আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
লেবাননে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের স্থল অভিযান
ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে স্থল অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে তাদের ডিফেন্স ফোর্স আইডিএফ। যেসব জায়গায় হামলা হচ্ছে সেগুলো ইসরায়েলি কমিউনিটির জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে তারা।
হামলার আগে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বৈরুতে শহরের তিনটি এলাকা থেকে স্থানীয় অধিবাসীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
এর আগে হেজবুল্লাহর ডেপুটি কমান্ডার নাইম কাসেম বলেছেন ইসরায়েলের স্থল অভিযানের জন্য তারা প্রস্তুত এবং এই যুদ্ধ ‘দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে’। হেজবুল্লাহর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে হাসান নাসরাল্লাহর মৃত্যুর পর তিনিই প্রথম কোনো মন্তব্য করলেন।
লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে গত দুই সপ্তাহে অন্তত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেখানে এবং ঘরবাড়ি ছাড়া হতে পারে দশ লাখেরও বেশি মানুষ।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়ুভ গ্যালান্ট সীমান্তের কাছে সৈন্যদের উদ্দেশে বলেছেন ইসরায়েল ‘আকাশ, সাগর ও ভূমি’ থেকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যাভিড ল্যামি উভয়েই যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়েছেন- যদিও তারা বলেছেন ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার থাকা উচিত।
শরণার্থী শিবিরে হামলা
একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেছেন লেবাননের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির আইন আল-হিলওয়েতে সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এএফপি ও রয়টার্স- উভয় বার্তা সংস্থাই সেখানকার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ফাতাহ’র সামরিক শাখা ছিল ওই হামলার টার্গেট।
এক বছর লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে সহিংসতা শুরুর পর এই শরণার্থী শিবিরে হামলার ঘটনা এটাই প্রথম বলে মনে করা হয়।
দামেস্কে বিমান হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যখন দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানের খবর নিশ্চিত করেছে তখন প্রতিবেশী সিরিয়া থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিন ব্যক্তির নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
সিরিয়ান রাষ্ট্রীয় টিভি এক বিবৃতিতে তাদের ‘অ্যাংকর সাফা আহমদ রাজধানী দামেস্কে ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত’ হবার খবর জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েল এখনো এই হামলার খবর নিশ্চিত করেনি। বিবিসিও এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
ভূমধ্যসাগরে ড্রোন ভূপাতিত
ইসরায়েলের বিমান বাহিনী জানিয়েছে তারা ইসরায়েল উপকূলের কয়েক কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরের ওপরে একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে কিংবা ঠিক কোথায় এটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি বিপজ্জনক মুহূর্ত
বৈরুত থেকে বিবিসির আনা ফস্টার জানান যে স্থানীয় সময় রাত দুটোর কয়েক মিনিট আগে ইসরায়েলের স্থল অভিযানের চূড়ান্ত খবর এসে পৌঁছায় লেবাননে।
তার মতে আইডিএফ এর বিবৃতিতে এটিকে ‘সীমিত’ ও সুনির্দিষ্ট বর্ণনা করলেও এ যুদ্ধ এতটা সরল থাকার নিশ্চয়তা নেই।
এক সপ্তাহর বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর হেজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামোর কতটা এখনো অক্ষত আছে তা বলা কঠিন।
যদিও এখন পর্যাপ্ত গোলাবারুদ তাদের হাতে থাকে তাহলে তারা ইসরায়েলের ভিতরে শহরের দিকে হামলা করতে পারে- এমন সম্ভাবনা আছে।
ইয়েমেনে হুতি কিংবা সিরিয়া ও ইরাকের সামরিক গোষ্ঠীগুলোর মতো এখানেও এই অঞ্চলের অন্য ইরান সমর্থিত শক্তিগুলো ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বা কাছাকাছি এলাকায় হামলা করতে পারে।
গত এপ্রিলের মতো ইরান নিজেও আরেকটি হামলার পদক্ষেপ নিতে পারে। এর সব কিছুই হতে পারে আবার কিছু নাও হতে পারে।
তবে এটি এই অঞ্চলের জন্য আরেকটি বিপদসংকুল মূহুর্ত।
সীমান্ত হুমকি ধ্বংস করতে চায় ইসরায়েল
জেরুসালেম থেকে বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরো চিফ জো ফ্লোটো লিখেছেন যে চলমান স্থল অভিযানটি মনে হচ্ছে সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি এলাকায় হচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে যেসব অবকাঠামো ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে স্থানীয় মানুষদের জন্য হুমকি হিসেবে মনে হয় সেখানকার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে এ হামলা হচ্ছে।
এ হুমকি দীর্ঘদিন ধরেই আছে। কিন্তু গত বছর সাতই অক্টোবরে ইসরায়েলে হামলার পর থেকে দেশটির সরকার ও সামরিক বাহিনী আর কোনো হুমকি মেনে নিতে রাজি নয়।
হেজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ইসরায়েলের গালিলি অঞ্চল দখলের উচ্চাভিলাষ পোষণ করে আসছে। ইসরায়েল এর আগে হেজবুল্লাহর টানেল নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করেছে। এ টানেল এতোটাই বিস্তৃত যে শত শত যোদ্ধা কয়েক মিনিটে এর মাধ্যমে ইসরায়েলের ভেতরে চলে যেতে পারে।
সে কারণে গত দুই সপ্তাহের হামলার পরেও এটি পরিষ্কার যে ইসরায়েলের সীমান্তের কাছে সামরিক সরঞ্জাম, বাঙ্কার ও টানেল পুরোপুরি ধ্বংসের আগে চলমান সংঘাত বন্ধ করতে চায় না ইসরায়েল।
সেই অভিযানই দেশটি রাতে শুরু করলো।