তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধিতাকারীরা গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবেন, সিলেটের সমাবেশে মির্জা আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ছবির উৎস, BNP Media Cell

ছবির ক্যাপশান, সিলেটের সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশের কোন নির্বাচন হবে না এবং এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এখন যারা বিরোধিতা করবে তারা গণশত্রু হিসেবে ধিকৃত হবে এবং তাদের চিহ্নিত করা হবে গণশত্রু হিসেবে। “সরকার লম্বা লম্বা কথা বলে। তারা বলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কোন সংবিধান? যে সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছো। সে সংবিধান আমরা মানি না,” বিভাগীয় শহর সিলেটে শনিবার বিকেলে এক সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করেছিলো।

বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের আগে দলটি চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে সমাবেশ করেছে।

বিএনপির সমাবেশের কর্মসূচি শুরু হয়েছিলো চট্টগ্রাম থেকে। আর এটি শেষ হওয়ার কথা আগামী দশই ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশের মধ্য দিয়ে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের সমাবেশটি নির্বিঘ্নে হলেও এরপর থেকে প্রতিটি সমাবেশের আগেই স্থানীয়ভাবে পরিবহন ধর্মঘট দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ বা সীমিত করে দেয়া হয়েছিলো। সিলেটের এ সমাবেশের আগেও পুরো অঞ্চল জুড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ বা সীমিত করে দেয়া হয়েছিলো শুক্রবার থেকেই। বিএনপি সমর্থকরা অবশ্য বৃহস্পতিবার থেকেই সমাবেশস্থলে সমবেত হতে শুরু করেছিলেন। শনিবার রাতেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ প্রায় পরিপূর্ণ ছিলো দলটির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ভিড়ে। বিকেলে মিস্টার আলমগীর যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের বাইরেও ছিলো দলটির বিপুল পরিমাণ সমর্থক। মিছিল ও শ্লোগানে সমাবেশস্থল মুখর করে রাখা সমর্থকদের অনেকে তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি বহন করছিলেন।

বিএনপির সমাবেশ

ছবির উৎস, BNP Media Cell

ছবির ক্যাপশান, সিলেটে বিএনপির সমাবেশের একাংশ।

এখনই হাসিনা সরকারের পদত্যাগ চাই

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন খালেদা জিয়া সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান সন্নিবেশিত করেছিলেন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না।

প্রসঙ্গত, ৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযোজন করে সংবিধান সংশোধন করেছিলো যা পরে আওয়ামী লীগ আমলে এক সংশোধনীতে আবার বাদ দেয়া হয়।

এরপর থেকেই বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

দলটি ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলো। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়।

যদিও এ নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগ ওঠে সরকারের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগ সরকার অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিও প্রত্যাখ্যান করে বলেছে আগের দুটি নির্বাচনের মতো সামনের নির্বাচনও শেখ হাসিনা সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির সমাবেশ

ছবির উৎস, Media Cell

ছবির ক্যাপশান, দুই দিন আগে থেকেই সমর্থকরা এসেছিলো তাদের দলের সমাবেশে যোগ দিতে।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

সিলেটের সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন এবার তারা বিষয়টি রাজপথেই ফয়সালা করবেন।

“আমাদের দফা এক, দাবি এক- এ সরকারের পদত্যাগ। শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আর এর ফয়সালা হবে রাজপথে। রাজপথেই সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার করবো,” সমাবেশে বলছিলেন তিনি। বিভাগীয় পর্যায়ের আগের সমাবেশগুলোর মতো সিলেটের সমাবেশ থেকেও মিস্টার আলমগীর অবিলম্বে পদত্যাগের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানান।

“অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং মধ্যবর্তী বা নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য কেয়ারটেকার সরকার করতে হবে,” বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিচার হতে জনতার আদালতে এবং এ বিচার হবে ভোট চুরি ও ডাকাতির জন্য।

সিলেট অঞ্চলের বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মিস্টার আলমগীর বলেন তার দলের শত শত নেতাকর্মী খুন ও গুমের শিকার হয়েছে।

“কিন্তু এখন মানুষ জেগে উঠেছে। আর হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। দাবি আদায় না করে মানুষ আর ঘরে ফিরে যাবে না। আমাদের লক্ষ্য একটাই- ভোটের অধিকার ফিরিয়ে নেয়া”।

তিনি সব রাজনৈতিক দলকে এ দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে আসার আহবান জানান এবং বলেন তারা সবাই মিলেই লড়াইয়ের মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করবেন।