আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচনে অনিয়ম: ১৩৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপ-নির্বাচনের ভোটে অনিয়মের দায়ে ১৩৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
তাদের বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ প্রত্যেকের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচন কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তা ইসিকে একমাসের মধ্যে অবহিত করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে এই অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কোন প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন সে ব্যাপারে জানে না ইসি।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এসব তথ্য জানান।
গত ১২ই অক্টোবর ওই নির্বাচনে ভোট-গ্রহণের সময় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরদিন অনিয়মের তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে ইসি।
তারা স্থানীয়ভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
সিসিটিভি ক্যামেরায় গোপন বুথে ঢুকে ভোট নেয়াসহ নানা অনিয়মের বিষয় সামনে এলে উপনির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এবার দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দিলেন সিইসি।
ইসি যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে, তারা হলেন - রিটার্নিং কর্মকর্তা যিনি রাজশাহী অঞ্চলের একজন নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১২৬ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের পাঁচ উপ-পরিদর্শক (এসআই)।
মি. আউয়াল জানান, “বিষয়টি বিচারিক না হলেও আধা বিচারিক কার্যক্রম। এখানে বিচার বিভাগীয় নীতি অনুসরণ করতে হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিচারিক নিয়ম নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। সেভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”
তদন্তের ভিত্তিতে শাস্তি ও দণ্ড দেয়ার বিষয়টি জনসমক্ষে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি প্রকাশ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে যেন ভবিষ্যতে এর নিবর্তনমূলক প্রভাব থাকে। যেন পরবর্তীতে যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন সকলেই যেন আইন কানুন, নিয়ম নীতি, বিধি সুস্পষ্টভাবে পালন করেন।”
রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচন কর্মকর্তা আইন, ১৯৯১-এর বিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ইসি সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান সিইসি।
এছাড়া, গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অসদাচরণের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার কথা জানিয়েছে ইসি।
তদন্তে ১২৫ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পাঁচটি কেন্দ্রের পাঁচ জন এসআই -এর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এজন্য আইন অনুযায়ী, ইসি সচিবকে ওই ১২৫ জন কর্মকর্তার নামের তালিকা তাদের স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণকারী ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের কারণে চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে।
তবে বাকি একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সহকারী কমিশনারের নাম জেনে (তদন্ত প্রতিবেদনে নাম উল্লেখ করা হয়নি) তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবৈধ আদেশ পালনের জন্য ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে চিঠি দেবে।
সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা সেটা কমিশনের সচিবকে এক মাসের মধ্যে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
সিইসি বলেন, নির্বাচন চলাকালে যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, সেখানে যারা নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন, তাঁদের তালিকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে আছে। যেহেতু নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতের পক্ষ থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই, তাই অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তালিকা দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান সিইসি।
দোষী নির্বাচনী এজেন্টদেরকে পরবর্তী নির্বাচনে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি করা হয়।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশের এসপির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা নির্বাচনে অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ মেলেনি।