মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে বিজেপির সখ্যতা নিয়ে কেন সরব রাহুল গান্ধী?

ছবির উৎস, Getty Images
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতসীন তৃণমূল কংগ্রেস আসলে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটে লড়তে গিয়ে বিজেপিকেই সাহায্য করছে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পরে দুটি দলের মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে ভোট প্রচারে গিয়ে বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে বিজেপিকে জেতাতেই মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ওই রাজ্যে ভোটে লড়ছে। তিনি গোয়া বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গও তোলেন।
তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা বলেছে যে পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ এর ভোটে বামফ্রন্টের সঙ্গে তো জোট করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নেমেছিল কংগ্রেস, সেটা কি তাহলে বিজেপিকে সহায়তা করার উদ্দেশ্য নিয়েই করেছিল কংগ্রেস?

ছবির উৎস, Getty Images
ঠিক কী বলেছেন রাহুল গান্ধী? তৃণমূলই বা কী জবাব দিচ্ছে?
মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে এক জনসভায় বুধবার রাহুল গান্ধী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সারদা দুর্নীতির কথা আপনারা জানেন। তাদের (তৃণমূল কংগ্রেসের) ইতিহাস আপনারা জানেন। তারা গোয়াতেও গিয়েছিল, প্রচুর অর্থ খরচ করেছিল। তাদের উদ্দেশ্যটাই ছিল বিজেপিকে সাহায্য করা। মেঘালয়তেও ঠিক সেটাই করতে এসেছে তারা।"
“মেঘালয়ে তৃনমূলের উদ্দেশ্যই হল বিজেপি যাতে শক্তিশালী হয় আর তারা যাতে ক্ষমতায় আসে,” বলেেন রাহুল গান্ধী।
আর তাতে চরম খেপেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সুখেন্দু শেখর রায় বিবিসি বাংলাকে বলেন, “একদিকে বলা হচ্ছে যে সব বিরোধী দলকে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলা হবে, আর অন্যদিকে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বিষোদগার করা হচ্ছে, এটা তো দ্বিচারিতা।“
তিনি আরও বলছিলেন যে কংগ্রেস এই অভিযোগগুলো আগেও করেছে, নতুন কোনও কথা নয় এটা।
“পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগেও এই অভিযোগ তুলেছিল ওরা। তারপরে গোয়াতেও করেছে, ত্রিপুরা ভোটেও করেছে এখন মেঘালয়ে করছে। পশ্চিমবঙ্গে আমরা তো আগের থেকেও বেশি আসন নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছি, আর পাশাপাশি যারা ওই প্রচারটা করেছিল, তাদের কী অবস্থা? স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কংগ্রেসের কোনও আসন নেই। তাদের জোটসঙ্গী বামফ্রন্টও শূণ্য,” বলছিলেন মি. রায়।
রাহুল গান্ধী গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের যে প্রসঙ্গ তুলেছেন, তার জবাব দিতে গিয়ে সুখেন্দু শেখর রায় বলছিলেন, “আমরা পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্তের একটা রাজ্যে প্রথমবার ভোটে লড়তে গিয়েছিলাম। বেশিদিন সময়ও পাই নি আমরা, তাতেও গোয়ার প্রায় দশ শতাংশ মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন।“
মমতা ব্যানার্জী আর অভিষেক ব্যানার্জীর জনসভাগুলোতে যা লোক আসছে, তা দেখে “কংগ্রেসের মাথা ঘুরে গেছে” বলে মন্তব্য সুখেন্দু শেখর রায়ের।

ছবির উৎস, Getty Images
কেন এই সন্দেহ?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
কংগ্রেস এবং বামপন্থীরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপিকে সাহায্য করার অভিযোগ আগেও তুলেছে, তবে রাহুল গান্ধীর মতো দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভিযোগ আগে কখনও করেন নি।
“রাহুল গান্ধী এই অভিযোগটা করায় কথাটা বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধ বিজেপিকে সাহায্য করার বিষয়টা বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় আসছে বারবার। বিশেষত গোয়ার নির্বাচনে যে বিপুল অর্থ খরচ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, তা একরকম অবিশ্বাস্য,” বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভাশিস মৈত্র।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে গোয়ার নির্বাচনী খরচের যে হিসাব দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি, সেই তথ্য উল্লেখ করে মি. মৈত্র বলছিলেন, “গোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও কর্মসূচী ছিল না, এখনও নেই, কিন্তু শেষ বিধানসভা নির্বাচনে তারা ৪৭ কোটি টাকা খরচ করেছিল। অন্যদিকে বিজেপি ১৭ কোটি, কংগ্রেস ১২ কোটি টাকা খরচ করেছিল। একটা ছোট দল এই বিপুল পরিমান খরচ কেন করতে গেল, সেই প্রশ্নটা কিন্তু তখন থেকেই উঠছে।"
মি. মৈত্র আরও বলেন, "মেঘালয়তেও তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও কর্মসূচী ছিল না, কংগ্রেসের কিছু নেতা দলে যোগ দেওয়ার পরে সেখানে কাজ করতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।"
তার কথায়, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস যাওয়ার ফলে কংগ্রেসের ভোটটা দুভাগ হয়ে যাবে এবং তাতে বিজেপির সুবিধা হবে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।








