সিরিয়ার লাতাকিয়া প্রদেশে আসাদ সমর্থকদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী সংঘর্ষ

    • Author, জ্যাক ল্যাপহাম
    • Role, বিবিসি

সিরিয়ার নতু্ন সরকারের প্রতি অনুগত সামরিক বাহিনীর সাথে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদ সমর্থকদের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে।

দেশটির লাতাকিয়া প্রদেশে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানঘাঁটির কাছে হওয়া ওই সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেখানে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসে বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ার ইসলামপন্থী সরকারের অনুগত এই বাহিনীর ওপর একই আঙ্গিকে একের পর এক সহিংস হামলা হচ্ছে।

দশকের পর দশক ধরে সিরিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আলাউতি সম্প্রদায়ের দখলে থাকা উপকূলীয় এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এই এলাকায় আসাদ পরিবারের শক্ত প্রভাব আছে।

সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে যে সামরিক বাহিনীর বিশাল এক বহর দেশটির জাবলে শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং বিবিসি স্বাধীনভাবে সেসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার রাতে সিরিয়া-ভিত্তিক স্টেপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সরকার-সমর্থিত সামরিক বাহিনী "প্রায় ৭০" জন আসাদ সমর্থককে হত্যা করেছে।

সেইসাথে, জাবলে ও আশপাশের এলাকা থেকে আরও ২৫ জনকে আটক করেছে।

অন্যদিকে, সংবাদ সংস্থা এএফপি একজন যুদ্ধ পর্যবেক্ষকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে এই সংঘর্ষে মোট ৪৮ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ২৮ জন আসাদ অনুগত যোদ্ধা এবং চার জন সাধারণ নাগরিক।

এদিকে, সিরিয়ার হমস ও আলেপ্পো শহরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে হোমসের আবাসিক এলাকার রাস্তায় ভারী বন্দুকযুদ্ধের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে ওই ভিডিওটি যাচাই করা যায়নি।

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল হাসান আবদুল ঘানি লাতাকিয়ায় আসাদ অনুগতদের প্রতি একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং সরকারি গণমাধ্যমে কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, "হাজার হাজার মানুষ তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে, অথচ কিছু মানুষ এখনও হত্যাকারী ও অপরাধীদের রক্ষার জন্য মৃত্যুকে বেছে নিচ্ছে। সিদ্ধান্ত স্পষ্ট‒ হয় অস্ত্র ছাড়ো বা অবশ্যম্ভাবী পরিণতির জন্য প্রস্তুত হও।"

সিরিয়ার এই অঞ্চলটি দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।

আলাউতির অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে তাদের সম্প্রদায় সহিংসতা ও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে হোমস ও লাতাকিয়ার মতো মফস্বল এলাকা।

নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুজ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।

এ সপ্তাহের শুরুতে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক রাসায়নিক অস্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থাকে জানিয়েছেন যে সিরিয়ার নতুন সরকার আসাদ শাসনের অধীনে উৎপাদিত অবশিষ্ট রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টানা ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে ডজনের বেশি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আছে বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে। যদিও আসাদ সরকার বরাবরই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে।