নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের, সাকিবের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

শনিবার সকালে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

ছবির উৎস, PID

ছবির ক্যাপশান, শনিবার সকালে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সরকারবিরোধী অবস্থানের মধ্যেই শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য তিনটি আসন থেকে ফরম কিনেছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি।

শনিবার সকালে সাড়ে দশটার দিকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তাঁর প্রতিনিধিরা।

এর কিছুক্ষণ পর থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেন।

নৌকার মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাকিব

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য তিনটি আসন থেকে ফরম কিনেছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

শনিবার দুপুরে সাকিব আল হাসানের পক্ষে একজন প্রতিনিধি তিনটি আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি কমিটির একজন সদস্য সিদ্দিকী নাজমুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ঢাকা-১০ আসন থেকে সাকিব আল হাসানের একজন প্রতিনিধি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

এছাড়া সাকিবের জন্য মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনের মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করা হয়েছে। সাকিব আল হাসানের বাড়ি মাগুরাতে।

সাকিব আল হাসানের একজন আত্মীয় (নাম প্রকাশ করা হয়নি) বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকাকে বলেছেন, ‘’মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সাকিব বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। দেশে ফিরে তিন দিন পর মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।’’

সাকিব আল হাসান যেসব আসন থেকে ফরম কিনেছেন, তার মধ্যে ধানমণ্ডি-হাজারীবাগ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

এছাড়া মাগুরা-১ আসনটি শ্রীপুর, মাগুরা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান। অন্যদিকে শালিখা উপজেলা, মহম্মদপুর উপজেলা ও সদর উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত মাগুরা-২ আসন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সমর্থকদের সাথে নিয়ে মিছিল করে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র নিতে আসেন
ছবির ক্যাপশান, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সমর্থকদের সাথে নিয়ে মিছিল করে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র নিতে আসেন

মনোনয়ন বিক্রির প্রথমদিনে যা দেখা গেল

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায় গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে। দুপুর বারোটার পর থেকেই বিভিন্ন আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করতে করতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকের সাথে নেতা-কর্মীরাও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার জন্য। এরকম পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়ে যান আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। এর প্রভাবে আশেপাশের কয়েকটি রাস্তাতেও ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।

কার্যালয়ের ভেতর থেকে হ্যান্ড মাইকে বারবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না। কার্যালয়ের ভেতরে প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ না করতে অনুরোধ করা হলেও সেই অনুরোধ মানছিলেন না প্রায় কেউই।

দুপুরে এক পর্যায়ে কিছুক্ষণের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের গেইট ও আশেপাশের এলাকায়। পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয় অপ্রয়োজনে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান না নিতে ও রাস্তায় জটলা না করতে। তবে পুলিশ কয়েক দফা অনুরোধ করেও কার্যালয়ের সামনে থেকে নেতাকর্মীদের সরাতে পারেনি।

সেসময় কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর দুপুর একটার কিছুক্ষণ পর আবারো শুরু হয় মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যক্রম।

তবে মনোনয়নপত্র কেনাকে ঘিরে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা শহর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে আসা নেতাকর্মীদের অনেকেই বলছিলেন যে পাঁচ বছর পর পর এই ‘নির্বাচনের মৌসুমকে ঈদের মত’ খুশির উপলক্ষ মনে করেন তারা।

১৮ থেকে ২১শে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমার কার্যক্রম
ছবির ক্যাপশান, ১৮ থেকে ২১শে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমার কার্যক্রম

বিএনপির বর্জন কীভাবে দেখছে নেতাকর্মীরা?

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শুরু থেকেই বলে আসছেন যে কোনো নির্দিষ্ট দল নয়, জনগণ অংশগ্রহণ করলেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্বাচন কমিশনও এখন পর্যন্ত একই ধরনের কথা বলে এসেছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মনে করছেন অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বা না করার সাথে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা, সেটির সম্পর্ক নেই।

মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা পিরোজপুরের একজন আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হোসেন বলছিলেন, “তাদের (বিএনপি) তো নির্বাচনে আসতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। তারা নির্বাচন করতে না চাইলে সেটাও তাদের বিষয়। কিন্তু অসাংবিধানিক দাবি করে নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চাইলে তা মেনে নেয়া হবে না।”

সকালে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা অনেকটা এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসা একজন প্রার্থীর গাড়ি
ছবির ক্যাপশান, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসা একজন প্রার্থীর গাড়ি

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে সাধুবাদ জানান। আর ‘যেসব দলের জনগণের ওপর আস্থা নেই, তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে যাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেসময় তিনি বলেন, “নির্বাচন ঠেকানোর নামে এর আগে ২০১৩-১৪ সালে অগ্নি সন্ত্রাস দেখেছি আমরা। যারা এমন ধ্বংসাত্মক কাজ করছে, এদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে দেশবাসীর। আমরা চাই জনগণের ভোটের অধিকার অব্যাহত থাকবে ও ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হবে।”

প্রসঙ্গত, ১৫ই নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো তফসিল বর্জনের ঘোষণা দেয়। শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক দফা দাবিতে কয়েকমাস ধরেই আন্দোলন করে আসছে এই দলগুলো।

তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচনে ভোট পড়ার হার তুলনামূলক কম হতে পারে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেকে। অন্যতম প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে না থাকলে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কিছুটা অনাগ্রহী হয়ে পড়ে বলে মনে করেন তারা।

“তখন তো (বিরোধী দল না থাকলে) খেলাটা একতরফা হয়ে যায়। সবাই জানেই যে কারা জিতবে, তাই আর সেটা নিয়ে আগ্রহ থাকে না। মানুষের ভোট দেয়ার ইচ্ছাটাও খুব একটা থাকে না,” বলছিলেন খুলনা থেকে আসা একজন আওয়ামী লীগ কর্মী।

উদাহরণ হিসেবে গাজীপুর, খুলনা ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। গত ছয় মাসের মধ্যে হয়ে যাওয়া এই তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই ভোট প্রদানের হার ছিল পঞ্চাশ ভাগের আশেপাশে।

যদিও গাজীপুর সিটি নির্বাচন ছাড়া অন্য দুটি ক্ষেত্রেই যে পরিমাণ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, পরাজিত প্রার্থীরা সেই দাবির বিরোধিতা করেছিল।

অ্যাভিনিউ ও আশেপাশের এলাকায় সারাদিনই ছিল যানজট
ছবির ক্যাপশান, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও আশেপাশের এলাকায় সারাদিনই ছিল যানজট

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের, পরোক্ষ চাপকে অনেকটা উপেক্ষা করেই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।

কোন ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে ২০১৪ সালের মত আরেকটি একতরফা নির্বাচন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

পনেরই নভেম্বর তফসিল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক মতভেদের’ অবসান ঘটানোর আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কোনো দলের পক্ষ থেকেই সংলাপ আয়োজন করার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।