কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা ও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ চার রাষ্ট্রদূতের বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার- এমন শিরোনাম করেছে দৈনিক ইত্তেফাক। এতে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ঢাকায় নিযুক্ত চার রাষ্ট্রদূতের বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্য দুই রাষ্ট্রদূত হলে ভারত ও সৌদি আরবের।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার বলেন, পৃথিবীর কোন দেশই বিদেশি কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা দেয় না। আমরা তিন-চারটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। সম্প্রতি আরো ১২ থেকে ১৫ টি দেশের রাষ্ট্রদূত বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে। এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সমানভাবে নিরাপত্তা দেয়া হবে। এজন্য চার জন রাষ্ট্রদূতের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মানবজমিন তাদের শিরোনামে বলেছে, ‘ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সৌদি দূতের স্থায়ী এসকর্ট সুবিধা বাতিল’। এতে বলা হয়েছে যে, এসব রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে পতাকার ব্যবহারও বন্ধ হচ্ছে।

নিউ এইজ তাদের শিরোনামে বলেছে, ‘Nothing to worry if govt bans imports from sanction imposers:PM’ এই খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি বিদেশি নিষেধাজ্ঞাকে ভয় পান না এবং যারা নিষেধাজ্ঞা দেবে তাদের কাছ থেকে কোন কিছু কিনবে না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানে সাম্প্রতিক সফর শেষে এ বিষয়ে সোমবার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন একথা বলেন তিনি।

নয়া দিগন্তের শিরোনাম, হঠাৎ করে স্যাংশন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিষোদগার কেন: মির্জা ফখরুল। এতে বলা হয়েছে, স্যাংশনধারী দেশের পণ্য বর্জনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমারও প্রশ্ন উনি কেন হঠাৎ করে এতদিন পর ওই স্যাংশনের ওপরে বিষোদগার করছেন। এখন বাংলাদেশ কী ক্রয় করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এটা আমরা সব জানি। তার পরিমাণও আমরা সব জানি। সুতরাং এটা তিনি কেন বলছেন তা আমরা সব বুঝতে পারি। তিনি সম্ভবত আমার মনে হয় ইরিটেটেড হয়ে আছেন। কেন ইরিটেটেড হয়ে আছেন সেটা আমার জানা নেই।

এমপিরা আসতে পারেন- দৈনিক যুগান্তরের আজকের পত্রিকার শিরোনাম এটি। এই খবরটিতে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সংসদ-সদস্যরা বা এমপি’রা চাইলে তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে নিতে কোনো আপত্তি নেই। সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এক প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটুকু উদারতা আমাদের আছে, আগেও আমরা নিয়েছি। এমনকি ২০১৪ সালে খালেদা জিয়াকেও আমি আহ্বান করেছিলাম। তখন তো আসেনি। আর এখন তো তারা(বিএনপি) পার্লামেন্টেও নেই। কাজেই ওদের নিয়ে চিন্তারও কিছু নেই।”

তিনি আরো বলেছেন, আমরা ওয়েস্টমিনস্টার টাইপ অব ডেসোক্রেসি ফলো করি। ব্রিটেনে কীভাবে ইলেকশন জয়, তারা কীভাবে করে, আমরা সেভাবেই নির্বাচন করব।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রায় সব সংবাদপত্রেই মূল শিরোনাম হয়েছে।

দেশ রূপান্তর পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে, বিএনপির কোন সুযোগ নেই, সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী। এতে বলা হয়, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হলেও সংসদে না থাকায় বিএনপির সেই সরকারে থাকার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

একই বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম ‘Polls-time govt a possibility but without BNP’ এই খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদে যেসব দলের প্রতিনিধিত্ব আছে তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে যদিও আগামী নির্বাচন হবে ব্রিটেনের ‘ওয়েস্টমিনস্টার টাইপ অব ডেমোক্রেসি’র মতো।

সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন কঠিন: সিইসি- এই শিরোনামটি করেছে সংবাদ। এই খবরে বলা হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা ‘কঠিন হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো এবং একই সঙ্গে সরকারের যে প্রতিষ্ঠান, যেমন প্রশাসন, পুলিশ; তারা যদি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা না করে সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের যে দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।’

দৈনিক যুগান্তরের আরেকটি শিরোনাম, আসন ঠিক রাখতে প্রধানমন্ত্রীকেও আপস করতে হয়: পরিকল্পনামন্ত্রী।

এতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, দেশে কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী আছে। দীর্ঘদিন থেকে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে। তাদের অবস্থানে হাত দেওয়া সরকারের জন্যও অনেক সময় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। প্রধানমন্ত্রীকেও আসন ঠিক রাখতে খেলাপিদের সঙ্গে আপস করতে হয়। সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেটবিষয়ক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

