আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইনসুলিন রেসিস্টেন্স কী এবং রোজা রাখলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?
- Author, সুমাইয়া নাসের
- Role, বিবিসি নিউজ অ্যারাবিক
ইনসুলিন শব্দটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমাদের অনেকের কাছেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ও গণমাধ্যমে 'ইনসুলিন রেসিস্টেন্স' সম্পর্কে নানা তথ্য-উপাত্ত এবং আলোচনা দেখা যায়।
যখন শরীরের বিভিন্ন কোষ ইনসুলিনকে ব্যবহার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে বা ইনসুলিনের বিরুদ্ধে শরীরের অঙ্গগুলো প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাকেই ইনসুলিন রেসিস্টেন্স বলা হয়। এতে শরীরে গ্লুকোজ বা ব্লাড সুগার বেড়ে যায়।
ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ইনসুলিন রেসিস্টেন্স নিয়ে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে হাজারো ভিডিও কন্টেন্ট রয়েছে, যেখানে ব্যায়াম এবং নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এই কন্টেন্ট নির্মাতাদের দাবি, নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়াম করলে ইনসুলিন রেসিস্টেন্স থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বা এর প্রভাব কমানো যেতে পারে।
ইনসুলিন রেসিস্টেন্স নিয়ে এতো আলোচনার কারণ হলো এটি মানবদেহে জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন টাইপ টু ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে।
এই প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, 'ইনসুলিন রেসিস্টেন্স' আসলে কী, এর সাধারণ লক্ষণ কী এবং রোজা রাখার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কিনা?
ইনসুলিন কী?
ইনসুলিন হলো মানবদেহে থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো অগ্নাশয়, যার মূল কাজ হলো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করা।
ইনসুলিনের মূল কাজ হলো আমাদের শরীরে ব্লাড সুগার (রক্তের শর্করা) নিয়ন্ত্রণ বা নিয়মিত করা। আমাদের শরীর শক্তির মাধ্যমে ইনসুলিন সংরক্ষণ করে।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন উৎপন্ন হয় এবং গ্লুকোজকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
যদি অগ্নাশয় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন যথাযথ পরিমাণে তৈরি না করে অথবা খুব কম তৈরি করে অথবা শরীর অগ্নাশয় থেকে তৈরি ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আমাদের শরীরে ইনসুলিন কীভাবে কাজ করে
আমরা যে খাবারই খাই না কেন, আমাদের শরীর তা গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে এবং এই গ্লুকোজই আমাদের শরীরের শক্তির প্রধান উৎস।
পরবর্তী পর্যায়ে, এই গ্লুকোজ আমাদের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং এই সময় আমাদের অগ্নাশয় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন নিঃসরণ করে।
এই ইনসুলিন রক্তপ্রবাহে থাকা গ্লুকোজকে আমাদের পেশী এবং লিভার কোষে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে।
যাতে এই গ্লুকোজকে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায় অথবা পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা যায়।
যখন গ্লুকোজ আমাদের শরীরের কোষে প্রবেশ করে এবং রক্তে এর মাত্রা কমে যায়, তখন অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়।
এক কথায় রক্তে চিনির মাত্রা কমে যাওয়াকে অগ্নাশয় ইনসুলিন নিঃসরণ বন্ধ করার সংকেত হিসেবে ধরে।
ইনসুলিন রেসিস্টেন্স কী?
