জয়ের পথে থেকেও ইংল্যান্ডের কাছে যেভাবে হেরে গেল বাংলাদেশ

ছবির উৎস, Bangladesh Cricket Board
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, ঢাকা, বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশ সফরের প্রথম ম্যাচে জয় পেল ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে তিন উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
ঢাকার মিরপুরে বুধবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। দিবারাত্রির এই ম্যাচটিতে টসে জিতে বাংলাদেশ ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়।
শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ২০৯ রান তোলে। জবাবে ইংল্যান্ড আট বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশের সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছেন
ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলারদের পারফরম্যান্স ছিল শুরু থেকেই বিশ্বমানের। জফরা আর্চার মিরপুরের মন্থর উইকেটেও ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন।
ইংল্যান্ডের তিন ফাস্ট বোলার মিলে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। বাকি পাঁচ উইকেট নিয়েছেন স্পিনাররা।
শুরু থেকেই বাংলাদেশ মন্থর উইকেটে ধীরগতির ব্যাট করতে থাকে। প্রথম চার ওভারেই ত্রিশ পার করলেও দশ ওভারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ৪১টি ডট বল দিয়েছেন।
বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল, লিটন দাস,সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম- কেউই ভালোকরতে পারেননি।
সাকিব পাঁচ নম্বরে নেমে অবিবেচক শট মারতে গিয়ে বোল্ড হন। তামিম ইকবাল মার্ক উডের ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার বেগের বলে পরাস্ত হয়েছেন।
মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার আগে ৩৩ বল খেলে মাত্র ১৪ রান তুলেছেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থেমেছেন ৩১ রানে।
নাজমুল হোসেন শান্ত তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধ-শতক তুলে নিয়েছেন, ৮২ বল খেলে শান্ত ৫৮ রান তুলেছেন।
আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজও এক ঘরের রান তুলে আউট হয়ে যান।
শেষদিকে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ ব্যাট হাতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দুইশত পার করান। যা শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, "দুইশ রানের মতো ডিফেন্ড করা সবসময়ই কঠিন, আমাদের আরও ৩০-৩৫ রান করা দরকার ছিল"।

ছবির উৎস, Getty Images
ম্যাচের নায়ক ছিলেন ডাউইড মালান
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাংলাদেশের স্পিনারদের বলে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা খাবি খাচ্ছিলেন ইনিংসের শুরু থেকে।
১০৩ রানের মধ্যে ইংল্যান্ড পাঁচ উইকেট হারায়। কিন্তু উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখেন ওয়ান ডাউনে নামা ডাউইড মালান।
১৪৫ বলে ১১৪ রানের একটি ইনিংস খেলেন তিনি। এটি ইংল্যান্ডের হয়ে মালানের চতুর্থ সেঞ্চুরি।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর যুক্তরাজ্য সম্পাদক অ্যান্ড্রু মিলার টুইটারে লিখেছেন, "এই মাঠেই ২০১০ সালে মরগান একই রকম সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন।"
তামিম ইকবাল ম্যাচ শেষে বলেন, "ডাউইড মালান, এই একজনের কাছেই বাংলাদেশ হেরে গেল আজ।"
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলারের মতে কন্ডিশন কঠিন ছিল কিন্তু মালান দেখিয়েছেন কীভাবে এই ধরনের উইকেটে ব্যাট চালাতে হয়।
সাত উইকেট যাওয়ার পর আদিল রাশিদের সাথে ৫০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ জেতান মালান।
মালানের জন্য বাংলাদেশের কন্ডিশন পরিচিত। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে খেলেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও খেলে গেছেন ডাউইড মালান। মালানও তামিমের মতো বলেছেন, "আর ৩০-৪০ রান বেশি হলে রান তাড়া করা কঠিন হতো, মাঝে ছোট ছোট জুটি আমাদেরসাহায্য করেছে"।
জয়ের জন্য মাথা ঠাণ্ডা রাখাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ মালানের কাছে তিনি ম্যাচের পরে আদিল রাশিদেরও প্রশংসা করেছেন। রাশিদ নাকি প্রায়ই মনে করিয়ে দেন তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দশটি সেঞ্চুরি আছে।
আদিল রাশিদ জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১৭ রান তুলেছেন।
উইকেট ছিল স্পিনবান্ধব

ছবির উৎস, Getty Images
একাদশে তাইজুল ইসলামের অন্তর্ভূক্তিই জানান দিচ্ছিল প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ স্পিন আক্রমণ দিয়েই জয় পাওয়ার চেষ্টা করবে। প্রথম ওভারেও বল করতে এসেছিলেন সাকিব আল হাসান।
সাকিব প্রথম ওভারেই জেসন রয়ের উইকেট নিয়ে নেন। এরপর তাইজুল জেমস ভিন্স ও ফিল সল্টের উইকেট নিয়ে নেন।
মেহেদী হাসান মিরাজও দুটি উইকেট পেয়েছেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদক ম্যাট রোলারের মতে এই উইকেট ছিল 'ট্রিকি' বা দুর্বোধ্য।
তাইজুল ইসলামের বোলিংও ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের কাছে ছিল দুর্বোধ্য। যখনই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের খানিকটা থিতু মনে হয়েছে, তাইজুল একটি উইকেট নিয়েছেন বল হাতে নিয়ে।
৩৯তম ওভারে ক্রিস ওক্সের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা বাড়িয়ে দেন তাইজুল।
তাসকিন আহমেদ ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজের ফর্ম ধরে রেখেছেন। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন তাসকিন।
মিরপুরের উইকেট ধীরগতির জন্য পরিচিত হলেও, তাসকিন গতি ও সুইং আদায় করে নিয়েছেন।
নয় ওভারে ২৬ রান দিয়ে জস বাটলারের উইকেট নিয়েছেন তাসকিন।








