গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইসরায়েলের অনুমোদন, তবে হামলা কি চলছে?

ছবির উৎস, Alex Wong/Getty Images
গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত এই পরিকল্পনাকে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি' বলে অভিহিত করে তিনি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং মি. ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এরা দু'জনেই প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
যুদ্ধবিরতি এবং হামাসের কাছে থাকা জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি এই চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে ইসরায়েলও শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে।
গাজার কিছু অংশ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু এবং গাজায় প্রতিদিন ত্রাণ সামগ্রীবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেওয়ারও কথা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি আশা করছেন যে "সোমবার বা মঙ্গলবারে বাকি জিম্মিদের মুক্তি" দেওয়া হবে।
এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নজর রাখতে বহুজাতিক সেনা মোতায়েন করা হবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে তারা গাজায় প্রবেশ করবে না। যুদ্ধবিরতি এবং অন্যান্য লঙ্ঘন হচ্ছে কি না সেই বিষয়ে নজর রাখবে।
তবে ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজার 'অনেক জায়গায়' বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
শান্তির পথে ২৪ ঘন্টা
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনায় হামাস ও ইসরায়েলের সম্মতির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা কেটে গেছে। বিষয়টিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর যুদ্ধবিদ্ধস্ত গাজায় আনন্দের মুহূর্ত চোখে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনন্দের বার্তা এসেছে।
এই অগ্রগতির প্রথম আভাস মিলেছিল নয়ই অক্টোবর। একটি চিরকুট এবং কান ফিসফিসানির হাত ধরেই মিলেছিল প্রথম সংকেত।
বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে (বিএসটি) ট্রাম্পের কাছে ওই চিরকুট পৌঁছে দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সেই সময় সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন মি. ট্রাম্প। তার কানে মৃদুস্বরে কিছু বলতে শোনা যায় মি. রুবিওকে।
তারপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছি।"
তারপর মধ্যরাতের ঠিক আগে (বিএসটি) 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি পোস্টে মি. ট্রাম্প ঘোষণা করেন, "ইসরায়েল এবং হামাস উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় নিয়ে সম্মত।"
এদিকে, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর নিশ্চিত করে যে তারা রাত ৯টা ৩০ মিনিটের (বিএসটি) ঠিক আগে জিম্মি মুক্তির পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
কী কী হওয়ার কথা?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধবিরতি হবে এবং সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে একটি নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। গাজায় সহায়তা ও ত্রাণ সামগ্রীবাহী ট্রাক ঢুকতে দেওয়া হবে।
হামাসের হাতে থাকা জিম্মি ও ইসরায়েলের হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। দু'পক্ষই মৃতদেহ ফিরিয়ে দেবে।
গাজায় রয়েছেন এমন ৪৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে, যাদের মধ্যে ২০ জন এখনো জীবিত রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে ।
এই পরিকল্পনার হাত ধরেই ইসরায়েল ১,৭০০ ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিশ্বজুড়ে স্বস্তির ছাপ দেখা যায়।
বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লাইস ডুসেট জানিয়েছেন গাজার ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তা এবং ইসরায়েলের হোস্টেজেস স্কোয়ারে উল্লাসের মুহূর্তও দেখা যায়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ছবির উৎস, Reuters
যুদ্ধবিরতি কি কার্যকর হয়েছে?
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদদাতা জেরুজালেম থেকে জানিয়েছেন, চুক্তি অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টা পর, শনিবার ভোরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এর সূচনা হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। ইসরায়েলের হাতে বন্দি শত শত ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে।
হামাসের নির্বাসিত গাজা প্রধান খলিল আল-হাইয়া বলেছেন যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে এই বিষয়ে নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছে।
এর আগে, ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার ফক্স নিউজকে বলেছেন যে ইসরায়েলি সরকার চুক্তি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর "অবিলম্বেই" যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
কিন্তু ফিলিস্তিনি তথ্য কেন্দ্র থেকে মেলা তথ্য অনুযায়ী, এরপরেও গাজায় সামরিক তৎপরতা দেখা গেছে। পশ্চিম গাজার আল-নাসর এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়, বোমা নিক্ষেপ করা হয়। গাজা সিটিতে বিমান হামলাও হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
শুক্রবার সকালেও হামলার একাধিক খবর পেয়েছে বিবিসি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন শুক্রবার সকালে খান ইউনিসে বিমান হামলা হয়েছে। উত্তরে নেটজারিম করিডোরের আশেপাশেও হামলার খবর মিলেছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার সংবাদদাতারা শুক্রবার ভোরে খান ইউনিসে বোমা হামলার খবর জানিয়েছেন।
গাজা শহরে আরও হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে যেখানে প্রত্যক্ষদর্শীরা সিএনএনকে আল-সাব্রা এবং তাল আল-হাওয়া এলাকায় গোলাবর্ষণের কথা জানিয়েছেন।
রয়টার্সের ফুটেজে স্থানীয় সময় আনুমানিক ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে আলোর ঝলক এবং তারপরে একটি বিস্ফোরণের দৃশ্য ধরা পড়েছে।
এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।
চুক্তির পরবর্তী পর্যায়ে সম্ভাব্য জটিলতা
বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জুম্মিদের মুক্তি সংক্রান্ত চুক্তির পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনার সময় একাধিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর কারণগুলো হলো-
হামাস ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র চায়
তারা আগেই জানিয়েছে যে একমাত্র ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেই নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সম্মত হবে, নচেৎ নয়। যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সামাস নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনো উল্লেখ করেনি, যা এই জল্পনাকে আরো উসকে দিয়েছে যে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি।
