‘ফের কূটনীতির পাড়ায় হাঁটছে বিএনপি’

পত্রিকা

‘ফের কূটনীতির পাড়ায় হাঁটছে বিএনপি’- দৈনিক কালবেলার প্রধান শিরোনাম এটি। খবরে বলা হয়েছে, সংসদ বাতিল এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা দলটি এখনই কঠোর কর্মসূচিতে যাবে না। বরং পরিস্থিতি বুঝে রুটিন কর্মসূচিতে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তারা।

এর অংশ হিসেবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং একদফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী পাঁচ দিনের লিফলেট বিতরণ করছে দলটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজপথে কর্মসূচির পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়াতে বিএনপি এই মুহূর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও শুরু করেছে।

গত সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়তে পারেন:
পত্রিকা

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মুক্তির খবরও উঠে এসেছে কালবেলাসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার প্রথম পাতায়।

‘বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’- মানবজমিনের প্রথম পাতার শিরোনাম।

দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস কারাভোগের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মুক্তি পাওয়ার খবর এটি।

এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপি’র এই দুই শীর্ষ নেতা। প্রথমে মির্জা ফখরুল এবং চার মিনিট পরে আমীর খসরু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বাইরে আসেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সব সময় গণতন্ত্রের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য, ভাতের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। ইনশাআল্লাহ এই সংগ্রামে তারা জয়ী হবে। গণতন্ত্র ফেরানো চলমান আন্দোলন বিজয় না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে গত ২৯শে অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এবং ২রা নভেম্বর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে তাদের গুলশানের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ।

পরে ২৮শে অক্টোবর বিএনপি’র মহাসমাবেশের দিন প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ফখরুলের বিরুদ্ধে ১১টি এবং খসরুর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়।

পত্রিকা
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংঘাত নিয়ে প্রধান শিরোনাম করেছে দৈনিক ইত্তেফাক এবং প্রথম আলো।

‘ছাত্রলীগের সংঘাতের নেপথ্যে কিছু শিক্ষকের স্বার্থ’- শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় দুই শীর্ষ নেতা।

এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেও গ্রুপ আছে। তারা ছাত্রলীগের ঐ দুই গ্রুপকে ব্যবহার করেন।

আর এসব কারণেই কয়েক যুগ ধরে চলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বন্ধ হচ্ছে না।।

পূর্বশত্রুতার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই উপগ্রুপ বিজয় ও সিক্সটি নাইনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ২২ নেতকর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে এদেরই একটি গ্রুপ ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ফলে ক্যাম্পাসে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এই ছাত্রলীগ গ্রুপের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন এমন অভিযোগের কথাও খবরটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

সংঘর্ষ, হত্যা, দলাদলি, গ্রুপিংসহ নানা কারণে এই ছাত্রলীগ গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে অছাত্রদের সমন্বয়ে ক্যাম্পাস জুড়ে অসুস্থ রাজনীতির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তায় পড়ছে, অনুদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনছে বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে।

‘অনিয়ম ও দলাদলিতে অস্থিরতা’- শিরোনামের প্রথম আলোর খবরটিতেও প্রায় একই অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের তিন দফা সংঘর্ষে ২৪ জন আহত হবার খবর উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি, হলের নিয়ন্ত্রণ বেহাত, ছাত্রী নিপীড়ন, ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, অছাত্রদের দাপট- সব মিলিয়ে বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বারবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পত্রিকা

খবরে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের পথে পথে পণ্যবাহী ট্রাকে রাখঢাক ছাড়াই চলা চাঁদাবাজির খোঁজ নিতে প্রতিবেদক নিজে ব্যবসায়ী পরিচয়ে ট্রাকে করে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ঘুরে দেখেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, এই দূরত্বে একটি ট্রাককে ১৪ স্থানে ৫ হাজার ৪০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়, যার সঙ্গে আছে মাসিক চাঁদাও।

