১০৪ শতাংশের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলো চীন

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)

চীনা পণ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের জবাবে এবার সব ধরনের মার্কিন পণ্যে ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন চীনের সরকার।

চীনকে আগেই 'নিকৃষ্টতম অপরাধী' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তার বাণিজ্য ঘাটতি সংক্রান্ত বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে থাকে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

তবে ট্রাম্পের শুল্কের প্রতিক্রিয়া জানাতে ১২৫ শব্দের বেশি ব্যয় করেনি দেশটি।

তারা জানিয়েছে, বেইজিং সময় ১০ই এপ্রিল রাত ১২টা এক মিনিট থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে নতুন শুল্ক বসছে।

১২টি মার্কিন কোম্পানিকে এক্সপোর্ট কন্ট্রোল লিস্ট বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে শি জিনপিং প্রশাসন।

এতে ওই কোম্পানিগুলোর পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিশেষ লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে।

আরো ছয়টি আমেরিকান কোম্পানিকে অনাস্থাসূচক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আইনকানুন লঙ্ঘন করছে উল্লেখ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ইতোমধ্যেই একটি অভিযোগ জমা দিয়েছে চীন।

এদিকে আজ থেকে সারা বিশ্বে কার্যকর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের 'পাল্টা শুল্ক'।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী নয়ই এপ্রিল এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে চীনের পণ্যের ওপর শুল্কহার ৮৪ শতাংশ বাড়ায় ট্রাম্প প্রশাসন।

এতে দেশটির পণ্যে মার্কিন শুল্ক বেড়ে ১০৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলো।

এখন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে চীনা পণ্যে শুল্কহার আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।

গত দোসরা এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার এক দিনের মাথায় গত চৌঠা এপ্রিল চীনও সমান হারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে।

বিবিসি বাংলার আরো খবর:
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্কের প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্কের প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন যে চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার না করলে দেশটির ওপর আরও ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে।

তার ভাষ্য, "আমি আগেই সতর্ক করেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যদি কোনো দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তবে তারা সঙ্গে সঙ্গে নতুন ও অনেক বেশি হারে শুল্কের মুখোমুখি হবে।"

এই প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, "চীনকে চাপ বা হুমকি দিয়ে কখনোই লাভ হবে না।"

কিন্তু চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও সাফ জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়বে তারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই "ব্ল্যাকমেইলিং আচরণ" তারা কখনোই মেনে নেবে না।

বুধবার বাণিজ্য বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে চীন। এতে বলা হয়েছে, চীন সব সময়ই চেষ্টা করেছে, মার্কিন-চীন বাণিজ্য যেন সব সময় উভয় রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হয়।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকাটা 'স্বাভাবিক' বলে উল্লেখ করা হয় শ্বেতপত্রে। তবে নিজেদের স্বার্থ ঠিক রাখার প্রতি জোর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে চীনের শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, পাল্টা শুল্কের মাধ্যমে আমেরিকা তার বাণিজ্য ঘাটতি সমস্যা সমাধান করতে পারবে না।

বরং বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের শৃঙ্খলা, সরবরাহ ব্যবসার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরো পড়তে পারেন:
চীনের একটি বিপণিবিতান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০২৪ সালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২৯৫ বিলিয়ন ডলার।

চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে তার তুলনায়, চীন থেকে অনেক বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র।

হিসাব অনুযায়ী, গত বছর চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হয়েছে ৪৪০ বিলিয়ন ডলার (৪৪ হাজার কোটি ডলার) মূল্যের বাণিজ্য পণ্য আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীন আমদানি করেছে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার (১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার) মূল্যের পণ্য।

এর ফলে ২০২৪ সালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২৯৫ বিলিয়ন ডলার (২৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার)।

এই ঘাটতি বেশ উল্লেখযোগ্য এবং এর পরিমাণ কিন্তু মার্কিন অর্থনীতির প্রায় এক শতাংশের সমান।

ইন্টারন্যাশানাল মানিটরি ফান্ড (আইএমএফ) বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪৩ শতাংশই দখল করে রয়েছে দুই দেশ- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।

যদি তারা 'অল-আউট ট্রেড ওয়ার'-এ (সর্বাত্মক বাণিজ্য যুদ্ধে) জড়িয়ে পড়ে এবং সেটা তাদের প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দেয় বা দুই দেশকে আর্থিক মন্দার কবলে পড়ার দিকে ঠেলে দেয় তাহলে তার প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পড়তে পারে।

বৈশ্বিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও এর একাধিক সম্ভাব্য প্রভাব থাকতে পারে।