বরং হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা, "ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি আন্দোলনের" অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে গাজায় ভূমিকা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করার বিষয়ে আশাবাদী।
নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে জড়াতে চান না
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত পূর্ণ পরিকল্পনায় সম্মতি জানালেও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে। এই বিষয়টি তিনি আবার স্পষ্ট করে দেন।
গত সপ্তাহে তাকে জোর দিয়ে বলতে শোনা যায় যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই অঞ্চল পরিচালনায় কোনও ভূমিকা পালন করবে না।
ইসরায়েল কখন সম্পূর্ণরূপে সেনা প্রত্যাহার করবে?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার কথা।
এই বিষয়ে ইসরায়েল জানিয়েছে প্রথম ধাপে সেনা প্রত্যাহারের পর গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যদিও হোয়াইট হাউজের পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে আরও ৪০ শতাংশ, তারপর আরও ১৫ শতাংশ এলাকায় সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
এরপর চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি "নিরাপত্তা পরিধির" মধ্যে থাকবে যা "যতক্ষণ না গাজা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা সন্ত্রাসের ঝুঁকি থেকে সঠিকভাবে সুরক্ষিত না হচ্ছে" ততক্ষণ পর্যন্ত থাকবে।
এখানে বেশ কিছু অস্পষ্ট রয়েছে। যেমন ইসরায়েলি সেনার সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জন্য কোনো স্পষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। হামাস এই বিষয়ে স্পষ্টতা চাইতে পারে।
বহুজাতিক সেনার নজরদারি
যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী বহুজাতিক বাহিনী সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানিয়েছেন বিবিসির মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সংবাদদাতা টম বেটম্যান।
তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইসরায়েলে একটি বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ ট্রুপ সেনা থাকবে। এতে মিশর, কাতার এবং তুরস্ক সহ আরব ও মুসলিম দেশগুলোর বাহিনী অন্তর্ভুক্ত থাকবে যারা যুদ্ধবিরতি পালন এবং যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের খবর দেবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, কোনো মার্কিন বাহিনী গাজায় প্রবেশ করবে না।
এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে থাকছে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড, যা এই অঞ্চলে অবস্থিত এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতি তদারকি করবে এবং মানবিক সহায়তা সমন্বয় করতেও সাহায্য করবে।

আনন্দিত এবং একই সঙ্গে ভীত গাজার এক মা
গাজার বাসিন্দা বছর ২২-এর লায়লা এজ্জাত আল শানা জানিয়েছেন, যুদ্ধ বিরতির খবরে তিনি আনন্দিত। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি শোকেও আচ্ছন্ন।
যুদ্ধবিরতি হতে চলেছে এই খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে হামলা হয়। এই ঘটনায় ৪০ জন ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
গাজার এই মা বলেছেন, "আজ দিনটি খুব সুন্দর ছিল, কারণ তারা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।"
"লোকে চিৎকার করছিল, গান গাইছিল। কিছু মানুষ আনন্দের জন্য আকাশে বন্দুক ছুঁড়ছিল, কয়েকজন নারী কাঁদছিল।"
এই উদযাপনের কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, "দুই বছর পরও আমরা বেঁচে আছি! আমরা এই গণহত্যা থেকে বেঁচে গেছি।"
তার অভিযোগ শেষ ঘণ্টাগুলোতেও ইসরায়েল "গণহত্যা" অব্যাহত রেখেছে। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের তরফে বোমাবর্ষণের শব্দ সারা দিন ধরেই অব্যাহত ছিল।
যুদ্ধে চলাকালীনই সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন আল শানা। এই সময়কালে পরিবারের অনেক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তার বাবা, চাচা এবং বেশ কয়েকজন চাচাতো ভাইবোনও রয়েছেন।
তিনি তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তটির কথা বর্ণনা করেছেন তিনি। বাড়িতে তার নবজাতককে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন, সেই সময় তার বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় বোমা বর্ষণ হয়।
তিনি বলেছেন, "হঠাৎ বোমা হামলার বিকট শব্দ শুনতে পাই এবং দেখি ঘর ধুলোয় ভরে গেছে।"
"একটা সময় আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না, কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম না। আমার ছেলে এবং আমি ঘরেই ছিলাম। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম যে আমরা ঘরের ভেতরে রয়েছি। সেই রাতে অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলাম আমরা।"
তবে ভবিষ্যতের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করতে গাজা-মিশর সীমান্ত খুলে দেওয়ার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
'আমাদের এই মুহূর্ত কাজে লাগাতে হবে'
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বর্তমানে রিয়াদে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা যেন সমগ্র অঞ্চলে জীবন রক্ষাকারী কাজের এবং লাখো মানুষের জীবন বাঁচানোর ভিত্তি হয়ে ওঠে।
তার কথায়, "এই মুহূর্তকে আমাদের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ় সংকল্প এবং উদারতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।"
মি. ফ্লেচার জানিয়েছেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য তাদের ২০ শতাংশেরও কম ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি আছে।
তার মতে যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা ফলপ্রসূ তখনই হবে যখন অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরাপদ রুটসহ উপত্যকায় প্রবেশের সব পথ খুলে দেওয়া হবে।
তিনি জানিয়েছেন সীমান্তে এক লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য সরবরাহ মজুত রাখা হয়েছে। গাজায় ২১ লাখ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন যেসব এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে শুধু সেখানেই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং অন্যান্য অঞ্চলে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা নয়, তাদের লক্ষ্য ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জল ও স্যানিটেশন, স্কুল পুনরুদ্ধার এবং আশ্রয়ের জন্য প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার তাঁবু সরবরাহ করতেও আগ্রহী জাতিসংঘ।








