ছাত্ররা প্রাথমিক নিয়োগকর্তা, তারা যখন বলবে, আমরা চলে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে, সেটি দেশের মানুষের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ছাত্ররা তাদের (উপদেষ্টা পরিষদের) প্রাথমিক নিয়োগকর্তা, তারা যখন বলবে, তখন তারা চলে যাবেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেছেন তিনি।

এছাড়া, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই সব খাতের কর্মীদের দাবি নিয়ে না এসে একটু ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দেন প্রধানউপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে সবার সহযোগিতা করতে হবে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অধ্যাপক ইউনূস।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার ১৭দিন পর আজই প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অধ্যাপক ইউনূস।

২৬ মিনিট দীর্ঘ ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে সমর্থন দেয়ার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান অধ্যাপক ইউনূস।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলনে নিহত ছাত্র–জনতাকে স্মরণ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ভাষণ শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা।

দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময়ে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, সব খাতে সংস্কার করা হবে।

এছাড়া আয়নাঘরের মত অপকর্মের বিচার, রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং পুলিশ কমিশন গঠনের কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

জাতির উদ্দেশে দেয়া নিজের প্রথম ভাষণে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং এজন্য আইনের নিপীড়নমূলক ধারা সংশোধনের কথাও বলেছেন অধ্যাপক ইউনূস।

চলতি মাসের পাঁচ তারিখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের তিনদিন পর আটই অগাস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

পরদিন রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন উপদেষ্টারা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে, এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "কখন আমাদের সরকার বিদায় নেবে এর জবাব আপনাদের হাতে। কখন আপনারা আমাদেরকে বিদায় দেবেন।"

"আমরা কেউ দেশ শাসনের মানুষ নই। আমাদের নিজ নিজ পেশায় আমরা আনন্দ পাই। দেশের সংকটকালে ছাত্রদের আহ্বানে আমরা এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালন করবো," তিনি বলেন।

'কখন নির্বাচন হবে' এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "এটা আমাদের সিদ্ধান্ত না। দেশবাসীকে ঠিক করতে হবে কখন আপনারা আমাদের ছেড়ে দিবেন। আমরা ছাত্রদের আহবানে এসেছি, তারা আমাদের প্রাথমিক নিয়োগ কর্তা।

“ দেশের আপামর জনসাধারণ আমাদের নিয়োগ সমর্থন করেছে। আমরা ক্রমাগতভাবে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে যাবো, যাতে হঠাৎ করে এ প্রশ্নটি উত্থাপিত না হয় আমরা কখন যাবো। তারা যখনই বলবে আমরা চলে যাব।”

এজন্য দরকারি সংস্কারের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকেও সংস্কার করা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।

“আমরা বিভিন্ন সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। দেশবাসীকে অনুরোধ করবো একটা আলোচনা শুরু করার জন্য, আমরা সর্বনিম্ন কী কী কাজ সম্পন্ন করে যাবো। কী কী কাজ মোটামুটি করে গেলে হবে। এ আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটা দিক-নির্দেশনা পেতে পারি।"

"তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সেটা রাজনৈতিক আলোচনা থেকেই আসবে,” তিনি বলেন।

এ দিক-নির্দেশনা না পেলে দাতা সরকার ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনায় দৃঢ়তার সাথে অগ্রসর হওয়া যাচ্ছে না বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, "আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে মেয়াদবৃদ্ধির প্রস্তাব দেব না।”

'প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য ধরতে হবে'

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক, সে প্রত্যাশা পূরণে মানুষকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।

তিনি বলেন, "প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে ব্যক্তি-বিশেষকে হুমকির মধ্যে ফেলা, মামলা গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা বিচারের জন্য গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে হামলা করে আগেই এক ধরনের বিচার করে ফেলার যে প্রবণতা তা থেকে বের হতে হবে।"

ছাত্র-জনতার বিপ্লবের গৌরব ও সম্ভাবনা এসব কাজে ম্লান হয়ে যাবে, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাও ব্যাহত হবে, বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ একটা বিশেষ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিদিন সচিবালয়ে, আমার অফিসের আশেপাশে, শহরের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের অনেক দুঃখ-কষ্ট আপনাদের জমা আছে। সেটা আমরা বুঝি।"

"আমাদের যদি কাজ করতে না দেন তবে দুঃখ ঘোচানোর সকল পথ বন্ধ হয়ে যাবে। আপনাদের কাছে একান্ত অনুরোধ আমাদের কাজ করতে দেন”।

তিনি সবাইকে দাবি দাওয়া লিখিতভাবে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আপনাদের বিপক্ষ দল নয়, আইনসঙ্গতভাবে যা কিছু করার আছে আমরা অবশ্যই তা করবো। কিন্তু আমাদেরকে ঘেরাও করে এ গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে আমাদের কাজে বাধা দেবেন না।"

"সবাই মিলে তাদের বোঝান তারা যেন এ সময়ে তাদের অভিযোগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমাদের দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা না দেন।”

বন্যার্তদের জন্য যে উদ্যোগ

ভাষণের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

একইসাথে স্মরনাতীতকালের ভয়াবহ বন্যায় যারা মারা গেছেন, অসুস্থ হয়েছেন বা সব হারিয়েছেন তাদের স্মরণে আজকে কথা বলছেন বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। ।

বন্যা দুর্গতদের জীবন দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য সরকারি -বেসরকারিভাবে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