US not concerned about any particular party joining next polls in Bangladesh’ ডেইলি সানের শিরোনাম এটি। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোন দল অংশ নিলো কিনা তা নিয়ে উদ্বিঘ্ন নয় যুক্তরাষ্ট্র। বরং তারা চায় যে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু এবং অনুকূল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সংস্থা বিএসএস এর উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি আফরিন আখতার বলেছেন, “নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা তা নিয়ে আমরা কোন মন্তব্য করবো না, আমরা এর চেয়ে বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিবেশের উপর বেশি গুরত্ব দিচ্ছি।”

নিউ এইজ তাদের একটি শিরোনামে বলেছে, ‘BNP to hold road march in Dhaka again’। এই খবরে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ঢাকায় আবারো একটি রোড মার্চ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তাদের ১০ দফা দাবী মেনে নিয়ে নির্বাচনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে সরকারকে আবারো আহ্বান জানানো হবে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটনের উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আলাদাভাবে আগামী ১৭ ও ২৩শে মে এই রোড মার্চ অনুষ্ঠান করবে। এই দুটি ইউনিট আলাদাভাবে র‍্যালীও করবে আগামী ২০ ও ২৬শে মে।

সংবাদের শিরোনাম ‘খুলনা: নেতাকর্মীদের আটকাতে পারছে না বিএনপি, মাঠে আছে জামায়াতও’। এতে বলা হয়েছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্যে বিভেদ প্রকাশ্যে আসছে। নগর বিএনপির বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা আ’লীগ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন নয়-দলের রএমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।অন্যদিকে নগরের সাবেক নেতাদের সমর্থিত একটি অংশ নিজেদের রাজনৈদিতক ও দলীয় সমর্থন ধরে রাখা ও নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেয়ার পক্ষে।

আবহাওয়ায় বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত- এমন শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। এতে বলা হয়, শক্তিশালী কোন ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর সাধারণত বড় অঞ্চলজুড়ে প্রচুর বৃষ্টি হয়ে তাপমাত্রা কমে আসে। যে দেশে আঘাত করে, সেই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের দেশগুলোতেও তাপমাত্রা কমে আসে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখা আঘাত হানার সময় এবং আগে-পরে দেশে দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি আবহাওয়ায় বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ঘূর্ণিঝড় মোখার ক্ষয়ক্ষতির বিষয় নিয়ে একাধিক খবর প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। এমন আরেকটি শিরোনাম হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে নিয়ে যাওয়া ঘর নিয়ে চিন্তায় রোহিঙ্গারা।

অন্যান্য খবর

আইএমএফের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে দেশে বৈষম্য আরও বাড়বে- এমন শিরোনাম করেছে সংবাদ। এতে বলা হচ্ছে, নাগরিক সমাজের মতামত না নিয়ে দেশে আইএমএফ এর কর্মসূচি বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করলে বৈষম্য আরও বাড়বে। তাই যাদের জন্য আইএমএফ এর ঋণ নেয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে অথবা তাদের কল্যাণে যারা চিন্তা করে, সেসব প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষি।ঠত সিপিডি ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক সংলাপে এসব কথা বলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলা দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

একই অনুষ্ঠানের খবর প্রকাশ করেছে দৈনিক ইত্তেফাক। তাদের শিরোনাম, আইএমএফ শর্ত দেয়নি, তাদের উপর নির্ভরশীল নই:পরিকল্পনামন্ত্রী। এতে বলা হয়, একই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, আমরা আইএমএফ’র উপর নির্ভরশীল নই, তারা ঋণ দিতে কোন শর্ত দেয়নি। ....তারা উন্নয়ন সহযোগী, আমরা ঋণ নিয়ে থাকি এবং সুদ আসলে পরিশোধদ করি। বাজেটে উন্নয়ন সহযোগীদের অবদান মাত্র ২ শতাংশ।

নয়াদিগন্তের খবর ‘রুমানিয়াতে অবৈধ শ্রমিক আটকে চলছে অভিযান’। এতে বলা হয়েছে, পূর্ব ইউরোপের দেশ রুমানিয়াতে বিদেশি শ্রমিক আটকে ধরপাকড় অভিযান চলছে। এই অভিযানে বাংলাদেশী শ্রমিকরাও আটক হচ্ছেন। গত দুই সপ্তাহ আগে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানের অংশ হিসেবে তিন বাংলাদেশীকে রুমানিয়ার জেনারেল ইন্সপেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন আটক করে। এদের মধ্যে একজনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সমকালের শিরোনাম জাহাঙ্গীরকে আ’লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার। এতে বলা হয়েছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া চিত্রনায়ক ও সাংসদ ফারুকের মৃত্যুর খবরটিও রয়েছে সব পত্রিকার খবরে।