আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেসব কারণে সতর্ক তামিম ইকবাল

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ।
যদি এশিয়া কাপ শেষ পর্যন্ত না হয় তাহলে এটাই হতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের শেষ ওয়ানডে সিরিজ।
বাংলাদেশ সময় বিকেল তিনটায় যুক্তরাজ্যের চেমসফোর্ডে মাঠে নামবে দুই দল।
এই সিরিজের আগে এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি অনুশীলনে মাঠে নামতে পারেনি বাংলাদেশ দল।
একে তো বৈরী আবহাওয়া, তার ওপর আয়ারল্যান্ড দল খেলবে তাদের পরিচিত ইংলিশ কাউন্টি কন্ডিশনে।
তাই বাংলাদেশের সামনে বেশ কটি অজানা প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর এখন মাঠেই খুঁজতে হবে।
কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ
আয়ারল্যান্ডের একটি দলের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি সে ম্যাচের।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতির অভাব রয়েছে বলে স্বীকার করছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এসব ব্যাপার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সেরা প্রস্তুতিটা আমরা নিতে পারিনি। তবে যতটুকুই সুযোগ পেয়েছি আমরা তৈরি হয়ে থাকার চেষ্টা করেছি”।
তামিম ইকবাল মানসিক প্রস্তুতির ব্যাপারে জোর দিয়েছেন।
আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট কাঠামোতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বা চারদিনের ক্রিকেট খুব একটা গুরুত্ব পায়না। তবুও যুক্তরাজ্যের ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটারদের কদর আছে।
ইংলিশ কাউন্টি দলগুলোতে নিয়মিত খেলেন আইরিশ ক্রিকেটাররা।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইয়ন মরগানও একসময় আয়ারল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলেই পাড়ি জমিয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডে।
তাই পরিচিত কন্ডিশনে আয়ারল্যান্ডকে শক্ত প্রতিপক্ষ বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
উইকেটের আচরণ ও সুইং বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা আয়ারল্যান্ডকে একটা কৌশলী দল হিসেবে পরিচিতি দেয়।
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এসেক্সের চেমসফোর্ড মাঠের উইকেট এখনও দেখতে পারেনি তবে ম্যাচের আগের দিন বা ম্যাচের আগের কিছু সময় খানিকটা প্রস্তুতি নিতে পারবেন তামিম-সাকিবরা।
তামিম ইকবাল বলেন, এখন এমন কিছু বিষয় হয়ে গেছে যেগুলো ক্রিকেটারদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ওখানে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা চলছে।
গতকাল ইনডোরেই অনুশীলন করেছে দলটি।
সাকিব আল হাসান দলের সাথে যোগ দিয়েছেন এবং অনুশীলন করেছেন।
তামিম ইকবাল উইকেট না দেখলেও আগের খেলার ভিডিও দেখছেন বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমে।
তিনি বলেন, “কোন কম্বিনেশন নিয়ে আমরা খেলবো তা বলা যাবে উইকেট দেখার পরে”।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলটি ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে গেছে।
যেমন তাসকিন আহমেদ চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছেন, এখন ইবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও এখনও অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ফাস্ট বোলিং আক্রমণে আছেন।
নাসুম আহমেদের বদলে ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম, তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থেকেই একাদশে থাকছেন।
মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসানের কারণে বাংলাদেশ স্পিন ও পেস বোলিংয়ে একজন বা দুজন ক্রিকেটার নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পারে মাঝেমধ্যে, যেহেতু পুরোদস্তুর দুজন অলরাউন্ডার আছেন।
তবে বিশ্বকাপের বছরে খুব বেশি পরীক্ষা করতে নারাজ তামিম ইকবাল।
তিনি মনে করেন, একটা সময় পরে আর পরীক্ষা করা যাবে না।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ
মূলত এশিয়া কাপের স্কোয়াডকেই বিশ্বকাপের স্কোয়াড হিসেবে ধরে রাখছেন তামিম ইকবাল। তবে এশিয়া কাপ শেষ পর্যন্ত হবে কি না সেটাই নিশ্চিত নয়।
তাই আয়ারল্যান্ড সিরিজের দিকে নজর থাকবে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের।
যদিও আয়ারল্যান্ড সিরিজ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিশ্লেষকদের।
একে তো বিশ্বকাপ হবে ভারতের মাটিতে, দ্বিতীয়ত আয়ারল্যান্ড র্যাংকিংয়ের ১১তম দল।
তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে মাস দুয়েক আগে তিন ফরম্যাটেই সিরিজ জিতেছে।
২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য চলমান সুপার লিগে বাংলাদেশের অবস্থান চার নম্বরে এবং বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ।
আয়ারল্যান্ড আছে ১১ নম্বরে, এই সিরিজে যদি বাংলাদেশকে আয়ারল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারে তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে সমান পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে উঠে আসবে দলটি।
মোট জয়ের দিক থেকেও দক্ষিণ আফ্রিকার সমান হবে আয়ারল্যান্ড। সেক্ষেত্রে দেখা হবে নেট রান রেট, যদি তিন ম্যাচে জয় পেয়ে যায় সেখানেও একটা সংখ্যাগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।
অর্থাৎ সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার একটা সুযোগ রয়েছে আয়ারল্যান্ডের।








