গাজায় দুই ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি, ঋষি সুনাকের মন্তব্য এবং আরো যা ঘটছে

মিশর আর কাতারের মধ্যস্থতার পর নুরিত কুপার এবং ইয়োচেভেদ লিফশিৎজ নামে দুই জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তবে ওই দুই জন বয়স্ক নারীর স্বামীদেরকে এখনো মুক্তি দেয়া হয়নি।

ইয়োচেভেদ লিফশিৎজ এর মেয়ে বলেছেন, তিনি তার বাবাসহ গাজায় আটক বাকি জিম্মিদের মুক্তি চান।

জাতিসংঘ বলেছে, গাজায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ২০টি ট্রাকের আরো একটি গাড়িবহর প্রবেশ করেছে। গাজায় এখনো খাবার, পানি এবং জ্বালানি সরবরাহ উদ্বেগজনকভাবে কম রয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, ত্রাণ সহায়তার মধ্যে জ্বালানি নেই। তার মানে হচ্ছে আগামী দুই দিনের মধ্যে বর্তমানে থাকা মজুদে টান পড়বে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আল-আহলি হাসপাতালে যে বিস্ফোরণটি হয়েছিল সেটি ‘হয়তো’ গাজার মধ্য থেকেই ছোড়া হয়েছিল।

হামাস এই হামলার জন্য ইসরায়েলি বিমান হামলাকে দায়ী করেছে। কিন্তু ইসরায়েল দাবি করেছে যে, প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর 'ভুলক্রমে' ছোড়া একটি রকেট এই হামলার জন্য দায়ী।

তিনি আরো বলেন, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাদের আগের প্রতিশ্রুত সাহায্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করবে। ফলে অতিরিক্ত আরো ২০ মিলিয়ন ডলার ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, রোববার সকাল থেকে এ পর্যন্ত গাজায় কমপক্ষে ৪৩৬ জন মারা গেছে। আর গত ৭ই অক্টোবর থেকে সব মিলিয়ে পাঁচ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

ইসরায়েল বলেছে তারা হামাসের স্থাপনা ও টানেল লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। প্রতি দিন অন্তত ৩২০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে তারা।

আরো পড়ুন:

গত সাতই অক্টোবর গাজার কাছে হামাসের হামলায় ১৪০০ বেশি ইসরায়েলি নিহত হয়। হামাস তাদের বাড়িতে, রাস্তায় এবং একটি মিউজিক ফেস্টিভালে গিয়ে গুলি করে তাদেরকে হত্যা করে।

চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ওয়াশিংটন সফর করবেন। মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এই সফর চলবে।

সেখানে ইসরায়েল এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা দুটি যুদ্ধ নিয়েই চীনকে “আরো বেশি গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে তাগিদ দেবেন” বলে জানানো হয়েছে।

বেসামরিক জিম্মিদের মুক্তি

স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে ৭৯ বছর বয়সী নুরিত কুপার এবং ৮৫ বছর বয়সী ইয়োচেভেদ লিফশিৎজ নামে দুই জন বয়স্ক জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। মুক্তির পর তাদেরকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য তেল আবিবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

হামাস বলেছে, স্বাস্থ্যগত কারণে এবং “মানবিক” কারণে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মধ্যস্থতা করার জন্য মিশরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসরায়েল। আর ওই দুই নারীকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে “গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা” পালনের জন্য রেড ক্রসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তেল আবিব।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিজ কুপারের স্বামী ৮৫ বছর বয়সী আমিরাম এবং মিজ লিফশিৎজ এর স্বামী ৮৩ বছর বয়সী ওডেড এখনো গাজায় হামাসের কাছে জিম্মি রয়েছেন।

এরআগে গত শুক্রবার আমেরিকার দুই নাগরিক জুডিথ রানান এবং তার মেয়ে নাটালিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস।

গত ৭ই অক্টোবরের হামাসের হামলার পর ইসরায়েল থেকে দুই শতাধিক মানুষকে জিম্মি করা হয়। পরে তাদেরকে গাজা উপত্যকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে অন্তত ২২২ জনকে জিম্মি করেছে হামাস।

ধারণা করা হয়, গাজা উপত্যকায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে শিশু, উৎসবে যোগ দেয়া দর্শক, শান্তির পক্ষে কাজ করা সক্রিয় কর্মী, বয়স্ক মানুষ এবং সেনা সদস্য রয়েছে।

জিম্মিদের আটক করার পর পরই তাদের ভিডিও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে হামাস।

সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বলছে, তারা জিম্মিদের গাজায় “নিরাপদ স্থান এবং টানেলে” রেখেছে।

গাজার খান ইউনিস হাসপাতালে আহতদের ভিড়

গত কয়েক ঘণ্টায় সংবাদ সংস্থাগুলো যেসব ছবি দিয়েছে সেগুলোতে দেখা যাচ্ছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে নাসের মেডিকেল হাসপাতালে ভিড় করেছে আহতরা।

টেলিগ্রামে হামাসের চ্যানেল থেকে জানানো হয়েছে, গাজা শহরে বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং অভিযানে অনেক মানুষ আহত হয়েছে।

তারা দাবি করেছে, একটি পেট্রোল স্টেশনে বিমান হামলা চালানোর পর সেটিতে আগুন ধরে যায়।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্থল অভিযান চালানোর আগে গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে ১১ লাখ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

এই নির্দেশনার পর লাখ লাখ মানুষ খান ইউনিসে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তবে ইসরায়েল দক্ষিণাঞ্চলসহ পুরো গাজাতেই বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।

অস্ত্র-বিরতির আহ্বানের বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং হোয়াইট হাউস বলেছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্র-বিরতির সঠিক সময় এখন নয়।

সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মনে করি না যে, এখনই অস্ত্র-বিরতির সময় হয়েছে।”

“ইসরায়েলের নিজেদের রক্ষা করার অধিকার আছে। হামাসের নেতাদের খুঁজে বের করতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে ইসরায়েলের।”

আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, “প্রশ্নটির প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমরা এখন গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”

মিলার আরো বলেন, এই সংঘাতটির উপর নজর রাখার জন্য মার্কিন কূটনীতিক ডেভিড স্ক্যাটারফিল্ডকে নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি “মানবিক সহায়তা সরবরাহের চলমান প্রক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং আমরা গাজার মধ্যেই যেখানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে রাখা যাবে এমন জায়গা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি।”

চলতি বছর আরব এবং ইসরায়েলিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় যখন ইসরায়েলি পুলিশ সহিংসভাবে এই মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং মুসুল্লিদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

ইসরায়েলের দাবি, "সহিংস" হিসাবে চিহ্নিত মুসলমানদের গ্রেফতার করার জন্যই পুলিশ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছিল।

ওই সংঘর্ষের অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়লে ফিলিস্তিনি অঞ্চলে এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ঘটনাটি ঘটেছে মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসে এবং ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘জিউইশ পাসওভার’ ছুটির প্রাক্কালে।