রিসিভার নিয়োগের পরও কেন বন্ধ হলো বেক্সিমকোর পোশাক কারখানা?

শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ছবির উৎস, BBC/COLLECTED

ছবির ক্যাপশান, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের সব বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা

বাংলাদেশে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বন্ধ হওয়া সব কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে গত দুই দিন ধরেই গাজীপুরে শ্রমিকরা সমাবেশ, বিক্ষোভ ও আন্দোলন করছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো দেশের বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম।

পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর গত ডিসেম্বরে বন্ধ করে দেয়া হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৬টি কারখানা।

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে গত নভেম্বরে বেক্সিমকো গ্রুপের সব সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য 'রিসিভার' নিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, রিসিভার নিয়োগ করার পরও কেন ওই গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেল? প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন চালু ও টিকিয়ে রাখতে সরকার কী পদক্ষেপই বা নিয়েছিলো?

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই কেন এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে?

শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, "বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ৩২টি ফ্যাক্টরির মধ্যে ১৬ টির কোনো অস্তিত্বই নেই। কিন্তু ওই ১৬টি কোম্পানির বিপরীতে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়েছে।"

মি. হোসেন বলেন, "কারখানায় লে অফ ঘোষণার সিদ্ধান্ত কোম্পানি কর্তৃপক্ষের, সরকারের নয়। এছাড়া বেশি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় কারখানাগুলো চালানোর জন্য কোনো ব্যাংকই তাদেরকে নতুন করে ঋণ দিতে পারছে না।"

এদিকে, বেক্সিমকোর বন্ধ হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা অবিলম্বে সব কারখানা খোলা, ব্যাংকিং ও এলসি সুবিধা এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
এম সাখাওয়াত হোসেন
ছবির ক্যাপশান, শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন

কারখানা বন্ধ রোধে সরকারের পদক্ষেপ কী?

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বকেয়া বেতন-ভাতা, বোনাসসহ নানা দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনে অস্থির হয়ে ওঠে পোশাক খাত।

গেল নভেম্বরে সরকার সমস্যা সমাধানে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বা রিসিভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।

সে সময় শ্রম উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন যেসব পোশাক কারখানা পরিশোধ করতে পারছে না তারা বেশিরভাগই ঋণখেলাপি। ফলে সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

ওই সিদ্ধান্তের আলোকেই বেক্সিমকোর পোশাক কারখানায় রিসিভার নিয়োগ দেয়া হয়।

গত ডিসেম্বরে বেক্সিমকোর ১৬টি কারখানায় লে অফ ঘোষণা করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

বিকেলে শ্রম উপদেষ্টা মি. হোসেন কারণ সম্পর্কে জানান বেক্সিমকোর যে পরিমাণ ঋণ রয়েছে তাতে কোনো ব্যাংক আর ঋণ দিতে পারছে না।

মি. হোসেন বলেন, "১২টি ফ্যাক্টরি ম্যানেজম্যান্ট লে অফ করেছে যা সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। বর্তমানে তিনটি চলমান রয়েছে। বেক্সিমকোর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত ৩২টি ফ্যাক্টরির বিপরীতে ২৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকাসহ বেক্সিমকো লিমিটেডের মোট ব্যাংক ঋণ বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।"

শুধু জনতা ব্যাংকের পাওনা টাকার পরিমাণই ২৩ হাজার টাকার বেশি বলে জানান মি. হোসেন।

এ পরিস্থিতির কারণে নভেম্বরে সরকার বেক্সিমকোর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গঠন করে।

ওই কমিটি জনতা ব্যাংক থেকে কারখানা শ্রমিকদের তিন মাসের বকেয়া বেতনের ব্যবস্থা করে বলে জানান মি. হোসেন।

কিন্তু বেতন পরিশোধ করার জন্য টাকার ব্যবস্থা হওয়ার পরে ডিসেম্বরে কোম্পানির পক্ষ থেকে এসব কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

এরই মধ্যে আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অর্থ বিভাগ থেকে ৫০ কোটি টাকা এবং সরকারের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে দশ কোটি টাকা সুদ-মুক্ত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান শ্রম উপদেষ্টা।

মি. হোসেন বলেন, "সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত সরকার ২২৩ কোটি টাকা প্রদান করেছে। অত্যধিক ঋণগ্রস্ত অবস্থায় ফ্যাক্টরিগুলো চালানোর জন্য কোনো ব্যাংকই তাদেরকে নতুন ঋণ দিতে পারছে না।"

বেক্সিমকোর এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রি, লিজ দেয়া বা হস্তান্তরের জন্য আইনানুযায়ী সব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে সজাগ রয়েছে উল্লেখ করে মি. হোসেন শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

