বাখমুট দখল করতে পারেনি রাশিয়া- জোর দাবি জেলেনস্কির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদামির জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া এখনো বাখমুট পুরোপুরি দখল করতে পারেনি

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদামির জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া এখনো বাখমুট পুরোপুরি দখল করতে পারেনি

ইউক্রেনের শহর বাখমুট রাশিয়া সমর্থিত ভাড়াটে সৈন্যরা এখনো দখল করতে পারেনি বলে জোর গলায় দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদামির জেলেনস্কি। এর আগে রাশিয়ার ভাড়াটে আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ দাবি করেছিল যে, তারা বাখমুট শহর দখল করে নিয়েছে।

দলটির কমান্ডার ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন বাখমুট দখলের দাবি করলেও ইউক্রেনের সামরিক সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, এখনো শহরের উপকণ্ঠে বেশ কিছু ভবন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে জাপানে জি-সেভেন সম্মেলনে হিরোশিমা শহর সফরের সময় একটি সংবাদ সম্মেলনে মি. জেলেনস্কি বলেছেন, গত অগাস্ট মাসের পর থেকে কোন শহর দখলের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে চলা আর রক্তক্ষয়ী এই লড়াইয়ের পরেও ‘এখন পর্যন্ত শহরটি রাশিয়া দখল করতে পারেনি।‘

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আণবিক বোমা হামলার শিকার হিরোশিমা শহরের সঙ্গে বাখমুটকে তুলনা করে মি. জেলেনস্কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, হিরোশিমার মতো করেই তার দেশ পুনর্গঠন করা হবে।

এর আগে মি. জেলেনস্কি মন্তব্যের কারণে বাখমুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, "বাখমুট আজ শুধুমাত্র আমাদের হৃদয়ে রয়েছে।"

আরও পড়তে পারেন:
গত বছরের অগাস্ট থেকে বাখমুট দখলের জন্য লড়াই করছে রাশিয়ার ভাড়াটে সৈন্য বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, গত বছরের অগাস্ট থেকে বাখমুট দখলের জন্য লড়াই করছে রাশিয়ার ভাড়াটে সৈন্য বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ

মি. জেলেনস্কির কার্যালয় অবশ্য পরে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে যে, শহরটির পতন হয়েছে, এমন কিছু তিনি বলেননি।

তবে বাখমুটের বেশিরভাগ এলাকা এখন রাশিয়ার সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

জাপানে হিরোশিমার সঙ্গে বাখমুটের আরও কিছু তুলনা তুলে ধরে মি. জেলেনস্কি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তোলা হিরোশিমা শহরের ছবি দেখে তার বাখমুটের বর্তমান অবস্থার কথা মনে পড়ছে।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

‘’এখন হিরোশিমা তাদের শহর আবার গড়ে তুলেছে, আমরাও আমাদের শহরগুলো গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি,’’ তিনি বলেন।

ইউক্রেনের একজন জেনারেল বলেছেন, তাদের সৈন্যরা বাখমুটের উপকণ্ঠে ভালো অবস্থান তৈরি করছে এবং শহরটি আস্তে আস্তে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কৌশলগত দিক থেকে রাশিয়ার কাছে বাখমুটের গুরুত্ব সামান্য।

কিন্তু ইউক্রেনে এই লম্বা যুদ্ধে এই শহরের দখল তাদের জন্য একটি বিজয়ের একটি প্রতীক হিসাবে তারা দেখছে।

গত গ্রীষ্মের সময় রাশিয়া যখন কঠোর লড়াই করে সেভেরোদনেৎস্ক এবং লাইসেচাস্ক দখল করেছিল, ইউক্রেন সেই সময় অন্য এলাকায় অনেক এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।

এ বছরেও সেই একই কৌশল অনুসরণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপানে তিন দিনের জি-সেভেন সম্মেলনেও ইউক্রেনের যুদ্ধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছেন মি. জেলেনস্কি।

সম্মেলনেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তাদের মিত্র দেশগুলো যদি ইউক্রেনকে সর্বাধুনিক যুদ্ধ বিমান সরবরাহ করে, তারা সেই পদক্ষেপকে সমর্থন দেবে। এর মধ্যে আমেরিকান এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও রয়েছে।

যদিও এখনো কোন দেশ ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান সরবরাহ করার ঘোষণা দেয়নি।

এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান পাওয়ার ব্যাপারে ইউক্রেন কতটা আশাবাদী, বিবিসির এমন এক প্রশ্নের জবাবে মি. জেলেনস্কি বলেছেন, "আমরা এই নিয়ে কাজ করছি, আমি নিশ্চিত...আমি আপনাকে বলতে পারবো না যে কতগুলো

বিমান আমরা পাবো- এটা গোপন কিছু না, আমরা আসলে এখনো জানি না।"

ইউক্রেন কবে নাগাদ পাল্টা আক্রমণ শুরু করবে, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আমরা যখন পাল্টা হামলা শুরু করবো, রাশিয়া সেটা টের পাবে।"