একইসাথে ভবিষ্যতে বন্যা প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ এবং প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনা করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ইউনূস।

দেশের ক্রান্তি-লগ্নে নতুন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের যে স্বপ্ন তাতে দেশের সকল পেশা, ধর্ম, বয়সের জনগণকে এ সংগ্রামে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

'আমরা এক পরিবার। আমাদের এক লক্ষ্য'

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “ আপনারা দেখেছেন আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তারা (আওয়ামী লীগ) কীভাবে শেষ করেছে। দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে দুর্নীতি। এমন এক দেশে আমাদের দেশ রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে স্বৈরাচারের পিয়নও দুর্নীতির মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকার সম্পদ করার মতো অকল্পনীয় কাজ করে গেছে নির্বিবাদে।”

“শিক্ষাখাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে, ব্যাংকিং ও শেয়ার বাজার খাতে লুটপাট, প্রকল্প ব্যয়ে বিশ্বরেকর্ড, অবাধ সম্পদ পাচার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে নিজ দলের পুতুলে রূপান্তর, বাক-স্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার হরণ এসবই হিমশৈলের অগ্রভাগ মাত্র” বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে ফ্যাসিবাদী সরকার জনগণের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও অধিকার খর্ব করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “জনগণকে নির্যাতন, বঞ্চনা ও বৈষম্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের মানুষসহ কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকারকে বছরের পর বছর হরণ করেছে। মানুষের এগিয়ে যাওয়ার পথে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে স্বৈরাচার তার নিজের, পরিবারের ও দলের কিছু মানুষের হাতে দেশের মালিকানা তুলে নিয়েছে”।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “কিন্তু এই দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েই আমাদের গড়তে হবে স্বপ্নের বাংলাদেশ। বৈষম্যহীন, শোষণ-হীন, কল্যাণময় এবং মুক্ত বাতাসের রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আমি তাদের সেই স্বপ্ন-পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ”।

তিনি বলেন, “ আমাদের লক্ষ্য একটিই। উদার, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। আমরা এক পরিবার। আমাদের এক লক্ষ্য। কোনও ভেদাভেদ যেন আমাদের স্বপ্নকে ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ”।

গণহত্যার তদন্ত এবং স্মৃতি ফাউন্ডেশন

জুলাই-আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানে বল প্রয়োগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের একটি দল ইতোমধ্যেই দেশে এসেছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তদন্তের এই প্রক্রিয়া এ সপ্তাহেই শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যেসব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছিল তার অধিকাংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

একইসাথে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে গণঅভ্যুত্থানে সব শহীদের পরিবারকে পুনর্বাসন, আহত শিক্ষার্থী ও জনতার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী দুই জন উপদেষ্টার সহায়তায় একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

একইসাথে এ কার্যক্রম চালিয়ে নিতে এবং গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকার অতি দ্রুত ‘জুলাই গণহত্যা স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে এনেছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস।

এজন্য বিদেশে অবস্থানরত সকলকে এই প্রতিষ্ঠানে অনুদান পাঠানোর অনুরোধ করে অধ্যাপক ইউনূস জানান, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করেছি”।

ইতোমধ্যে প্রশাসনে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রশাসনকে গতিশীল রাখতে এবং একইসঙ্গে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সময় প্রয়োজন। সেজন্য সকলকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রশাসনের সবল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো যেন জনগণের আস্থা ফিরে পায় সেটি আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য”।

বিভিন্ন খাতে সংস্কার

লুটপাট ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য ব্যাংক কমিশন গঠন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

আর্থিক খাতে সার্বিক পরিস্থিতি এবং সংস্কার বিষয়ে একটি রূপকল্প তৈরি করা হবে যা দ্রুত জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

একইসাথে শেয়ার বাজার, পরিবহন খাতসহ যেসব ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে তা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া, বিচার বিভাগকে দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে”।

“ফ্যাসিবাদী সরকারের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, অপহরণ এবং আয়নাঘরের মতো চরম ঘৃণ্য সব অপকর্মের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সকলের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তালিকা প্রস্তুত করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে। দূর্নীতি ও সম্পদ পাচারের বিচার করা হবে” বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

গত ১৫ বছরের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও জনস্বার্থ-বিরোধী চুক্তি সাক্ষর, প্রকল্পের নামে লুটপাট ইত্যাদি তথ্য নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ইউনূস।

সর্বস্তরে ঘুষের থেকে মুক্তির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “সারা দেশ ঘুষের মহাসমুদ্রে নিমজ্জিত। কীভাবে ঘুষ থেকে আমরা মুক্ত হতে পারি তার জন্য আমাদের পরামর্শ দিন। শুধু এই কাজটা নিয়ে অগ্রসর হতে পারলেই আমি মনে করি দেশের জন্য এই সরকার একটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছে বলে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ ব্যাপারে আমি আমার সর্বশক্তি নিয়োজিত করবো”।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে জনমুখী ও দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে 'পুলিশ কমিশন' গঠন করা হবে বলেও জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বিভিন্ন বাহিনীর যেসব সদস্য গুম, নির্যাতনের কাজে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বর্তমান সরকারের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা”।

“আমাদের পক্ষ থেকে গুম বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষ রাষ্ট্র হওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পক্ষভুক্ত এমন সব আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা বাস্তবায়ন করে যাব” বলেন অধ্যাপক ইউনূস।