একই সাথে দেশের স্বার্থে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এলাকায় সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা 'দেশের পোশাক খাতকে ধ্বংসের চেষ্টা' বলেও উল্লেখ এই উপদেষ্টা।

দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ট্রাকে আগুন

ছবির উৎস, TV GRAB

ছবির ক্যাপশান, কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে বুধবার শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর ট্রাকে আগুন দেয়া হয়

'কারখানা খোলার দাবিতে আন্দোলন'

লে অফ প্রত্যাহার করে কারখানা খুলে দেয়াসহ তিনটি দাবিতে আন্দোলন করছেন কারখানা শ্রমিক-কর্মচারীরা।

বেক্সিমকো ফ্যাশন্স লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান সৈয়দ মো. এনাম উল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আয় থেকে দায় শোধ, ব্যাংকিং ও ঋণ ব্যবস্থাপনা যদি মূল মন্ত্র হয়ে থাকে তাহলে বেক্সিমকো গ্রুপের সকল দায় দেনা নিয়মিতভাবে পরিশোধের জন্য এর বন্ধ রাখা প্রতিটি কারখানা খুলে দিয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করার কোনো বিকল্প নেই"।

বেক্সিমকোর ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য গঠিত কমিটির কথা উল্লেখ করে মি. উল্লাহ বলেন, "আমরা শুনি, আমাদের কাছে মেসেজ আসে পজিটিভ হচ্ছে। কিন্তু কোথায় যে জটটা আমরা বুঝতে পারছি না। এর মধ্যে ডিসেম্বরে লে অফের ঘোষণা দিয়েছে। "

এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার তিন দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজধানী ঢাকার পল্টনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে মি. উল্লাহ অবিলম্বে বেক্সিমকোর ব্যাংকিং এবং ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধা দেয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, "ব্যাংকিং ও এলসি সুবিধা ছাড়া দেশি- বিদেশি কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা যায় না। ছয় মাস যাবত বেক্সিমকোর গার্মেন্টস ডিভিশনের সব ব্যাংকিং ও এলসি সুবিধা বন্ধ আছে। একদিকে কারখানা বন্ধ, উৎপাদন নেই। অন্যদিকে দায় দেনার পরিমাণ প্রচার করে তা পরিশোধের জন্য সকল প্রকার চাপ অব্যাহত আছে।"

একই সাথে বেক্সিমকোর বন্ধ থাকা ব্যাক টু ব্যাক এলসি ওপেন করে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

অবিলম্বে বিদেশি ক্রেতাদের কার্যাদেশ পাওয়ার সুবিধার্থে বেক্সিমকোর ব্যাংকিং সুবিধা পুনপ্রতিষ্ঠা করার ব্যবস্থা নিয়ে উৎপাদন শুরু করার মাধ্যমে সব দায়-দেনা পরিশোধের দাবি জানান মি. উল্লাহ।

এছাড়া কারখানা ও ব্যবসা চলমান রেখে সকল বকেয়া বেতন এবং কোম্পানির দায়-দেনা পরিশোধের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানান।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে।

বুধবার শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর কারখানা ভাংচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় গাজীপুরের কাশিমপুর থানায় মামলা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার পোশাক কারখানার কর্মচারী, শ্রমিকরা গাজীপুরে এক সমাবেশে 'শাট-ডাউন' কর্মসূচি করার ঘোষণাও দেন।

সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

ছবির উৎস, TV GRAB

ছবির ক্যাপশান, বৃহস্পতিবার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে কিছু পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে

লে অফ কখন হয়?

আইনানুযায়ী কারখানায় কোনো কাজ না থাকা, পুঁজির অভাব দেখা দেয়া বা অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে কারখানায় লে অফ ঘোষণা করা হয়।

একইসাথে কারখানায় কাঁচামাল না থাকা, অবৈধ আন্দোলন বা ধর্মঘট চলমান থাকলেও লে অফ ঘোষণা করতে পারে কর্তৃপক্ষ।

তবে, মো. এনাম উল্লাহ জানান, "আমাদের ক্ষেত্রে তো এর কোনোটাই ছিল না। আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে কার্যাদেশ পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমরা সাব-কন্ট্রাক্ট করে চলতে পারতাম। তবে তারা আমাদের কোনো আশ্বাস না দিয়েই বরং লে অফ ঘোষণা করে দিয়েছে ডিসেম্বরে।"

তিনি জানান, লে অফের চিঠিতে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে–– "কোম্পানির নগদ টাকার অভাব, ব্যাংকিং কার্যক্রম, এলসি বন্ধ থাকা ও সরকারের সাথে বিভিন্ন দফায় আলাপ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষিতেই কর্তৃপক্ষ আর কোম্পানি চালাতে সক্ষম হচ্ছে না।"