খবরে অভিযোগ করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে পোশাকধারী পুলিশ সদস্য, কখনও পুলিশ পরিচয়ে তাদের দালাল পণ্যবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে। এ কারণে পণ্যমূল্যের লাগামহীন দাম কোনোভাবে বাগে আসছে না।

এমনকি আগে পুলিশের চাঁদা আদায়ের ধরন ছিল টোকেন বা কার্ড দিয়ে পুরো মাসের চাঁদা তুলে নেওয়ার, যা এখন হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে খবরে বলা হয়, সবাই এ টাকার ভাগ পায়। না হলে এভাবে চাঁদাবাজি সম্ভব হতো না।

পত্রিকা

খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এবার মর্টার শেল ও গুলির বিকট শব্দ শোনা গেছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ শোনেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেলা ১১টা পর্যন্ত গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।

একইভাবে ভোর থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মর্টার শেল ও গুলির শব্দ শুনেছেন সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আবদুস বলেন, সীমান্তে সকাল থেকে খুব বেশি গুলির শব্দ পাচ্ছি। অনেক সময় বৃষ্টির মতো গুলির শব্দ হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আগুনের ধোঁয়াও দেখা যাচ্ছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তে মিয়ানমারের গোলাগুলির খবর পেয়েছি। সীমান্তে আমাদের বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

এদিকে গতকাল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধের মধ্যে পালিয়ে আসা ৩৩০ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এনিয়ে প্রধান শিরোনাম করেছে সংবাদ।

পত্রিকা

‘কড়া নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যদের হস্তান্তর’ শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, পালিয়ে আসা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ ৩৩০ জনকে দুই ধাপে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

তাদের মধ্যে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৩০২ জন, তাদের পরিবারের চার সদস্য, দুজন সেনা সদস্য, ১৮ জন ইমিগ্রেশন সদস্য এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম দফায় ১৬৫ জনকে এবং বিকেল ৪টায় দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৬৫ জনকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী নৌবাহিনী জেটিঘাট থেকে জাহাজে করে পাঠানো হয় গভীর সমুদ্রে অপেক্ষায় থাকা মিয়ানমারের জাহাজে।

এর আগে, ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে বিজিপির সংঘর্ষ শুরু হলে ৪ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন বিজিপির সদস্যসহ ৩৩০ জন।

পত্রিকা

এছাড়াও বৃহস্পতিবার নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সংবাদ সম্মেলনের খবরটি প্রায় সব পত্রিকায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।

‘আমরা ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি’ আজকের পত্রিকার শিরোনাম এটি।

খবরে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক তাদের আটটি প্রতিষ্ঠান জবরদখল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এনিয়ে পুলিশের কাছে প্রতিকার চাইলেও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে চিড়িয়াখানা রোডে গ্রামীণ টেলিকমের সুদৃশ্য ভবনে ১৬টি কোম্পানি আছে, যার প্রতিটির চেয়ারম্যান ড. ইউনূস।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ভবনে অবস্থিত আটটি অফিস দখল করে নেওয়া হয় বলে ড. ইউনূস গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানান।

তিনি বলেন, ‘ওই দিন থেকে তারা ভবনে তালা মেরে রেখেছে। নিজের বাড়িতে অন্য কেউ যদি তালা মারে, তখন কেমন লাগার কথা আপনারাই বলেন। তাহলে দেশে আইন-আদালত আছে কিসের জন্য? তারা আদালতে যেতে চায় না।’

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ব্যবসার মুনাফার টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় হয়নি, যা হয়েছে আইন মেনেই হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হবেন বলেও তিনি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের এক নারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ‘সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দখলকারীরা ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আমাদের কেউ তখন ভবনে ঢুকতে পারেননি। তারা ঝাড়ু হাতে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে। পরে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকেরা আসতে শুরু করলে তারা সরে যায়।’

