'জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে'

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম, “জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে”। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ১৪ দলের জনসভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে আলোচনার দরজা সবসময় খোলা।
"প্রয়োজনে জাতিসংঘের প্রতিনিধির সামনে বিএনপির সঙ্গে মুখোমুখি বসে রাজনৈতিক সংকট ও আগামী নির্বাচনের সুরাহা করা যেতে পারে" মি. আমুর এ বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ আরো বেশ কয়েকটি দৈনিক।
নির্বাচন নিয়ে মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম, “পিটার হাসের ব্যস্ত সময়”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ এবং সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণার পর থেকে ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস।
খবরে বলা হয়েছে, সরকার, বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে চলেছেন তিনি। ওয়াকিবহাল কূটনৈতিক এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে এসব কথা বলা হয়েছে। তিনি জানার চেষ্টা করছেন কোন 'ফর্মে' নির্বাচন হলে নির্বিঘ্নে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারবেন এবং তাদের রায়ের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটবে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও কথা হচ্ছে।
যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, "হোমগ্রোন ফর্মুলা চায় যুক্তরাষ্ট্র"। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব রূপরেখা চায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন কোনো ফর্মুলা চাপিয়ে দেবে না। বাংলাদেশের সরকার, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন (ইসি), সুশীল সমাজসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছ থেকে আসা ‘হোমগ্রোন’ ফর্মুলায় আস্থা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।
ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোর একাধিক সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

অব্যাহত বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সমকালের প্রধান শিরোনাম, “ভোটের নগরে বিদ্যুৎ যায় না”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে যেখানে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, সেখানে তুলনামূলক ভালো আছে ভোটের চার শহর বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী।
খবরে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেভাগে ভোটারদের তুষ্ট রাখতে ‘ওপরের নির্দেশে’ এসব শহরে লোডশেডিং তেমন দেওয়া হচ্ছে না। তবে সিটির বাইরে বিদ্যুতের দুর্ভোগ অসহনীয়।
বিষয়টির সমালোচনা করেছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। নাগরিক সংগঠনগুলো একে অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন। বরিশাল ও খুলনায় ১২ই জুন এবং সিলেট ও রাজশাহীতে ২১ই জুন ভোটের তারিখ নির্ধারিত আছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, “জ্বালানি সংকটে ৩৩% বিদ্যুৎকেন্দ্র”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বর্তমানে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ৩৩ শতাংশই গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের অভাবে ভুগছে।
এসব কেন্দ্রের নয় হাজার মেগাওয়াটের সক্ষমতা থেকে দিনে গড়ে উৎপাদিত হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং বাড়ছে। জ্বালানি আমদানির ডলার পাওয়া যাচ্ছে না নিয়মিত। খবরে বলা হয়েছে, এ সংকটের জন্য অব্যবস্থাপনা এবং আমদানি নির্ভর পরিকল্পনাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বিদ্যুত সংকটের দুঃসংবাদ নিয়ে নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, “Grimmer power crisis looms large”। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ঋণ ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা আরও কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের কারণ হতে পারে।
এতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুত সংকট আরও খারাপ পরিস্থিতিতে যেতে পারে। বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশকে বারবার বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী এবং জ্বালানি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে সতর্কবার্তা পেতে হচ্ছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা সেই বাস্তবতা সামনে এনেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সরকার না জ্বালানি কিনতে পারছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিতে পারছে।
সংকট নিরসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, “High Inflation, Power Crisis: PM asks ministries to find a way out”। প্রতিবেদনে, মূল্যস্ফীতি ও বিদ্যুত সংকট মোকাবেলায় একটি রোডম্যাপ প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মূল্যস্ফীতি আর বাড়তে দেওয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মজুদ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কারণ মূল্যস্ফীতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, “প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় হচ্ছে পাতাল মেট্রোরেল”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশের ১৩টি এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘গুলশান-বারিধারা লেক’, তুরাগ নদ সংলগ্ন এলাকা।
এসব এলাকায় ‘ভূমি এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন করতে পারে’—এমন সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। যদিও গুলশান-বারিধারা লেক ও তুরাগ নদের নিচ দিয়ে পাতাল মেট্রোরেল তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পাতাল মেট্রোরেল চলাচলের কারণে যে কম্পন এবং শব্দ উৎপন্ন হবে তা ওই দুই এলাকার জীববৈচিত্র্য এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া গুলশান-বনানী লেকের পরিবেশেও পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।
অবকাঠামো ত্রুটি নিয় কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, “নকশায় ত্রুটি, কাঠামোয় ঝুঁকি”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকার কুড়িল ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী সব ভারী যানকেই উড়াল সড়ক ওঠার অংশে ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়। পণ্যবাহী গাড়ি উঠলেই কেন সেটা কাঁপে।
যান চলাচলের জন্য চালু হওয়ার মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই অবকাঠামোগত এই পরিস্থিতিতে পড়েছে কুড়িল উড়াল সড়কটি। নির্মাণের আগে এর আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ৮০ বছর।

