পোষা প্রাণীর ওপর কর আরোপ ডিএসসিসির, পথ কুকুরদের ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জে

    • Author, সানজানা চৌধুরী
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) পোষা প্রাণীর জন্য কর আরোপ করলেও কিভাবে এই কর আদায় করা হবে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কোন পরিকল্পনা বা নিয়মের কথা তারা জানাতে পারেনি।

ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ সিটির আওতায় কেউ কুকুর পুষলে করলে প্রতি কুকুর বাবদ ৫০০ টাকা এবং কেউ ঘোড়া ও হরিণ পালন করলে প্রতিটির জন্য বছরে ১০০০ টাকা করে কর দিতে হবে।

অন্যদিকে কারও যদি এসব প্রাণীর শেল্টার হোম বা ফসটার কেয়ার থাকে তাহলে তাদের ক্ষেত্রেও প্রতি প্রাণী বাবদ এই কর প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন, ডিএসসিসি’র উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহজাহান আলী।

‘সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল ২০১৬’-এর গণ-বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কুকুর, হরিণ, ঘোড়া এই তিনটি পোষা প্রাণীর জন্য বার্ষিক কর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এতদিন তা কার্যকর ছিল না।

এর বাইরে অন্য কোন পোষা প্রাণী যেমন বেড়াল, খরগোশ, মাছ, পাখি, গরু, মুরগি ইত্যাদি পোষার ক্ষেত্রে কর আরোপের কথা বলা নেই।

তবে কেউ যদি অ্যাকুরিয়ামের মাছ/পশু (বন্যপ্রাণী ব্যতীত) বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবসা করেন তাহলে তাদের বড় মাছ/পশু বাবদ ১০০০ টাকা এবং ছোট মাছ/পশু বাবদ ৫০০ টাকা কর দেয়ার কথা বলা আছে।

বিজ্ঞপ্তিতে এসব পোষা প্রাণীর মালিকদের স্ব স্ব অঞ্চলের রাজস্ব বিভাগের বিবিধ আদায় শাখায় উল্লিখিত হারে কর ও এর উপর ১৫% ভ্যাট দিতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন

নিবন্ধনের নিয়ম ও সুবিধা

নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হলেও লাইসেন্সের আবেদন করার নিয়ম, কেউ নিবন্ধন না করলে কোন শাস্তির বিধান আছে কিনা এমন তথ্যই জানাতে পারেনি ডিএসসিসি।

নিবন্ধনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে তারা জানান।

তবে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, কেউ যদি এখন নিবন্ধন করতে চান তাহলে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরিনারি শাখা থেকে সশরীরে গিয়ে ফরম সংগ্রহ করতে হবে।

সেখানে পশুর নাম, জাত, লিঙ্গ, বয়স, রঙ, শনাক্তকারী চিহ্ন, টিকা দেয়ার তারিখ, মালিকের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে।

সেটি পূরণ করে প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তার থেকে অনুমোদনের সিল নিতে হবে।

এরপর রাজস্ব বিভাগে সেই অনুমোদিত ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই নিয়ম পরে পরিবর্তিত হতে পারে।

সামনের বছর থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন শাহজাহান আলী।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তথ্যানুযায়ী, ডিএসসিসির আওতায় ১২৮টি পোষা কুকুর, ১৪৫টি হরিণ ও ৪৬টি ঘোড়া রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব পোষা প্রাণীর মালিকদের চিঠি দিয়ে করের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে ২৭টি পোষা প্রাণীর মালিক কর জমা দিয়েছেন।

যদিও এই ডাটাবেস অনেক পুরনো। এসব প্রাণীর অনেকগুলোই ইতোমধ্যে মারা গিয়েছে বলা জানা যায়।

করের সুবিধা অসুবিধা

কর বাবদ পাওয়া অর্থ ওই পোষা প্রাণীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফজল শামসুল কবির।