'ইনসুলিন রেসিস্টেন্স' একটি জটিল প্রক্রিয়া যা তখন ঘটে যখন আমাদের লিভার এবং পেশীগুলো ইনসুলিন ব্যবহার করার পরিবর্তে এটি প্রতিরোধ করতে শুরু করে।
এর ফলে আমাদের শরীরের অঙ্গগুলো আমাদের রক্তে থাকা গ্লুকোজকে কার্যকরভাবে শোষণ বা সঞ্চয় করা বন্ধ করে দেয়।
এই পরিস্থিতির কারণে অগ্নাশয় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং আমাদের রক্তে থাকা গ্লুকোজের অতিরিক্ত পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি এবং নিঃসরণ করতে থাকে।
শরীরের এই অবস্থাকে 'হাইপার ইনসুলিনিমিয়া' বলা হয়।
যখন শরীরের কোষ এবং অঙ্গগুলো ইনসুলিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আরও বাড়িয়ে দেয়, তখন এটি রক্তে গ্লুকোজের অতিরিক্ত পরিমাণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই পরিস্থিতি টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।
ইনসুলিনের বিরুদ্ধে কোষ যতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ততোই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকবে, যা সময়ের সাথে সাথে টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ফ্র্যাঙ্কলিন জোসেফ বলেন, ইনসুলিন রেসিস্টেন্স একটি জটিল পরিস্থিতি যার সাথে আমাদের জীবনযাপন, পরিবেশগত কারণ এবং জেনেটিক্স সম্পর্কিত।
ইনসুলিন রেসিস্টেন্স কেন হয়
এই সমস্যার হওয়ার কারণ একেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।
কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ফ্র্যাঙ্কলিন জোসেফ বলেন, কোনো ব্যক্তির শরীরে ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের পেছনে নিম্নলিখিত কারণগুলো দায়ী হতে পারে:
১. স্থূলতা বা শরীরে অতিরিক্ত চর্বি (বিশেষ করে পেটে চর্বি) শরীরে ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের বড় কারণ হতে পারে।
২. শারীরিক পরিশ্রম না করা: আমাদের জীবনযাপনে শারীরিক কার্যকলাপের অভাবও এর কারণ হতে পারে।
৩. জেনেটিক্স: কিছু মানুষ জিনগতভাবে ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের শিকার হন।
৪. খারাপ খাদ্যাভ্যাস: প্রক্রিয়াজাত খাবার, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটস এবং চিনিযুক্ত খাবার আমাদের শরীরে ইনসুলিন রেসিস্টেন্স বাড়িয়ে দিতে পারে। কেননা এই খাবারগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে সময়ের সাথে সাথে অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিনের নিঃসরণ বেড়ে যায়।
৫. দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ: আমাদের শরীরের স্ট্রেস হরমোন (যেমন করটিসল) রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
৬. ঘুমের সমস্যা: ঘুমের অভাব বা ঘুমের মান খারাপ হলে আমাদের শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ঘুমের অভাব শরীরের হরমোনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে এবং ইনসুলিন রেসিস্টেন্স সৃষ্টি করতে পারে।
৭. স্বাস্থ্যগত জটিলতা: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এবং ফ্যাটি লিভারের মতো রোগগুলো ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৮. বয়স: বয়স যতো বাড়ে, আমাদের অঙ্গ এবং তাদের কোষ ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেসিস্টেন্স তৈরি হয়।
রমজানের রোজা
রমজান মাসে মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেকে এই মাসে নিয়মিত রোজা রাখেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো যে, যারা কোনো অসুস্থতা বা রোগে ভুগছেন, তাদের রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল বার্মিংহামের সাথে যুক্ত ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ওয়াসিম হানিফ বলেন, বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
তিনি বলেন, "যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে, তবে রোজা রাখা আপনার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং এটি অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে।"
তার মতে, কিছু চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে যে রোজা রাখা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা (ইনসুলিনের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া) বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যারা টাইপ টু ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেসিস্টেন্সে আক্রান্ত।
এছাড়া রমজান মাসে অনেকের ওজন হ্রাস হতে পারে বা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে যেতে পারে।
এই পরিবর্তন ইনসুলিনের প্রতি আমাদের শরীরের সংবেদনশীলতা এবং মেটাবলিজম অর্থাৎ হজমশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যারা স্থূলকায় (মোটা) তাদের ক্ষেত্রে।
তিনি আরও বলেন, রমজান মাসে রোজা রাখার ফলে ইনসুলিন রেসিস্টেন্সে প্রভাব একেকজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে একেকরকম হতে পারে।
এটি নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যকলাপের উপর।
"রমজানে রোজা রাখার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের উচিত হবে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখা, যাতে তারা সুস্থতার সাথে এবং নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।"
ওমানে অবস্থানরত পুষ্টিবিদ রীম আল-আবদুল্লাহ বলেন, "আপনি যদি রমজান মাসে মাঝে মাঝে রোজা রাখেন অথবা নিয়মিত রোজা রাখেন, তাহলে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
'ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং' কোন সমাধান?
আজকাল ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা একটানা না খেয়ে থাকা একটি প্রচলিত প্রথা, এবং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ওজন কমানো।
একটানা ক্ষুধার্ত থাকা বা রোজা রাখা সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে পৃথিবীজুড়ে বেশ কিছু মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
অনেক ডাক্তার এবং পুষ্টিবিদ এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়েও কথা বলছেন।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মানে হলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাবার এড়িয়ে চলা। এই পদ্ধতি নির্দিষ্ট দিন বা সপ্তাহব্যাপী চালিয়ে যেতে হবে। (Intermittent fasting refers to abstaining from eating for a specific day or week.)
