আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি : যুক্তরাষ্ট্র
গত ডিসেম্বরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রোগ্রামের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যে ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সাথে মিলে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা রোহিঙ্গাদের যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার কথা জানায় দেশটি।
এরপর প্রথম ধাপে ৬২ জন রোহিঙ্গাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার কথাও শোনা যায়। কিন্তু এরপর যেন থমকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।
এই মূহূর্তে বাংলাদেশ সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া।
তার এই সফরেরও একটা বড় এজেন্ডা হল রোহিঙ্গা ইস্যু। তিনি বুধবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন ও সেখানে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন।
এরপর বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গেও তিনি দেখা করেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোন পক্ষই এবিষয়ে কথা বলেনি।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এরপর পররাষ্ট্র সচিবের সাথে আজরা জেয়ার বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি রোহিঙ্গাদের জন্য আরো নতুন সহায়তার ঘোষণা দেন। একইসাথে তিনি বলেন এখনো রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
“আমি গর্বের সঙ্গে বলতে চাই যে যুক্তরাষ্ট্র, বার্মা ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্যে আরো অতিরিক্ত ৭৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দাতা সংস্থাদেরও সাহায্যের আহবান জানাচ্ছে," তিনি বলেন।
"এবং যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমার ফিরে যাবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, আমরা সেই চেষ্টারও পাশে থাকতে চাই, যে পরিস্থিতি এই মূহূর্তে নেই," বলেন আজরা জেয়া।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনও জানান শুধু প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
“অল্প সংখ্যক রোহিঙ্গাকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর যে ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ আছে, কী করে সেটাকে এগিয়ে নেয়া যায়, আমরা সে ব্যাপারে আপডেট দিয়েছি। তারা তাদের কিছু মতামত দিয়েছে। আমরা অবশ্যই এমন কিছু করবো না যাতে রোহিঙ্গাদের বিপন্ন হতে হয়,” তিনি বলেন।
বাংলাদেশ সবসময়ই বলে এসেছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোটাই এই সংকটের বড় সমাধান। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে পুনর্বাসনের কথা বলে অর্থাৎ সামান্য সংখ্যক রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে নেয়া, সেটা কোন সমাধান নয় বলে মনে করেন শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
“এটা একেবারেই টোকেন একটা নাম্বার। যদি যুক্তরাষ্ট্র নেয়ও, এটা কোন সমাধান আনবে না। আমাদের জোর দিতে হবে তাদের মূল দেশে পরিস্থিতি উন্নয়নে, নিজের দেশে যাতে তারা মাথা উচুঁ করে যেতে পারে। এগুলোর প্রতীকী মূল্য থাকতে পারে, এর বেশি কিছু না,” বলেন রিফিউজি ও মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক সি আর আবরার।
মানবিক দিক বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও ৯০ এর দশকে কিছু রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে আশ্রয় দেয়। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা নির্বাচনে কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে সেটিসহ মানবিক নানান বিষয় বিবেচনায় রাখে তারা।
কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের এক কর্মকর্তা জানান রোহিঙ্গাদের যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার বিষয়টা আসলে খুবই সামান্য এবং এটাকে এত গুরুত্ব দেয়ারও কিছু নেই, তাহলে মূল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটাই আরো বাধাগ্রস্থ হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই শীর্ষ কর্তা জানান ৫ জন চলে গেলে আরো ১০ জন রোহিঙ্গা সীমানা পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে।
বিশ্লেষকরা তাই বলছেন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের নিজ দেশে কীভাবে ফেরত পাঠানো যায় সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বকে আরো অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।