ঢাকা দক্ষিণের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা এ কে এম সালেহ রহমান জানান, কুকুর, হরিণ ও ঘোড়ার লাইসেন্স নিলে এর মালিকরা সিটি ভেটেরিনারি উপ-শাখা থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। এরমধ্যে রয়েছে রুটিন চেকআপ, কি খাবার খাবে, গর্ভবতী থাকাকালীন সেবা ইত্যাদি।

আবার কারও পোষা প্রাণীটি হারানো গেলে সেটি খুঁজে পেতেও এই নিবন্ধন কাজে আসবে।

তবে এর আওতায় বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া বা গুরুতর রোগ/ দুর্ঘটনার চিকিৎসা আওতাভুক্ত হবে না।

মি. রহমান জানান, ভ্যাকসিন শুধুমাত্র পথ কুকুরদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে সরকার যদি টিকার যোগান দেন করে তাহলে অবশ্যই নিবন্ধিত কুকুরদের বিনামূল্যে টিকা দেয়া হবে।”

সিটি কর্পোরেশনের এই কর আরোপের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো।

তাদের মতে, এই কর আরোপের ফলে যারা এক সময় স্বেচ্ছায় রাস্তার কুকুর লালন পালনের দায়িত্ব নিতো তারা পিছিয়ে পড়বে।

তাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মি. কবির বলেন, “একটি কুকুর, হরিণ বা ঘোড়া পালতে বছরে যে পরিমাণ খরচ হয়, সে হিসেবে বছরে ৫০০ টাকা বা ১০০০ টাকা কর কিছুই না।"

"এতে বরং তারা সিটি কর্পোরেশনের পশু চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারবে। তাদের পোষা প্রাণীটি নিবন্ধিত থাকায় আইনগত কাঠামোর আওতায় চলে আসবে। একে নেতিবাচক-ভাবে দেখার কিছু নেই। উন্নত বিশ্বে এমনটাই হয়ে থাকে।” তিনি বলেন।

তবে বার্ষিক ৫০০ বা ১০০০ টাকা দেয়াকে কর না বলে বরং নিবন্ধন ফি হিসেবে উল্লেখ করা যৌক্তিক বলে মনে করছেন সিডিসির জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল বিভাগের ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন বিশেষজ্ঞ এম মুজিবর রহমান।

সাধারণত বাংলাদেশে বিদেশ থেকে এনে যেসব বিদেশি কুকুর পালন করা হয়, সেগুলো জন্য কোন প্রজনন নীতি নেই। এই নিবন্ধন ফি যুক্ত হলে পিওর ব্রিড নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

কুকুরের হামলা বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জে

বাংলাদেশে জলাতঙ্ক কমলেও এখনও প্রতিবছর কুকুরের কামড়ে দুই লাখেরও বেশি মানুষ আহত হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, যাদের বেশিরভাগই শিশু।

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিনশ মানুষ পশুর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসেন। এরমধ্যে প্রায় শতভাগই কুকুরের আক্রমণের শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

কিন্তু রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের কামড় থেকে মানুষকে রক্ষা করার ব্যাপারে তারা রীতিমত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এক সময় কুকুর নিধন বা অপসারণ করা হলেও বর্তমানে সেটি আইনে নিষিদ্ধ।

আবার কুকুরের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে নিউটার বা স্টেরিলাইজ করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না।

ফলে নগরের বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে নাগরিক বিড়ম্বনা সুরাহা করাটাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর একটি বড় অংশ রয়েছে, ঢাকা মহানগরীতে।

ঢাকার এই পথ কুকুরগুলো অপসারণ নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

এক পক্ষ বলছে, নাগরিকদের নিরাপত্তায় শহরের সব বেওয়ারিশ কুকুর ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। আবার আরেকটি পক্ষ একে অমানবিক বলে বিরোধিতা করছে।

গত সেপ্টেম্বরে ঢাকা দক্ষিণ থেকে কয়েক হাজার কুকুর সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তবে পশু-প্রেমী নানা সংগঠন ও ব্যক্তি এই উদ্যোগের সমালোচনা করেন। হাইকোর্টে রিটও হয়। এতে থেমে যায় নগর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ।