পাঁচই অগাস্ট সরকার পতনের পর বেক্সিমকোর ব্যাংক হিসাবগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা যাচ্ছে না বলে জানান মি. উল্লাহ।

"বেক্সিমকো টাকা দেবে কোত্থেকে? তার তো অ্যাকাউন্ট বন্ধ। তার কার্যাদেশ নাই, সাব-কন্ট্রাক্ট করতে পারতেছে না, দেশের ভেতরের লোকাল কাজ করে পয়সা উপার্জন করার পথও বন্ধ," বলেন বেক্সিমকোর এই কর্মকর্তা।

তবে এসব কোম্পানির কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণের বিষয়টি তারা আগে জানতেন না বলে জানান সৈয়দ মো. এনাম উল্লাহ।

তিনি বলেন, "এখন এই পরিস্থিতিতে মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা শুনি কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি ছিল। যে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে সেখানে ক্যাপাসিটির বাইরে ঋণ নেয়া হইছে। আদতে সত্য কোনটা জানি না।"

মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম

ছবির উৎস, TV GRAB

ছবির ক্যাপশান, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের তিনটি ফ্যাক্টরির প্রশাসন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বলছেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ঋণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়

'ঋণ পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল'

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের তিনটি ফ্যাক্টরির প্রশাসন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ঋণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।

ঋণের বিষয়গুলো জানার পর কীভাবে ঋণ পুনরুদ্ধার করা যায় সে বিষয়ে জনতা ব্যাংক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে বলে জানান মি. কাইয়ুম।

তিনি বলেন, "ঋণের পরিমাণটা এতো বেশি হয়ে গেছে যে সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকেও কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না।"

ঋণ পুনরুদ্ধার করে দিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি প্ল্যান দেয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, "এখন যদি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রে এই ঋণ রিকভারি করার কোনো সুযোগ সরকারের হাতেও নেই। বা কোনোভাবে এটা রিকভারি করা সম্ভব না। সম্ভব একটাই আছে, প্রতিষ্ঠানটাকে ধরে রাখা যে প্রতি মাসে যে শিপমেন্ট, এক্সপোর্ট করি এর পরিপ্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে রিকভারি করা সম্ভব। এই প্রস্তাব সরকারকে, জনতা ব্যাংককে দেয়া হয়েছে।"

পাঁচই অগাস্টের পরে অর্ডার কম থাকলেও উৎপাদন চালু রাখতে সব ধরনের প্রক্রিয়া চালু রাখা হয় বলে জানান মি. কাইয়ুম।

কাঁচপুরে ২৩ একর জমি সরকারকে মর্টগেজ দেয়ার বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার প্রস্তাব সরকারকে দেয়া হয়।

চার মাসের জন্য এলসির সুবিধা সরকারের কাছে চাওয়া হয় বলে জানান মি. কাইয়ুম।

"চার মাস পর থেকে যে আয় হবে তা দিয়ে মাসিক ভিত্তিতে টাকা দিয়ে বছরে সাড়ে চারশ কোটি টাকা শোধ করা যাবে বলে সরকার, জনতা ব্যাংক সব জায়গাতেই প্রস্তাব দেয়া হয়," বলেন মি. কাইয়ুম।

কিন্তু সর্বশেষ মুহূর্তে ডিসেম্বরে লে অফ ঘোষণা করে তিন মাসের বেতন দেয়ার জন্য ১৮০ কোটি টাকা দেয়া হয়।

"একজন রিসিভারও আমাদের নিয়োগ দেয়া আছে। সেই রিসিভারের মাধ্যমে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে আপনাদের গার্মেটসগুলো, প্রতিষ্ঠানগুলো চলবে। কিন্তু সর্বশেষ লে অফ আসে," যুক্ত করেন মি. কাইয়ুম।

তিনি দাবি করেন, গত ১৩ বছরের ইতিহাসে বেক্সিমকোর এসব প্রতিষ্ঠানে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বেতন পরিশোধের নজির রয়েছে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, প্রায় প্রতিদিনই বকেয়া বেতনের দাবি আদায়ে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা (ফাইল ফটো)

'প্রশাসক বা রিসিভার নিয়োগ সাময়িক সমাধান'

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বিবিসি বাংলাকে জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি সাময়িক সমাধান।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা সিদ্ধান্ত নিতে হবে উল্লেখ করে মি. খান বলেন, "ফরেনসিকের ব্যাপার আছে। কেস বাই কেস ডিসিশন হবে। শেয়ার হোল্ডিং সিস্টেম থাকলে শেয়ার হোল্ডাররা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। রিস্ট্রাকচার করতে হলে সম্পদ যেটুকু আছে সেটার ভেতরে দিয়েই করতে হবে।"

আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ীই বেসরকারি কোম্পানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলেন মি. খান।