আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
শেখ হাসিনার মামলার রায় আজ, রাতে বিভিন্ন জায়গায় ককটেল, বাসে আগুন, মশাল মিছিল
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এর প্রতিবাদে 'কমপ্লিট লকডাউন' কর্মসূচি পালন করছে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ।
এমন পটভূমিতে রবিবার রাতেও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন এবং মশাল মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।
সরকারের একজন উপদেষ্টার বাসভবনের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপের সাথে জড়িতদের গুলির নির্দেশ দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ আগেই জানিয়েছে, 'সব বিষয়কে মাথায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই'।
ঢাকায় কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে সরকারের দিক থেকে ঢাকা ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষ করে হাইকোর্ট এলাকায় ট্রাইব্যুনাল সংলগ্ন গেইটসহ পুরো এলাকায় বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে।
ককটেল বিস্ফােরণ, বাসে আগুন
ঢাকাসহ কয়েকটি মহানগর ও জেলায় পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী সমর্থককে আটকের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া আগে থেকেই পুলিশকে সহায়তার জন্য দেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা আছে।
পুলিশকে উদ্ধৃত করে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসা খবর অনুযায়ী, রবিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ওই স্থানের কাছেই শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের নেতাদের একাংশের সমন্বয়ে গঠিত এনসিপির প্রধান কার্যালয় ছিলো।
এর আগে রাত নয়টার দিকে ঢাকার সেন্ট্রাল রোড এলাকায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া ঢাকায় মধ্যরাতে তিতুমীর কলেজের সামনে সড়ক ও আমতলী মোড়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে বনানী থানা পুলিশ। ওই সড়কেই একটি বাসে আগুন দেয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
ঢাকার বাইরে ধামরাই ও সাভার উপজেলায় রাতে দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে, যদিও এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সিলেটে পাঠানটুলা এলাকায় কয়েকটি দোকানপাট ও গাড়ির ওয়ার্কশপে আগুন লেগেছে।
ওদিকে এমন পরিস্থিতির কারণে ঢাকার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ কিংবা অনলাইনে ক্লাস নেয়ার কথা শিক্ষার্থীদের জানিয়েছে।
বিক্ষোভ ও মশালমিছিল
রবিবার রাতে মাদারীপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মশালমিছিল করেছে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
ওই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এর আগে রোববার ভোরেও ওই মহাসড়কে গাছ কেটে অবরোধ করেছিলো আওয়ামী লীগের সমর্থকরা, যার ফলে ওই সড়কে কয়েক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো।
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন শৃঙ্খলা সম্পর্কিত নানা ঘটনা ঘটছে।
এর আগে ১৩ই নভেম্বর বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ ঘোষণার দিন আওয়ামী লীগের 'লকডাউন কর্মসূচি' চলাকালে নানা জায়গায় যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিলো।
এরপর আজ সোমবারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রবি ও সোমবার 'কমপ্লিট লকডাউন' পালনের কথা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, "সোমবার ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার রায়কে কেন্দ্র করে একটা মহল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার জন্য পাঁয়তারা করছে"।
আর জামায়াতসহ আট দলের এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রবিবার বলেছেন, সোমবার তারা মাঠে থাকবেন এবং কাউকে কোনো নাশকতা করতে দেবেন না।
ওদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে রবিবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
মি. মামুন এ মামলা 'অ্যাপ্রুভার' বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে কোনো আসামির এ ধরনের "অ্যাপ্রুভার" বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনের ঘটনা এটাই প্রথম বলে সেসময় জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক।