পত্রিকা: 'হাদির মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলা'

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি মারা গেছেন। এই খবর ও তার মৃত্যুর সংবাদ আসার পর বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরসহ এ সংক্রান্ত নানা প্রতিবেদন আজ শুক্রবার ঢাকার পত্রিকার পাতাজুড়ে রয়েছে।
এদিকে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভবনে হামলা হওয়ায় আজ পত্রিকা দুইটি প্রকাশিত হয়নি।
ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর নিয়ে ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম — Hadi loses battle for life; অর্থাৎ জীবনযুদ্ধে হেরে গেলেন হাদি।
খবরটিতে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদি মারা গেছেন। সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শোক প্রকাশ করেছে।
তার মৃত্যুর সংবাদ আসার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
এছাড়া, গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।
ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন। এরপর ওইদিনই ঢাকায় অস্ত্রোপাচার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার তাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম — Violence erupts after Hadi's death, Prothom Alo, Daily Star offices attacked; অর্থাৎ হাদির মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলা।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে লোকজন।
এর মধ্যে দেশের প্রধানতম বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
একদল লোক প্রথম আলোর অফিসে গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আগুন দেয়। পরে ডেইলি স্টার ভবনে গিয়ে আগুন দেওয়া হয়।
তাতে প্রতিষ্ঠান দুইটির অনেক কর্মী আটকা পড়েছিলেন।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের বাসভবনের সামনেও রাতে জড়ো হয়েছিল একদল লোক। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এছাড়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মহিবুল আলম চৌধুরী নওফেলের চট্টগ্রামের বাসায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখুন, দেশবাসীর প্রতি প্রধান উপদেষ্টা— দৈনিক ইত্তেফাকের দ্বিতীয় প্রধান খবর এটি।
এতে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর সবাইকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
শোককে শক্তিতে পরিণত করারও আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
আগামীকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে তিনি।
মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
দেশ রূপান্তরের দ্বিতীয় প্রধান খবর— ভোটে ভারতের ভিন্ন আগ্রহ...।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতও বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে।
প্রায় সব দেশ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে।
এর বাইরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রায় সবাই 'অংশগ্রহণমূলক' নির্বাচনের কথা বললেও ভারত বলছে 'অন্তর্ভুক্তিমূলক' নির্বাচনের কথা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয়রা 'অন্তর্ভুক্তিমূলক' বলতে যেমন নির্বাচন বোঝায়, তার সঙ্গে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো থেকে তোলা 'অংশগ্রহণমূলক' নির্বাচনের আলোচনার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।
এখানে অংশগ্রহণমূলক বলতে জনগণের অংশ নেয়া, অন্যদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলতে সব দলের ভোটে অংশ নেয়াকে বুঝানো হচ্ছে।
এর মধ্যে গত বুধবার দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ডেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু 'অভিযোগ' করা হয়। একই সঙ্গে এখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এমন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের ভোটের প্রস্তুতির দিকগুলো জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাশাপাশি দূতাবাস ও মিশনগুলোর নিরাপত্তার ব্যাপারেও কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করা হয়।

সমকালের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— বায়ুদূষণে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ১০০ কোটি মানুষ অস্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন। এর ফল হিসেবে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে।
ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশও আছে সামনের সারিতে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের কিছু অংশ এ অঞ্চলের বায়ুদূষণের প্রধান উৎস।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বায়ুদূষণের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বছরে আঞ্চলিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য, শ্রম উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দূষণের বড় উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রান্না ও গরম করার জন্য কঠিন জ্বালানি ব্যবহার, ইটভাটা ও শিল্প-কারখানায় ফিল্টারবিহীন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, পুরোনো ও অদক্ষ যানবাহন, কৃষিজ ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো, অপরিকল্পিত সার ব্যবস্থাপনা এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর— রাজশাহী-খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন অভিমুখে মিছিল।
এতে বলা হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পণ্ড হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী ও খুলনায় 'মার্চ টু ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন' কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তবে দুই শহরেই এই কর্মসূচি ঠেকিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিন দুপুরে রাজশাহীতে এবং বিকেলে খুলনায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
টানাপোড়ন চলা বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বাড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর।
এর জেরে গত বুধবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে সেই মিছিল থামিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরপরই গতকাল দেশের আরো দুই বড় শহরে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন মুখে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হলো।

মালয়েশিয়ায় এক বছরে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ— বণিক বার্তার প্রধান খবর এটি।
এই খবরে বলা হচ্ছে, এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসের (ইএমজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন ৬ হাজার ১০৩ জন।
আর চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৯৫৭ জন।
অর্থাৎ এক বছরে দেশটিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ভর্তি বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ।
তাতে বুঝা যাচ্ছে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা, রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোয় গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয় দেশটিকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলছে।

'গুম-নির্যাতন': হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু— সংবাদের প্রধান শিরোনাম এটি।
এই খবরে বলা হচ্ছে, 'গুম ও নির্যাতনের' মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত এই আদেশ দেন।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্ট ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ১৯ জানুয়ারি দিন রেখেছে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি বিষয়ে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন।
এদিকে, ১৩ আসামির মধ্যে তিন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার রয়েছেন।









