বিশ্বকাপের ম্যাচটা ‘মনে হয়েছে বিসিসিআইয়ের কোনও ইভেন্ট’

ছবির উৎস, Getty Images
ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটিতে পাকিস্তান ভারতের কাছে সাত উইকেটে হেরে গেছে। ভারতের বোলার কিংবা ব্যাটারদের কাছে পাত্তাই পায়নি পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। এরই মধ্যে পাকিস্তানের টিম ডিরেক্টর মিকি আর্থার ম্যাচ শেষে প্রেস কনফারেন্সে এই ম্যাচের একপাক্ষিক দর্শক ও ম্যানেজমেন্টের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভারত যখন ব্যাটিংয়ে, রোহিত শর্মার একেকটা ছক্কার বিপরীতে তুমুল উল্লাসে ফেটে পড়ছিল গুজরাটের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের লাখো ভারত সমর্থকরা।
এর বিপরীতে পাকিস্তান উইকেট নিলে গোটা স্টেডিয়ামে নীরবতা ছিল লক্ষণীয়।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের সময় দেখা গেছে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান যখন একটা জুটি গড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং এগিয়ে নিচ্ছিল তখন গ্যালারিতে তেমন কোনও উল্লাস দেখা যায়নি, বাবরের উইকেট পড়ার সাথে সাথেই গ্যালারি জীবন্ত হয়ে ওঠে।
মিকি আর্থার ম্যাচ শেষে বলেন, “যদি সত্যি বলি এটা বিশ্বকাপের ম্যাচ মনেই হয়নি, মনে হয়েছে বিসিসিআইয়ের কোনও ইভেন্ট। আমি মাইক্রোফোনে দিল দিল পাকিস্তান শুনিনি তেমন”।
দিল দিল পাকিস্তান- পাকিস্তানের একটা জনপ্রিয় স্লোগান, দলকে উদ্বুদ্ধ করতে পাকিস্তানের সমর্থকরা এই স্লোগান দেন।
আর্থার এটাকে অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাননা। তবে তিনি এও বলেছেন এটার ‘একটা ভূমিকা থাকে’।
“আমাদের জন্য মূল বিষয় ছিল পরের বলটা কীভাবে মোকাবেলা করবো। কীভাবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিপক্ষে লড়বো আমরা?”
বিশ্বকাপের মতো একটা ইভেন্টের ম্যাচে এমন এক তরফা সমর্থন কি ন্যায্য কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মিকি আর্থার কোনও উত্তর দেননি।
তিনি বলেছেন, কোনও ধরনের জরিমানা পেতে চাননা তিনি।
তবে আর্থার এটা মানছেন যে ভারত খুবই ভালো ক্রিকেট দল, রাহুল দ্রাবিড় ও রোহিত শর্মা দলটা ভালো পরিচালনা করছে এবং ভারতের এই দলটার সাথে আবারও ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আশা করছেন তিনি।
শিব সেনা ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ক্ষেপেছে
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে ‘শেম অন বিসিসিআই’ এখন টুইটারে ট্রেন্ডিং।
ভারতের চরমপন্থী সংগঠন শিব সেনার এক নেতা উদ্ভব ঠাকরে ‘শেম অন বিসিসিআই’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে বিসিসিআইয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন টুইটারে।
তিনি গুজরাটে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অভ্যর্থনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
“আজ বিসিসিআই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফুল দিয়ে বরণ করেছে, যারা আমাদের সৈনিকদের ওপর বুলেট ছুড়েছে। বিজেপির এই নেতারাই কি আবার সৈনিকদের ছবি নির্বাচনের সময় প্রচারণায় ব্যবহার করবেন? যারা এখন পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে স্বাগত জানাচ্ছে?”।
তিনি আরও লিখেছেন, এই মানুষগুলো ভারতীয় সৈনিকদের মৃত্যুর কষ্টটা হৃদয়ে ধারণ করেন না। তারা শুধু নির্বাচনের সময় দেশপ্রেম ও যুদ্ধ নিয়ে বড় বড় কথা বলেন। পাকিস্তানের জন্য লাল গালিচা বিছাতে তাদের কোনও লজ্জা হয় না”।
এ বিষয়ে বিসিসিআইয়ের তরফ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দল ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরে এবারই প্রথম ভারতের মাটিতে খেলতে গেল।
প্রায় ১৫ বছর ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্কে রাজনৈতিক প্রভাব তুঙ্গে রয়েছে, যে কারণে ২০১৩ সালের পর এই দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র একে অপরের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক কোনও সিরিজেও মুখোমুখি হয়নি।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
কী হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে?
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই একটা সময় ছিল সাচিন টেন্ডুলকার বনাম শোয়েব আখতার দ্বৈরথ, এবারও বিশ্বকাপের এই ম্যাচ ঘিরে সাচিন-শোয়েব টুইটারে নিজেদের মধ্যে খুনসুটি করেছেন।
শোয়েব আখতার একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি সাচিন টেন্ডুলকারকে আউট করেছেন, ক্যাপশনে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে, ঠাণ্ডা থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এর বদলে সাচিন টেন্ডুলকার ম্যাচ শেষে পালটা জবাব দিয়েছেন, “বন্ধু, তোমার পরামর্শ মানা হয়েছে এবং সব ঠাণ্ডা রয়েছে এখন”।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং সব বিভাগেই ভারতের কাছে বিপর্যস্ত হয়েছে।
এই পোস্টটা গোটা উপমহাদেশেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ একটা।
শনিবার নরেন্দ্র মোদী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা ছিল না বলে মনে হয়েছে টেলিভিশন ক্যামেরায় ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান।
ভারত এখন ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল, দুই নম্বরে আছে পাকিস্তান, তবে ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে ব্যবধানটা আরও বেশি।
ভারত ১১৭ বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতেছে এবং এটা পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের অষ্টম জয়।
রোহিত শর্মা গ্যালারিকে ও পৃথিবীজুড়ে ক্রিকেট সমর্থকদের মুগ্ধ করেছেন ব্যাট হাতে তবে বল হাতে নিয়ন্ত্রিত স্পেল করা জসপ্রিত বুমরাহ পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
সাত ওভারে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি ১৯ রান দিয়ে।
ম্যাচ শেষে বুমরাহ বলেন, তিনি রাভিন্দ্রা জাডেজার বল টার্ন করাতে স্লো বল দেয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন এবং তা কাজেও লেগেছে।
ম্যাচ শেষে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, “একটা সময় মনে হচ্ছিল ২৭০-২৮০ এর মতো স্কোর করবে পাকিস্তান। কিন্তু বোলাররা ম্যাচটাকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসেন”।
“আমাদের পরিকল্পনা কাজে লাগছে এবং সব ক্রিকেটারই সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করছেন। বিশ্বকাপ একটা লম্বা আসর, এখানে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ওঠার আগেই নয়টা ম্যাচ রয়েছে। আমরা এখন ভালো দলের বিপক্ষ খেলছি এবং যে কোনও দিন জয়ের আশা রাখি”।











