বাংলাদেশের সমাজে যেসব বিষয়ে এখনো সহনশীলতার অভাব রয়েছে

বাংলাদেশের সমাজে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সহনশীলতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন রাজনৈতিক অঙ্গনে সহনশীলতার অভাব প্রকটভাবে দেখা গেলেও সামাজিক আরো বেশ কিছু ক্ষেত্রে অসহনশীল হতে দেখা যায় মানুষকে। বুধবার আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসে কোন কোন বিষয়ে সহনশীলতার অভাব রয়েছে তার কয়েকটা তুলে ধরা হচ্ছে।
বুধবার পালিত হচ্ছে ইউনেস্কো ঘোষিত আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস।
বাংলাদেশের সমাজে যেসব বিষয়ে সহনশীলতার অভাব রয়েছে তার কয়েকটি নিয়ে কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যের মতকে গুরুত্ব না দেয়া
বিশ্লেষকরা বলছেন সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে একটা মানুষ বা গোষ্ঠীর সঙ্গে এক বিষয়ে মতের মিল না হতেই পারে তাই বলে অন্যের মতকে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে নিজের মতামতটাই সঠিক সেটা প্রতিষ্ঠা করার এমন প্রবণতা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়।
এর ফলে অনেক সময় মতের অমিল হলেই সেটা সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়।
সমাজ বিজ্ঞানী মাহাবুবা নাসরিন বলছেন “ যেমন ধরেন ছোট একটা বিষয়, ধরা যাক সেটা হল খেলা। যেকোন খেলা হলে দুই দলের সমর্থক গোষ্ঠী থাকবে। সেই খেলা উপভোগ করা এবং গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু আপনি দেখবেন মানুষ এত অসহিঞ্চু আচরণ করে যে হতাহতের ঘটনা ঘটে যায়। পুলিশ মোতায়েন করা লাগে, ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়। এটা তো কাম্য হতে পারে না”।

নারীদের মতের মূল্যায়ন না করা
পরিবার এবং সমাজের নারীদের মতামতের মূল্যায়ন করা হয় না এমন কথা বহু পুরনো। তবে সেই ধারণা খুব বেশি পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।
একটা পরিবারে কোন বিষয়ে আলোচনা হলে প্রথমে পুরুষ সদস্যদের মতামত গ্রহণ করাটাই এখনো রেওয়াজ আছে। কোন কোন পরিবার নারীদের মতামত নেয়, কিন্তু সেটা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ে হচ্ছে সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন বলেন নারীদের মতের প্রতি সহনশীলতার প্রকট অভাব রয়েছে যখন দেখা যায় একটা মেয়ে ধর্ষণের শিকার হন।
তিনি বলেন পেশাগত কারণেই তিনি দেখেছেন“ একটা মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে আমাদের সমাজের মানুষ প্রশ্ন করে তার পোশাক কেমন ছিল, সে কার সাথে ছিল, তার আচরণ কেমন ছিল ইত্যাদি। যখন মেয়েটির প্রতি সব ধরণের সহানুভূতি নিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো দরকার তখন তার সঙ্গে এসব আচরণ করা হয়। ফলে যখন সে আনুষ্ঠানিক বিচার কাঠামোর কাছে বিচার চাইতে যায় সেখানেও সে পিছিয়ে পরে। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা বিচার চাইতেই যায় না”।
সমকামী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মেনে নেয় না সমাজ
সমকামী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলেন সমাজের এই শ্রেণীর মানুষ চরম অসহনশীলতার শিকার হন।
তারা বলছেন সমাজে তাদের অস্তিত্ব আছে এটাই মানুষ শিকার করতে চান না। জয়া শিকদার যিনি বৈচিত্র্যময় লিঙ্গের মানুষদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন তিনি বলছেন তাদের মতামত দুরের বিষয়, তারা যে সমাজে আছেন এটাই গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় মানুষ।

অধিকারকর্মী জয়া শিকদার বলছেন “একটা রুপান্তরকামী মেয়ে বা পুরুষ প্রথম অসহনশীল আচরণের শিকার হন তার পরিবারের খুব কাছের মানুষের কাছ থেকে। তারা তাকে গ্রহণ করতে চায় না। একসময় বাড়ি থেকে বের করে দেয় বা সেই মেয়ে বা ছেলেটি বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, এর পরে তো সে দেখে সমাজের “কুৎসিত কদাকার রূপ”।
“একটা রুপান্তরকামী মেয়ে বা ছেলে ছোট বেলাতেই ধর্ষণের শিকার হন। তার কোন অভিভাবক থাকে না। সমাজ তাকে মেনে নেয় না। তো একজন অভিভাবক শূন্য মানুষ পরিণত বয়সে আসতে আসতে যে কতটা চরম অসহিঞ্চুতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সেটা সেই ব্যক্তি জানেন”।