পত্রিকা

খবরে বলা হয়েছে, প্রতি বছর দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের চিকিৎসা খরচ বাবদ বছরে অন্তত ৩৫০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্যে উঠে এসেছে।

এ ব্যয়ের পরিমাণ আরো বেশিও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে চিকিৎসা খাতে গত অর্থবছর (২০২২-২৩) বাংলাদেশিদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো আছে ১৭ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) এর পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ডলার।

সে অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ব্যয়ের দশমিক ১ শতাংশের তথ্যও ব্যাংক খাত তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নেই।

বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, তাদের খুব কমই এ বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করানোর পর বিদেশে গিয়ে তাদের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধ হয়েছে ৩২ লাখ ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা আরো কমে নেমে আসে ১৭ লাখ ডলারে।

চলতি অর্থবছরের (২০২৩-২৪) প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিদেশে স্বাস্থ্যসেবা বাবদ বাংলাদেশিরা ব্যয় করেছেন ১০ লাখ ডলার।

আবার বিডার এক পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ থেকে বছরে কমপক্ষে ৭ লাখ মানুষ চিকিৎসা ভিসায় বিদেশ যাচ্ছেন, সেখানে তাদের ব্যয় হয় ৩৫০ কোটি ডলার।

যদিও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের জোর সন্দেহ, প্রকৃতপক্ষে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহীতার সংখ্যা ও তাদের ব্যয় এর চেয়ে অনেক বেশি।

আবার বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশিদের বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের দশমিক শূন্য ৫ শতাংশেরও কম গেছে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক জার্নাল প্রকাশনা সংস্থা ফ্রন্টিয়ার্স ‘ডিটারমিনেন্টস অব বাংলাদেশি পেশেন্ট ডিসিশন মেকিং প্রসেস অ্যান্ড স্যাটিসফেকশন টুওয়ার্ড মেডিকেল ট্যুরিজম ইন ইন্ডিয়া’ শিরোনামে গত বছর প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়, ভারতের হাসপাতালগুলো বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি রোগী পায়। তবে মেডিকেল ভিসা ছাড়াও অন্যান্য ভিসা নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের তথ্যও রয়েছে এতে।

পত্রিকা

অনেকটা একই বিষয় নিয়ে দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম- ‘বিদেশে চিকিৎসায় ৪৮০০০ কোটি’

খবরে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী বেড়ে আট গুণ ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে বছরে সাড়ে তিন লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে গিয়েছিল ও তাদের ব্যয় হয়েছিল ২০৪ কোটি ডলার।

আর এখন যাচ্ছে প্রায় ২৭ লাখ ১০ হাজার রোগী, যার ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ২০১২ ও ২০২২ সালের পরিসংখ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পিএইচডি শিক্ষার্থী মুনিরা সুলতানার ২০২০ সালের নভেম্বরের গবেষণাপত্র ‘ফ্যাক্টর অ্যাফেক্টিং আউটবাউন্ড মেডিকেল ট্যুরিজম : এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’ ও ভারতের ট্যুরিজম মিনিস্ট্রি এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যান্য খবর:
পত্রিকা

‘আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বশক্তির’- যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি।

বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে খবরে বলা হয়েছে, দেশগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, কৌশলগত স্বার্থ, বঙ্গোপসাগরে সুবিধাপ্রাপ্তি, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে বাংলাদেশের প্রতি এই নজর।

দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আগে থেকেই এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল।

এছাড়াও দুই বৈরী প্রতিবেশী ভারত ও চীনের মাঝামাঝি বাংলাদেশের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এছাড়া বছরের পর বছর স্থিতিশীল ছয় শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি অর্জন বাংলাদেশের প্রতি শক্তিশালী দেশগুলোর নজর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে ঢাকাকে কাছে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তার প্রত্যাশা ভারতের। অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হতে চায় চীন। আবার ঢাকাকে নিজের কক্ষপথে দেখতে চায় মস্কো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।