ইসরায়েল থেকে নাগরিকদের ফেরাতে 'অপারেশন অজয়' শুরু করেছে ভারত

গাজা শহরে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলার পরে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গাজা শহরে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলার পরে
    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা

হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে সেখানে আটকে পড়া নিজেদের নাগরিকদের দেশে ফেরাতে বৃহস্পতিবার থেকে বিশেষ বিমান পাঠাতে শুরু করছে ভারত। তেল আবিবে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, সেদেশে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় বাস করেন। এছাড়া ফিলিস্তিন এলাকা, এমনকি গাজাতেও কয়েকজন ভারতীয় আটকে আছেন বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

নাগরিকদের দেশে ফেরানোর এই কর্মকাণ্ডের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন অজয়’। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে 'অপারেশন অজয়ের' প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বৃহস্পতিবার বিকেলে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “অপারেশন অজয় শুরু হয়েছে। আজ রাতেই তেল আবিবে প্রথম বিশেষ বিমানটি পৌঁছবে। যেসব ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরতে চান, তাদের নিয়ে বিমানটি শুক্রবার সকালে ভারতে ফিরে আসবে।“

মি. বাগচী বলেন হামাস-ইসরায়েল সংঘাতে একজন ভারতীয় নারী আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যেসব ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরতে চাইবেন, তাদের জন্য তেল আবিব দূতাবাস নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বৃহস্পতিবার থেকে।

প্রথম বিমানটিতে ২৩০ জন যাত্রী দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পরবর্তী বিমানগুলো কবে আসবে, সেটা নির্ভর করবে কতজন ভারতে ফিরে আসতে চাইছেন তার ওপরে।

অপারেশন অজয়-তে এখন বেসামরিক বিমান চালানো হবে, তবে প্রয়োজন হলে বিমানবাহিনীর বিমান পাঠানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি অরিন্দম বাগচী।

তেল আভিভ বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার রাতেই নামবে বিশেষ ভারতীয় বিমান - ফাইল চিত্র

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তেল আবিব বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার রাতে নামবে বিশেষ ভারতীয় বিমান - ফাইল চিত্র

কত ভারতীয় আছেন ইসরায়েলে?

ইসরায়েলে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, যাদের মধ্যে হাজার খানেক ছাত্র-ছাত্রী এবং গবেষকও আছেন।

ইসরায়েল ছাড়াও ফিলিস্তিনি এলাকায় অন্তত ১৭ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, এদের মধ্যে চারজন রয়েছেন গাজাতে।

“তাদের হয়তো এখন বের করে নিয়ে আসা একটু কঠিন, তবে তেল আবিবে আমাদের দূতাবাস আর রামাল্লায় ভারতীয় প্রতিনিধির দপ্তর ওই নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে,” জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

রামাল্লায় ভারতীয় প্রতিনিধির দপ্তরটি (রিপ্রেজেনটেটিভ অফ ইন্ডিয়া) ফিলিস্তিনি এলাকায় দূতাবাসের কাজ করে।

তেল আভিভ বিশ্বিবদ্যালয়ে গিয়ে ভারতীয় ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দূতাবাস কর্মকর্তারা

ছবির উৎস, Embassy of India, Tel Aviv / X

ছবির ক্যাপশান, তেল আবিব বিশ্বিবদ্যালয়ে গিয়ে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দূতাবাস কর্মকর্তারা

ভারতীয়রা ইসরায়েলে কী করে?

ইসরায়েল তেলেঙ্গানা এসোসিয়েশনের সভাপতি সোমা রভি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ইসরায়েলে যে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, তারা শুধু ‘কেয়ার গিভার’ বা বয়স্কদের সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করেন।

এদের বাইরে হাজার খানেক ছাত্র-ছাত্রী এবং গবেষক আছেন। মি. রভি নিজেও গত ১৮ বছর ধরে কেয়ার গিভার-এর কাজই করেন।

“ইসরায়েল সরকার শুধুমাত্র কেয়ার গিভার-এর কাজেরই অনুমতি দেয়। অন্য কোনও ক্ষেত্রে কাজ করা যায় না এখানে," বলেন মি. রাভি।

"গত বছর যখন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে এসেছিলেন, আমি তাকে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম যাতে কৃষি এবং নির্মাণ শিল্পেও কাজের অনুমতি পাওয়া যায়।"