ডাক্তার নিতিন কাপুর ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ক্রিস্টিয়ান মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি (হরমোনজনিত সমস্যা যেমন ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং থাইরয়েড) বিভাগের অধ্যাপক।
তিনি বলেন, কিছু চিকিৎসা গবেষণা দেখা গিয়েছে যে একটানা রোজা রাখার স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে, তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়।
তিনি প্রশ্ন করেন, "আপনি কি সারা জীবন ধরে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করতে পারবেন?"
তিনি আরো বলেন, "হতে পারে কিছু সময় এইভাবে করলে আপনার ওজন কিছুটা কমতে পারে, তবে যখনই আপনি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বন্ধ করবেন, তখনই আপনার ওজন আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যাবে।"
অন্যদিকে, অধ্যাপক জোসেফ বলেন, একটানা রোজা রাখা বা ক্ষুধার্ত থাকা নিয়ে এখনো চিকিৎসা গবেষণা চলছে।
তবে যে গবেষণাগুলো রয়েছে সেখান থেকে ধারণা করা যায় যে এটি শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের লক্ষণ কী?
আমাদের শরীরে ইনসুলিন রেসিস্টেন্স বা ইনসুলিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রাথমিক লক্ষণগুলো খুব বেশি বোঝা যায় না।
তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে যা আপনার শরীরে এই সমস্যা থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে।
অধ্যাপক জোসেফের মতে, এই লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তিবোধ, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়লে, ত্বকে কালো দাগ (বিশেষত গলা, বগল বা কোমরে), উচ্চ রক্তচাপ, ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম।
তিনি আরো বলেন, যদি ইনসুলিন রেসিস্টেন্স টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেয় তবে আরো কিছু লক্ষণের দেখা দিতে পারে যেমন: বারবার প্রস্রাব হওয়া, পিপাসা বেড়ে যাওয়া এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ইত্যাদি।
অধ্যাপক জোসেফ জোর দিয়ে বলেছেন, এই লক্ষণগুলো একেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একেকরকম হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এই একই ধরণের লক্ষণ শরীরের অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা রোগের কারণেও হতে পারে।
তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে সমস্যাটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়।
অধ্যাপক জোসেফের মতে, গবেষণা দেখা গিয়েছে ইনসুলিন রেসিস্টেন্সে আক্রান্ত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ এক পর্যায়ে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন।
যদি সময়মতো চিকিৎসা করা না হয়, তবে এই সমস্যা আরো গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইনসুলিন রেসিস্টেন্স থেকে মুক্তি পাওয়া কি সম্ভব?
অধ্যাপক জোসেফ বলেন, "জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের মাধ্যমে ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া বা কিছুটা হলেও পরিস্থিতি ভালো করা সম্ভব।"
পুষ্টিবিদ রিম আল- আবদাল্লাত ইনসুলিন রেসিস্টেন্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের "তাদের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া, মিষ্টি এড়িয়ে চলা এবং যতটা সম্ভব কম স্টার্চযুক্ত খাবার খাওয়ার" পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক জোসেফ এবং রিম উভয়েই ব্যায়াম করাকে জীবনযাত্রায় নিয়মিত কাজের অংশ করার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে ওজন কমালে, বিশেষত পেটের চারপাশে চর্বি কমালে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ভালো হতে পারে।
অধ্যাপক জোসেফ বলেন, "দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।"
"ধ্যান, যোগব্যায়াম, গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের অভ্যাস বা প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি সময় কাটানোর মতো কৌশলগুলোর মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।"
এমন পরিস্থিতিতে ঠিকমতো ঘুমানোও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শেষমেশ সব ব্যক্তির জন্য পরামর্শ হলো, তারা এই বিষয়ে তাদের চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন, চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করুন যাতে এটি নির্ধারণ করা যায় যে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সবচেয়ে ভাল উপায় কী হতে পারে।
তবে, পরিশেষে, সব মানুষের জন্য পরামর্শ হলো তারা যেন এই বিষয়ে তাদের চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় কী হতে পারে তা নির্ধারণ করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া যায়।