'রাতের ভোটের কারিগররা অধরা, আমলারাও আরামে'

রাতের ভোটের কারিগররা অধরা, আমলারাও আরামে — সমকালের প্রধান শিরোনাম এটি। খবরে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলের অন্যান্য অনিয়মের প্রতিকারে অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগ নিলেও নির্বাচনে জালিয়াতিতে জড়িতদের শাস্তির কথা নেই এখন পর্যন্ত।

এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ৬৭ রিটার্নিং ও ৫১২ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সবাই চাকরিতে রয়েছেন। সমকাল ১৩ জন সাবেক রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে, তবে সবাই বিষয়টি এড়িয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত ছয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। কয়েকজনকে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়েছে। বাকিরা আগের পদেই রয়েছেন।

এ নিয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, 'যেসব কর্মকর্তা চাকরিবিধি ও আইন লঙ্ঘন করে ভোট কারচুপিতে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের।'

তবে কবে কীভাবে এই ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি এ উপদেষ্টা।

এদিকে, গুম, গায়েবি মামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পুলিশ ও র‌্যাব ক্ষমা চাইলেও ভোট কারচুপিতে জড়িত আমলারা তা করেননি।

পুলিশের 'নির্বাচনী পদক' বাতিল করছে সরকার — আজকের পত্রিকার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ ১০৩ কর্মকর্তাকে ২০১৮ সালের জন্য দেয়া বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) বাতিল করা হচ্ছে।

এ-সংক্রান্ত ফাইল চালাচালি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই রাষ্ট্রীয় এই পদক প্রত্যাহার করা হবে।

ওই ১০৩ জনের পদক প্রত্যাহার করা হলে তা হবে নজিরবিহীন। কারণ, এর আগে কখনও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে একসঙ্গে এতজনের বিপিএম-পিপিএম পদক প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ সদস্যদের কাছে এসব পদক খুব সম্মানজনক ও মর্যাদার বলে বিবেচিত।

সূত্র বলেছে, এ পদক প্রত্যাহার ও পদকের সঙ্গে দেয়া টাকা ফেরত নিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশের ১০৩ পদস্থ কর্মকর্তাকে ঢালাওভাবে পদক দিয়ে রাষ্ট্রীয় পদকের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

বিভিন্ন মহল থেকে ওই নির্বাচনে রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

কবরস্থ হচ্ছে ৭২'র সংবিধান — যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের রক্ত দিয়ে পুরোনো ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করবে তরুণ ছাত্র-জনতা, এমনটা বলছেন ছাত্রনেতারা।

কাল ৩১শে ডিসেম্বর ঘোষিত হতে যাওয়া জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের মাধ্যমেই প্রতিফলন হবে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার। এর মধ্য দিয়ে ৭২'র সংবিধানের কবর রচিত হবে।

গতকাল রোববার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের করা সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা চাই, মুজিববাদী সংবিধানকে কবরস্থ ঘোষণা করা হবে। যেখান থেকে (শহীদ মিনার) একদফার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেই জায়গা থেকে মুজিববাদী বাহাত্তরের সংবিধানের কবর রচিত হবে।

জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের প্রাথমিক খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে— পাকিস্তান এই ভূমির মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশের মানুষ।

কিন্তু '৭২ সালের সংবিধান লাখ লাখ শহীদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে গণতন্ত্র ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার পথ প্রশস্ত করেছে।

শেখ হাসিনার শাসনাধীন সব মনোনীত বা নির্বাচিত অফিসের বিলুপ্তি, '৭২ সালের সংবিধানের সংস্কার বা বাতিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সংবিধানের পুনর্গঠনের দাবি তোলা হয়েছে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের খসড়ায়।

মানবজমিনের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— ৫ই অগাস্টের পর একটি দল ব্যাংক দখল করেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ নিয়ে এ সংবাদটি করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপির এ নেতা প্রশ্ন করেন, পাঁচই অগাস্টের পরে কি আমরা ব্যাংক আত্মসাৎ করতে দেখিনি?