উপায় কী

প্রাণী-কল্যাণ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষ ও কুকুরের সহাবস্থানে রয়েছে।

এদেরকে নিধন বা অপসারণ না করে দুটি পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

প্রথমত, নিয়মিত জলাতঙ্কের গণ-টিকা দেয়া এবং দ্বিতীয়ত নিউটার বা বন্ধ্যা-করণের আওতায় আনা।

 সাধারণত একটি এলাকার যদি ৭০ শতাংশ কুকুরকে টিকার আওতায় আনা যায় তাহলে ৩০ শতাংশ কুকুরেও হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠবে বলে ধরা হয়। তখন শতভাগ কুকুর নিরাপদ হয়ে যাবে।

আবার কোন কুকুরকে একবার টিকা দিলেই সেটি সারা জীবনের জন্য নয় বরং শুধুমাত্র এক থেকে দুই বছরের জন্য নিরাপদ থাকে।

তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর অন্তত ৭০% কুকুরকে টিকা দেয়া জরুরি বলে তারা জানিয়েছেন।

“কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী করতে পারলে তারা কামড়ালেও আর বিপদ থাকবে না”- বলছেন প্রাণী অধিকার-কর্মীরা

তবে কুকুর বন্ধ্যা-করণ কর্মসূচি তেমন নিতে দেখা যায়। এই কর্মসূচিগুলো প্রায়ই সময় মত অর্থ ছাড় না হওয়ায় স্থগিত হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে রাস্তায় কুকুরগুলো খেয়ে, না খেয়ে, কিংবা বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে যেভাবে মানবেতর জীবন পার করে সেক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন এলাকাভিত্তিক টিম বিশেষজ্ঞ গঠন করে এদের দেখভাল করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাণী অধিকার কর্মীরা।

কিংবা বর্তমানে প্রাণীদের রক্ষায় যেসব স্বেচ্ছাসেবী দল কাজ করছে তাদের জন্য ফান্ডের ব্যবস্থা করতে পারে বলে জানিয়েছেন মিস হৃদি।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন

উন্নত বিশ্বের ফর্মুলা কি কাজ করবে?

উন্নত বিশ্বে নগরে কোন পথ কুকুর দেখা যায় না। সেখানকার নগর কর্তৃপক্ষ এদের দায়িত্ব নেয় এবং পথ কুকুর উদ্ধার করে সরকারের শেল্টার হোমে রাখে।

সেখান থেকে স্থানীয় মানুষরা তাদের দত্তক নিতে পারে।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন প্রাণী অধিকার-কর্মী দীপান্বিতা হৃদি।

তিনি জানান, “বাংলাদেশ প্রাণী বান্ধব দেশ না। এখানে মানুষ রাস্তার কুকুর বেড়ালের পালনে আগ্রহী নয়। ধর্মীয় দৃষ্টিতেও কুকুর নাপাক। ফলে এখনে শেল্টার পদ্ধতি কাজ করবে না। কারণ কেউ অ্যাডপ্টই করবে না।”

কুকুর ও মানুষের এই সহাবস্থান রাখাটাই বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ ক্ষেত্রে যৌক্তিক বলে তিনি মনে করছেন।

মিস হৃদি বলেন, “ভুটান, নেপাল, তুরস্কের মতো অনেক দেশেই রাস্তায় কুকুর/বেড়াল রয়েছে। নিয়মিত ভ্যাকসিন দিলে, বন্ধ্যা-করণ ব্যবস্থা নিলে এদের সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে আর রোগ বিস্তারের কোন ঝুঁকিও থাকবে না।”

স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব এসব বেওয়ারিশ কুকুর হত্যা না করে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এদের পুনর্বাসন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, " রাস্তায় রাস্তায় যথেচ্ছভাবে সুস্থ-অসুস্থ কুকুর ঘুরে বেড়ায়, অনেক মানুষ রাস্তায় ঘুমায় কিংবা বস্তিতে থাকে। সে অর্থে সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে যাবার ঝুঁকি থাকে। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ আমাদের ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে।”

