুশবন্ত সিং লিখেছিলেন, "আমি খুব কম লোককেই জানি যারা তাদের জীবনে এত কিছু অর্জন করেছেন।

খুশবন্ত সিং লিখেছেন, “হরদিত সিং মালিকের বিভিন্ন ধরনের মদ সংগ্রহের শখ ছিল। বিশেষ বিশেষ খাবার খাওয়ার শখও ছিল তার।”

“নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর ভক্ত ছিলেন হরদিত সিং মালিক, কিন্তু সেনাবাহিনী যখন অমৃতসরের শ্রী দরবার সাহিবে (স্বর্ণ মন্দির) প্রবেশ করে তখন তার মন ভেঙে গিয়েছিল। তারপর তিনি আর সেই মানুষ ছিলেন না।”

ওই ঘটনার পর তাকে হতাশা গ্রাস করেছিল, সে কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি।

খুশবন্ত সিং লিখেছিলেন, "ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার দিন তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। বাইরে শিখদের রক্তের জন্য তৃষ্ণার্ত জনতা ঘুরছিল। এই অবস্থায় পরিবারের লোক তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।"

ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার খবর বাড়ির লোক তাকে জানাননি।

হরদিত সিং মালিকের শেষকৃত্য সম্পর্কে খুশবন্ত সিং লিখেছেন, তার স্ত্রী প্রকাশ কৌরের অনুরোধে হাসপাতালের অন্যান্য রোগীরা আনন্দের গান গেয়েছিলেন।