"আমরা তো দেখেছি, ইসলামী ব্যাংকগুলো কীভাবে গ্রাস করে নিলো একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা। তাহলে আজকে কোন মুখে বলছেন, এক চাঁদাবাজরা পালিয়েছেন, আরেক চাঁদাবাজকে কেউ দেখতে চায় না।"

যাদের দিকে রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, তারা বিএনপির নামে কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

তরুণদের নয়া দলের ভিত্তি ২৪ দফা — কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।

২০২৪ সালে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ দফা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা সামনে রেখে দ্রুতই দলের ঘোষণা আসবে।

দল গঠনের পর রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর বাস্তবায়নে নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গণপরিষদ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগোবেন তারা।

আর সাংগঠনিক ও নীতিনির্ধারণী কাজ সম্পন্ন হলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দলের নাম ও নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে জানা গেছে।

অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী শিক্ষার্থীদের যারা সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তারা পদত্যাগ করে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হবেন— তা বলা হয়েছে এ খবরে।

আইএমএফের দর্শনেই চলছে দেশের অর্থনীতি — বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম এটি।

খবরে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন দেশের আর্থসামাজিক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রায় পাঁচ মাস হলেও অর্থনীতিতে বড় ধরনের নীতিগত কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। এখনও আইএমএফের দর্শনেই চলেছে দেশের অর্থনীতি।

লুটপাটের কারণে তলানিতে ঠেকা আর্থিক খাতে বিপর্যয় ঠেকাতে আইএমএফের দ্বারস্থ হয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বেশকিছু শর্ত বেঁধে দেয়া হয়। চাপ প্রয়োগ করা হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোসহ বেশকিছু খাতে ভর্তুকি কমিয়ে আনার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর দেয়া হয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণের।

বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করে দেয়া, নিট রিজার্ভ বাড়ানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত সংস্কার এবং ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ হ্রাসেও জোরারোপ দেয় আইএমএফ।

এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি তো হয়ইনি, উল্টো আরও জোরালো হয়ে জেঁকে বসে মূল্যস্ফীতি।

সংবাদের প্রথম পাতার একটি খবর— জুলাই ঘোষণাপত্র 'প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ', অন্তর্বর্তী সমরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই: প্রেস সচিব শফিকুল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ঘোষিত হতে যাওয়া 'জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র' এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

তিনি বলেছেন, ''এটি একটি প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ। আমরা এটিকে প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ হিসেবেই দেখছি। সরকারের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এটিকে সাপোর্ট করছেন, এটা প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভকে সাপোর্ট করছেন।''

এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হবে না।

Sacked servicemen hold sit-in, demand jobs back— ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম এটি।

খবরে বলা হয়েছে, চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা 'সহযোদ্ধা' নামের প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছেন।

এতে জাহাঙ্গীর গেট এলাকার সড়ক ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

তাদের দাবি, চাকরিতে পুনর্বহাল করা, যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের সরকারি সব সুযোগ-সুবিধাসহ সম্পূর্ণ পেনশনের আওতাভুক্ত করতে হবে এবং যেসব আইনি কাঠামো ও একতরফা বিচারব্যবস্থার প্রয়োগে শত শত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সেই বিচারব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে।

এ নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিক্ষোভকারী ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। তারা মনে করছে, এ ধরনের আদেশ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি ও অন্তরায়।

গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে সম্পাদকদের এ সংগঠন বলে, তথ্য বিবরণীতে আগে ইস্যু করা কার্ডগুলোর যে পর্যালোচনা ও পুনঃমূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে, তাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এসব কাজে প্রয়োজনে ও অপেশাদার সাংবাদিক শনাক্তে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু ঢালাওভাবে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে বাধা দেয়া সারা পৃথিবীতেই স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি আক্রমণ হিসেবে দেখা হয়। আওয়ামী লীগের সরকারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন ৫৭% ছাত্রী, ৩৪% ছাত্র — প্রথম আলোর দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিয়ে এ প্রতিবেদন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার ২২৬ জন। বিপরীতে আবাসিক হল ১৯টি, যার মধ্যে একটি বিদেশি শির্ক্ষাথীদের।

ঢাবিতে এখন ২১ হাজার ৩৮ জন ছাত্র, যা মোট শিক্ষার্থীর হিসাবে ৫৩ শতাংশ। তাদের জন্য আবাসিক হলে সিট ১৩ হাজার ৪৯৪টি।

আর ছাত্রীর সংখ্যা এখন ১৮ হাজার ৮৪৬ জন। ছাত্রীদের পাঁচটি আবাসিক হলে মোট সিট সংখ্যা ৪ হাজার ৮৪৩টি। ফলে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে ৫৭ শতাংশ ছাত্রী এবং ৩৪ শতাংশ ছাত্রকে।

এ কারণে শির্ক্ষাথীরা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিরাপত্তা নিয়েও থাকে নানা শঙ্কা। এছা্ড়া, অতিরিক্ত খরচ তো আছেই, যা তাদের শিক্ষা জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ অবস্থায় হল নিমার্ণের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না তেমন একটা। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ছাত্রদের জন্য 'বিজয় একাত্তর' হল উদ্বোধন হয়।