পত্রিকা: 'হুথি-সৌদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বহুমুখী সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

খবরে বলা হচ্ছে, ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী সংকট তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে।

সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী কর্মরত। দেশটি নতুন বিদেশগামী কর্মীদের বড় অংশেরও গন্তব্য।

সৌদি আরব বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। এছাড়া জ্বালানি পণ্য, সার ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও রিয়াদের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা রয়েছে।

সৌদি-হুথি সংঘাতের ভৌগোলিক ক্ষেত্র সুয়েজ খাল ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় ঝুঁকি রয়েছে আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহনেও।

সেক্ষেত্রে আমদানি ও রফতানিতে বিঘ্ন এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব অভিঘাত একসঙ্গে তীব্র হলে রেমিট্যান্স, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে বড় সংকটে ফেলতে পারে।

এরই মধ্যে যুদ্ধের চাপ সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সংযোগে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক হুথি হামলার পর শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবগামী ফ্লাইট সীমিত করেছে।

এমন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়ে সৌদির বিনিয়োগ, নির্মাণ, পর্যটন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি কমতে পারে। সে রকমটা হলে ধাক্কা লাগতে পারে দেশটিতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীর আয় ও কর্মসংস্থানে।

খবরে বলা হচ্ছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের অর্ধশতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সৌদিগামী যাত্রী। রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার পর এসব যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

যাত্রীদের কেউ জানেন না কবে তারা সৌদি যেতে পারবেন। কবে আবার ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে। হতাশা অনিশ্চয়তা নিয়ে যাত্রীদের কেউ কেউ বিমানবন্দরে নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন। আবার কেউ হোটেলে থাকছেন। আবার অনেকেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে যাওয়া বেশির ভাগই যাত্রীই শ্রমিক। তাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই যা দিয়ে ঢাকায় অবস্থান করবেন।

টিকিটের টাকা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। কারণ এয়ারলাইন্সগুলো যদি টিকিট রিফান্ড না করে তবে অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার প্রেক্ষিতে ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

এরমধ্যে ডিরেক্ট ফ্লাইট ১২টি আর ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি। সবমিলিয়ে ৫১টি ফ্লাইটের প্রায় ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে পারেননি। এ সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়বে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ২১শে অক্টোবর পর্যন্ত আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ তারিখ পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

খবরে বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ায় দেশের নিজস্ব কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সম্ভাবনাময় কয়লাখনিগুলোর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে সরকার।

এ ক্ষেত্রে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খনিটি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উন্নয়নের পাশাপাশি জমির মালিকদের সঙ্গে মুনাফা ভাগাভাগির পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের আন্দোলন ও পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে আটকে থাকা ফুলবাড়ী কয়লাখনি উন্নয়নে এবার নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, খনির জন্য জমি ইজারা নেওয়ার বিনিময়ে মালিকদের অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি মুনাফার একটি অংশ তাঁদের মধ্যে বণ্টন করা হতে পারে।

খবরে বলা হচ্ছে, সারা দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন হবে পাঁচ ধাপে। আগামী বছরের ২১শে জানুয়ারি হবে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপের ২৯শে এপ্রিল, চতুর্থ ধাপের ১৩ই মে এবং শেষ ধাপের নির্বাচন হবে ২৭শে মে। প্রথম প্রথম ধাপের নির্বাচনে জেলা সদরের ইউপিগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গতকাল সোমবার কমিশন সভায় ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে ইসি প্রাথমিকভাবে আগামী বছর পবিত্র রমজান মাসের আগে তিন ধাপের ইউপি নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

অবশ্য গত রোববার ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে ইসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে রমজানের আগে দুই ধাপের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।

বাকি তিন ধাপ এপ্রিল ও মে মাসে করবে।

খবরে বলা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচন পাঁচটি ধাপে আয়োজন করা হবে। প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১শে জানুয়ারি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ইসির ১৩তম কমিশন সভায় সময়সূচি চূড়ান্ত করে কমিশন। পরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ভোটের রোডম্যাপ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে ২৭শে মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ৪ হাজার ৩০০ ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

স্থানীয় নির্বাচনের এই সময়সূচি নিয়ে বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে স্থানীয় নির্বাচন শুরুর ঘোষণা দিয়েও সরকারের প্রতিক্রিয়ার পর নির্বাচন কমিশন একবার পিছিয়ে যাওয়ায় ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্থাটি নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা- এ নিয়ে সন্দিহান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াত বলছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হানাহানি হতে পারে এমন আশঙ্কায় সরকারি দল নির্বাচন চায় না। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হবে কিনা, সন্দেহ রয়েছে। তবে জামায়াত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এনসিপিও দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন চায়।

খবরে বলা হচ্ছে, নিয়োগের ২১ দিন পর ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

গতকাল সোমবার সকালে তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে ঢোকেন তিনি। আর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাঁকে ভেতরে রেখে ভবনের ফটকে আবার তালা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। রাত একটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য।

রাত একটায় ভবনের সামনে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছিলেন। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক শরীফুল আলমের পদত্যাগের দাবি জানান।

