সাফ ফুটবলের সেমিফাইনাল খেলতে বাংলাদেশের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ- সাফের গ্রুপ পর্বে বুধবার নিজেদের শেষ ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় শুরু হবে এই ম্যাচটি।

প্রথম ম্যাচে লেবাননের বিপক্ষে হারের পর মালদ্বীপের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, যে কারণে এখনও বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনালে ওঠার পথ খোলা রয়েছে।

কিন্তু সেজন্য শুধু ম্যাচ জিতলেই হবে না, অন্য ম্যাচের ফলাফল এবং গোলের ব্যবধানের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।

লেবাননের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, পরের ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়েছে ৩-১ গোলে এখনও পর্যন্ত গোল ব্যবধানে বাংলাদেশ সমতায় অবস্থান করছে।

ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশ স্কোয়াড

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন মুখপাত্র বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল দল এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে, মালদ্বীপের বিপক্ষে জয় গোটা দলের আমেজ বদলে দিয়েছে।

ম্যাচের পর টিম হোটেলে গিয়ে কেক কেটে আনন্দ উদযাপন করেছেন ফুটবলাররা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে মালদ্বীপের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলদাতা কাজী তারিক মনে করিয়ে দিচ্ছেন, “আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শুরু করেছিল প্রথম ম্যাচ হেরে, এরপর কী হয়েছে সবাই জানে, হয়তো আমরাও...”।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং ফিফা র‍্যাংকিং-এ ১৯২তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় দল নিয়ে ইতিবাচক আমেজ খুব কমই দেখা যায়।

বাংলাদেশের ফুটবলে এমন দাপুটে জয়ও হরহামেশা দেখা যায় না, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে সর্বশেষ হারিয়েছিল বাংলাদেশ ২০ বছর আগে, ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ শেষবার একই ম্যাচে তিন গোল করেছিল ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা এই অজর্নকে ‘দুর্দান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

“আমরা জানি তিনটি পয়েন্ট কতোটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। আমাদের আগ্রাসী হতে হতো এবং শক্তিশালী, আমরা সেটাই চেষ্টা করেছি”, বলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ।

তরুণ ফুটবলাররা আশা দেখাচ্ছেন

বাংলাদেশ মালদ্বীপের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করেছে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে শেখ মোরসালিনের গোলে, তার বয়স মাত্র ১৭।

মোরসালিন ছাড়াও, মজিবুর রহমান জনি, মোহাম্মদ হৃদয়, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের মতো তরুণ ফুটবলাররা বাংলাদেশের জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশ বছর বয়সী রফিকুল ইসলামও আছেন।

বাংলাদেশের গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো বলেন, “ওরা যদি নিজেদের এখনকার খেলাটা ধরে রাখতে পারে তবে অনেক দিন সার্ভিস দিতে পারবে”।

মোরসালিন এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দূরপাল্লার শটে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন।

তিনি হুট করে শট নিয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বোকা বানাতে পারেন।

মোরসালিন ম্যাচের পরে বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই এটা অনুশীলন করে আসছি”।

তবে মোরসালিনের হয়তো এবারও সাফ খেলা হতো না, অভিজ্ঞ দুজন ফুটবলারের চোটের কারণেই তাকে দলে নেয়া হয়েছিল।

এমনকি মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচেও মোরসালিন ছিলেন বদলি ফুটবলার, জামাল ভূঁইয়ার পরিবর্তে তিনি নামেন দ্বিতীয়ার্ধে।

দুশ্চিন্তা তারিক কাজীর চোট নিয়ে

মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে মোরসালিনের গোল নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও বাংলাদেশ মূলত এগিয়ে গিয়েছিল তারিক কাজীর গোলে।

কিন্তু পরে বাঁ পায়ে চোট পেয়েছেন তারিক, মাঠও ছেড়েছেন নির্ধারিত সময়ের আগে।

হাঁটু ও গোঁড়ালির মাঝের এই চোটের কারণে মঙ্গলবার অনুশীলনে সতীর্থদের সাথে যোগ দেননি তিনি।

টিম হোটেলেই নিজেকে সময় দিচ্ছেন তারিক কাজী।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের নিয়মিত খেলছেন এই প্রবাসী ফুটবলার, তিনি অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতো ইউরোপ থেকে এসেছেন।

জামাল এসেছেন ডেনমার্ক থেকে, তারিক বড় হয়েছেন ফিনল্যান্ডে।

তারিকের বয়স এখন ২২, কোচ কাবরেরা তার সম্পর্কে খুবই উচ্চাকাঙ্খী, তারিকের বিষয়ে তিনি বলেন, “ওর মধ্যে লিডারশিপ আছে, এটা দলে প্রায়ই দেখা যায়না”।

তারিকের মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতাও বেশ ভালো, মূলত রাইট ব্যাক হলেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রয়োজনে রক্ষণভাগ ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলেন তিনি।

এটাই মূলত কোচের জন্য সবচেয়ে উপকারে আসে, কাবরেরার মতে একজন ফুটবলার যখন ভিন্ন ভিন্ন পজিশনের সাথে মানিয়ে নিতে পারেন তখন অনেক বিকল্প পাওয়া যায়।

২০০৯ সালের পর বাংলাদেশ ফুটবল দল এই সাত আট দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও সেরা চারে জায়গা করে নিতে পারেনি, ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরেও সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল।

এবার যদি বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে জয় পায় সেক্ষেত্রে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে, যদি ড্র হয় সেক্ষেত্রেও সুযোগ থাকবে তবে সেক্ষেত্রে মালদ্বীপের বিপক্ষে লেবাননের জয় প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ভুটান কোচ পেমা দর্জি বলেন, “আমাদের জন্য বাংলাদেশকে হারানো সহজ হবে না তবে আমরা আশা হারাতে চাই না”।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটান কখনোই ফাইনালে খেলতে পারেনি, এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মোট ২৪ ম্যাচ খেলা ভুটান এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে ২০০৮ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছে।

বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত ভুটানের বিপক্ষে ১৩ ম্যাচ খেলে মাত্র এক ম্যাচে হেরেছে. ২০১৬ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের প্রি কোয়ালিফায়ারের সেই হারে বাংলাদেশের ফুটবল অনেক পিছিয়ে গিয়েছিল।