অন্যান্য খবর
সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পাতায় অন্যান্য খবরের মধ্যেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির খবর প্রাধান্য পেয়েছে।
প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর, “লোডশেডিংয়ের মধ্যে ঢাকায় পানিরও সংকট”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, লোডশেডিংয়ের কারণে ঢাকার ৩৫টি এলাকা থেকে পানির সংকটের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। কোথাও কোথাও ওয়াসার লাইনে চাহিদা মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
আবার ওয়াসা গাড়ির মাধ্যমে যে পানি বিক্রি করে, তা-ও চাহিদা মতো কিনতে পারছেন না কিছু এলাকার মানুষ। ঢাকা ওয়াসা বলছে, লোডশেডিং এর জন্য তারা ঠিকমতো পানির পাম্প চালাতে পারছে না। আবার প্রচণ্ড গরমে পানির চাহিদাও বেড়েছে- দুইয়ে মিলে সংকট তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে মানবজমিনের প্রথম পাতার খবর, “দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না গ্রামে”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তীব্র লোডশেডিংয়ে কাবু পুরো দেশ। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি গ্রামে। অনেক এলাকায় দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অনেকে। তীব্র গরমের কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। মানবজমিন-এর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী রাজধানী ও বড় শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিং হচ্ছে বেশি।
খবরে ব্রাহ্মনবাড়িয়া, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, নোয়াখালী, যশোর, বরিশাল, মেহেরপুর, চিলমারীর পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আবহাওয়ার খবর নিয়ে কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর “কাল ঢাকায়, মঙ্গলবার সারা দেশে বৃষ্টির আভাস”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান তাপপ্রবাহ আরো কিছু দিন স্থায়ী হতে পারে।
আগামী ১১-১২ই জুনের আগে সারা দেশে একযোগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর, “ভোটের হাওয়া বইছে জাতীয় পার্টিতে”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পুরোদমে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া এই রাজনৈতিক দলটি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখাতে চায়। এর অংশ হিসাবে বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে দলটি।
খবরে বলা হয়েছে, পাশাপাশি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ভাবনাও উড়িয়ে দিতে নারাজ জাতীয় পার্টি। দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে।

দ্য ডেইলি স্টারের পেছনের পাতার খবর, “6,500 pilgrims in visa trouble”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সৌদি আরবে হজযাত্রীদের পাঠাতে মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও, অনেক বেসরকারি হজ এজেন্সি এখনও তাদের জন্য ভিসার ব্যবস্থা করতে পারেনি।
গত ১২ দিনে, হজযাত্রীর স্বল্পতার কারণে কমপক্ষে সাতটি ফ্লাইট বাতিল করছে বাংলাদেশ বিমান, যার ফলে প্রায় ৬,৫০০ মানুষের হজ যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এজন্য হজ এজেন্সির একাংশকে দায়ী করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সময়মতো হজযাত্রীদের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু না করায় ৯০টি বেসরকারি হজ এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ে নয়াদিগন্তের শিরোনাম, “চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৫০”।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া নৈরাজ্যে সাড়ে ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এ সময় অস্ত্রের প্রদর্শনী দেখা দেয়। মহাসড়কে থমকে থাকা গাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মহাসড়ক সংলগ্ন চৌদ্দগ্রাম বাজারের হাসপাতাল ও মার্কেটে ভাঙচুর চালানো হয়।