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ভেটেরিনারি কর্মকর্তা এ কে এম সালেহ রহমান জানিয়েছেন, ডিএসসিসি এরিমধ্য ধাপে ধাপে কুকুর অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে শিগগিরই নিজস্ব উদ্যোগে কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি শুরু করার কথাও জানান তিনি।

জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে এসেছে যেভাবে

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, বাংলাদেশে কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখের মতো। এর ৮৩% বেওয়ারিশ।

২০২১ সালের হিসাবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মুক্ত ভবঘুরে কুকুরের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৭৭৮টি।

বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে প্রধান আশঙ্কা জায়গাটি হল এটি কামড় দিলে জলাতঙ্ক রোগ ছড়াতে পারে।

জলাতঙ্ক আরও বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে হতে পারে। তবে এর সংক্রমণে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে দায়ী থাকে কুকুর।

জলাতঙ্ক বা ইংরেজি ভাষায় র‍্যাবিস এমন এক রোগ যাতে আক্রান্ত হলে মৃত্যু প্রায় অনিবার্য তবে টিকা নিলে প্রায় শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন, সিডিসির রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক নাজমুল ইসলাম।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগ গত এক দশক ধরে জলাতঙ্ক, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল নিয়ে কাজ করায় গত এক দশকে জলাতঙ্কের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

টিকা নেয়ার সচেতনতা বাড়ায় এক দশকে জলাতঙ্ক সংক্রমণ ৯০% কমেছে।

ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বছর অন্তত ২০০০ মানুষ জলাতঙ্কে মারা যেতো।

এরপর জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে ২০১৮ সালে জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যা কমে ৫৭, ২০১৯ সালে ৫৭ এবং ২০২০ সালে সেটি ২৬ জনে নেমে আসে।

সবশেষ ২০২২ সালের ২২শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩২টি জলাতঙ্কের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিডিসির ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন বিশেষজ্ঞ এম মুজিবর রহমান।

এই কর্মসূচির আওতায় সিডিসি কর্তৃক সারাদেশের সব জেলা সদর হাসপাতাল, চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি হাসপাতাল চট্টগ্রাম, ঢাকার মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ছাড়াও ২৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যেখানে কুকুরের কামড়ে আক্রান্তদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বিনামূল্যে তিন ডোজ অ্যান্টি র‍্যাবিস ভ্যাকসিন এবং কামড়ের ক্যাটাগরি বা কামড়ের গভীরতা নির্ধারণ করে র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লবুলিন বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।

আগে চার ডোজ টিকা দেয়া হলেও, চতুর্থ ডোজ টিকাটি উঠে গিয়েছে। এক মাস পরে দেয়ার কারণে অনেকেই সেই ডোজটি নিতেন না। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয় তিন ডোজেই যথেষ্ট প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বছরে জলাতঙ্ক থেকে বাঁচতে বছরে ৭০ থেকে ৭৮ হাজার মানুষ টিকা নিতে আসে বলে জানা যায়। এই রোগীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই ঢাকার।

এদিকে প্রাণী সম্পদ অধিদফতর ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ম্যাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন যেটি বৈজ্ঞানিক ভাষায় স্বীকৃত ব্যাপকভাবে কুকুরকে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

২০১১ সালে জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে (বর্তমানে জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি ) একটি কুকুরকে তিন ডোজ টিকা দিতে বলা হয়।

সে হিসেবে গত ১০ বছরে তিন রাউন্ড টিকার আওতায় ২৪ লাখের বেশি কুকুরকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানায় সিডিসি।

এরমধ্যে প্রথম রাউন্ড টিকা সারা বাংলাদেশে অর্থাৎ ৬৪টি জেলায় দেয়া হয়েছে।

২৭টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ড ও ৮টি জেলায় তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া কার্যক্রম এখনও চলমান।

তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে তিন ডোজ টিকা দেয়াই সম্পন্ন হয়েছে। সবশেষ ৬৩ হাজার ৩৯টি কুকুরকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অপারেশনাল প্ল্যান জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কমসূচি।