কেয়ার গিভার এবং হাজার খানেক ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া ইসরায়েলে একটা বড় ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও রয়েছে।

ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ভারত থেকে যেসব ইহুদি সে দেশে চলে গিয়েছিলেন, তাদের সংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজার, এমনটাই জানিয়েছে তেল আভিভের ভারতীয় দূতাবাস।

তারা বলছে পঞ্চাশ এবং ষাটের দশক থেকে মহারাষ্ট্র, কেরালা আর কলকাতা থেকে এইসব ভারতীয় ইহুদিরা ইসরায়েলে চলে যান। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকেও অনেক ইহুদি ইসরায়েল গেছেন।

'কেয়ার গিভা-এর কাজ ছাড়া অন্য কাজের অনুমতি দেয় না ইসরায়েল' : সোমা রভি

ছবির উৎস, Soma Ravi

ছবির ক্যাপশান, 'কেয়ার গিভার-এর কাজ ছাড়া অন্য কাজের অনুমতি দেয় না ইসরায়েল' : সোমা রভি

‘বেশিরভাগ ফিরতে চান না’

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

সোমা রভি বিবিসি বাংলাকে বলেন, দেশে ফিরতে আগ্রহী এমন ভারতীয়র সংখ্যা খুব বেশি হবে না বলেই তার ধারণা। মি. রভি গত ১৮ বছর ধরে ইসরায়েলে চাকরি করেন।

তেল আবিবের শহরতলী রামাতগান এলাকার বাসিন্দা মি. রভির কথায়, “পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না এখনই খুব বেশি ভারতীয় দেশে ফিরতে চাইবেন। মূলত ছাত্র-ছাত্রী বা গবেষকদের একটা অংশ হয়তো ফিরে যেতে চাইবে, কিন্তু আমরা যারা চাকরি করি এখানে, তাদের ভারতে ফিরে যাওয়ার খুব একটা ইচ্ছা আছে বলে মনে হচ্ছে না এখনও।

“প্রথম দুদিনের পরে আমি যেখানে থাকি বা তেল আবিব শহরে খুব একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তো নয়। মিসাইল হামলা দেখে আমরা অভ্যস্ত। হামলার আগে সাইরেন বাজলে বাঙ্কারে চলে যাই, কয়েক মিনিট পরে বেরিয়ে আসি"

"এবারেও তো আমার এলাকায় এখন সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তবে আমার জায়গাটা থেকে আরও প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে কিবুৎজ, বেরি, নিরোস বা রেইম অঞ্চলে যারা থাকে, তাদের জন্য পরিস্থিতিটা বেশ খারাপ,” জানাচ্ছিলেন মি. রভি।

তিনি বলছিলেন, ইসরায়েলে ভাল বেতন, অনেক সুবিধা আছে। তাই কাজ ছেড়ে এখনই দেশে ফিরতে আগ্রহী নয় বেশিরভাগ ভারতীয়।

“আর ফিলিস্তিন এলাকায় বেথলেহেমে বেড়াতে এসেছিলেন চেন্নাইয়ের বাসিন্দা ৭৩ বছর বয়সী এক নারী, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দেশে ফিরে যেতে চান বলে। তবে প্রথম ফ্লাইটে সম্ভবত তার জায়গা করে দেওয়া যাবে না। পরবর্তী কোনও একটা বিমানে তাকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করব,” বলছিলেন সোমা রভি।

তেল আভিভের ভারতীয় দূতাবাসের কন্ট্রোল রুম

ছবির উৎস, Embassy of India, Tel Aviv/ X

ছবির ক্যাপশান, তেল আবিবে ভারতীয় দূতাবাসের কন্ট্রোল রুম

কন্ট্রোল রুম, হেল্প লাইন

তেল আবিবে ভারতীয় দূতাবাস বা রামাল্লায় ভারতীয় প্রতিনিধির দপ্তর থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। খোলা হয়েছে হেল্প লাইনও।

সোমা রভি বলছিলেন, “বুধবার ভারতীয়দের যে সব সমিতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। রেজিস্ট্রেশন করানোর ব্যাপারে জোর দিচ্ছেন তারা।

"যদি হঠাৎ কোনও হামলা বা নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হয়, তাহলে দ্রুত যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে রাখছে। কর্মকর্তারা সমিতিগুলির সদস্যদের মধ্যে এই কথাটা জানানোর জন্য বার বার বলছেন,“ জানাচ্ছিলেন মি. রভি।