নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবির উৎস, Getty Images
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে একজন গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ১০ অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। অন্য ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মুর্তজা আলী পাটোয়ারি বিবিসি বাংলাকে জানান, রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, “এ ধরনের অপরাধ সমাজের বিরুদ্ধে, নৈতিকতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুধু ভিকটিম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নয়, বরং পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কঠোর শাস্তি না দিলে অপরাধ কমবে না। তাই এ রায় দেয়া হলো” ।
এ রায়ের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ ।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবী হারুন হাওলাদার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
রায় ঘোষণার দিনে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সকাল দশটার দিকে নোয়াখালি জেলা কারাগার থেকে ১৫ জন আসামিকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।
এর আগে গত ১৬ই জানুয়ারি রায়ের দিন নির্ধারণ থাকলেও রায় লেখার কাজ শেষ না হওয়ায় রায়ের দিন পেছানো হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের নেতৃত্বে স্বামী, সন্তানদের বেঁধে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
জাতীয় নির্বাচনের রাতে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী সেই সময় অভিযোগ করেছিলেন, ভোটকেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের পছন্দের নৌকার প্রতীকে ভোট না দেয়ার রোষে ওই হামলা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
সে সময় বিবিসিকে তিনি বলেছেন, হামলাকারীদের সঙ্গে তার শত্রুতা ভোটের আরো আগে থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় থেকেই।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে চরজব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরের বছরের ২৭শে মার্চ তদন্ত শেষে রুহুল আমিন মেম্বারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
এ মামলায় ১৫ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছে। এক আসামি মো. মিন্টু ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
ওই সময় ঘটনার পর থেকেই আওয়ামী লীগ বলেছিলো, দলীয়ভাবে তার কোন দায়িত্ব নেয়া হবে না।
পরে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, একটি অপরাধকে রাজনৈতিক আবরণ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় রুহুল আমিনকে।
ওই ঘটনার পরে ২০২০ সালে ২রা সেপ্টেম্বর আবারো নোয়াখালির বেগমগঞ্জে একজন গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রায় এক মাস পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয় পুলিশ।
বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের জের ধরে ২০২০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়।