একই দিনে নতুন উপাচার্যকে প্রশাসনিক কাজে কোনো সহযোগিতা না করার ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। পূর্বঘোষিত কর্মবিরতির পাশাপাশি 'সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি' পালন করবে এই তিন সংগঠন।

অন্যদিকে গতকাল বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে দুই দফা হামলা এবং এক শিক্ষার্থী ও চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

শাটডাউনের ২১তম দিনে উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেও অচলাবস্থা কাটেনি। বরং তাঁকে অবরুদ্ধ করা, অসহযোগের ঘোষণা ও বাসে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

'কিভাবে ডুবল ব্যাংক খাত' নয়াদিগন্তের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এখন আর কেবল কিছু ব্যবসায়ীর ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার সমস্যা নয়; এটি আর্থিক খাতের সুশাসন, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দীর্ঘদিনের দুর্বলতার স্পষ্ট প্রতিফলন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ছয় হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

মার্চ শেষে এই পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা; অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

দুই বছর আগেও পরিস্থিতি এত দৃশ্যমান ছিল না। ২০২৪ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জুনে বেড়ে ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছায়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে এই হার দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে।

পরে ডিসেম্বর শেষে কমে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ হলেও ২০২৬ সালের জুনে তা আবার বেড়ে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে ঠেকেছে।

এই বৃদ্ধির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

নতুন করে ঋণখেলাপি হওয়ার পাশাপাশি ঋণ শ্রেণীকরণের নিয়ম কঠোর করা, অতীতে আড়ালে থাকা অনাদায়ী ঋণ প্রকাশ্যে আসা এবং পুরনো ঋণের সুদ জমে যাওয়াও মোট খেলাপি ঋণের অঙ্ক বাড়িয়েছে, অর্থাৎ ব্যাংক খাতের সমস্যার একটি অংশ বহু বছর ধরে জমে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বড় অংশ হিসাবের খাতায় দৃশ্যমান হয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'Debt burden grows for rural poor' অর্থাৎ 'গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের ঋণের বোঝা বাড়ছে'। খবরে বলা হচ্ছে, গ্রামীণ পরিবারে, বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাথায় ঋণের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে।

গতকাল প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৯ শতাংশ হতদরিদ্র পরিবার তাদের আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি অর্থ ব্যয় করে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় মহাজন বা অনানুষ্ঠানিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের পেছনে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১০ সালে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৪৯ শতাংশ মানুষ তাদের আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি অর্থ ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করত।

বিআইডিএস আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল তুলে ধরার সময় সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল জানান, সামগ্রিকভাবে আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি অর্থ কিস্তি হিসেবে পরিশোধকারী ঋণগ্রহীতাদের হার ২০১০ সালের ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিআইডিএস এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিষয়ে গবেষণার ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়েছিল।

কাজী ইকবাল জানান, এর অর্থ হলো গরীবদের ঋণগ্রস্ততা বৃদ্ধি এবং ঋণের চক্রে জড়িয়ে পড়া।

নিউ এইজের শিরোনাম 'LPG users at traders' mercy' অর্থাৎ 'এলপিজি ব্যবসায়ীদের দয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে ব্যবহারকারীদের'।

সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কিনতে গিয়ে পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, তীব্র জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের জিম্মি করে রেখেছেন।

এই সংকট আরও বাড়তে পারে। কারণ, প্রতিটি সিলিন্ডারে কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার দাবিতে এলপিজি পরিবেশকেরা ১৫ ও ১৬ই অক্টোবর দেশব্যাপী দুই দিনের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন। যার ফলে সারা দেশে খুচরা বিক্রি বন্ধ থাকবে।

পরিবেশকেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা হয়রানি বন্ধ এবং অব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলো পুনরায় ব্যবহারের আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

পাশাপাশি তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এই খাতটিকে মুষ্টিমেয় কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানির দ্বারা পরিচালিত 'অলিগোপলি' (সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যমূলক বাজার ব্যবস্থা) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের দুর্বলতাই এই অচলাবস্থা তৈরি করেছে।

খবরে বলা হচ্ছে, দিল্লির রাজপথে নিরাপত্তার কড়াকড়ি, ব্যারিকেড, আটক, যান চলাচলে বিধিনিষেধ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদ বাঁচাতে ভারতের রাজধানী শহরটিতে রেড অ্যালার্টের আবহ বিরাজ করছে। এ অবস্থায়ও সোমবার সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

কংগ্রেস বিরোধী নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইন্ডিয়া জোট লাখো মানুষের জনসমাগম ঘটনায়। এতে কার্যত জনারণ্যে পরিণত হয় দিল্লি। তবে এদিন পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের মারধর বা হেনস্তা করতে দেখা যায়নি।

সোমবার এ বিক্ষোভ থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী উচ্চারণ করেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পরও আমরা থামব না; শুরু হবে নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পালা।

এদিন দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা যন্তর মন্তরে আর কোনো বিক্ষোভ করতে দেবে না। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা মাথা নোয়াবেন না; বরং পুরো ভারতকেই যন্তর মন্তর বানানো হবে।

ব্যাপক ধরপাকড় আর নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কার্যত ফুঁসছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলো। সোমবার কংগ্রেসের বিক্ষোভের বাইরেও দিল্লিতে বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলন হয়েছে।