কয়েক ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফিরেছে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক, বলছে কর্তৃপক্ষ

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন থাকার পর দুপুরে সংযোগ ফিরেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্রামীণফোনের কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান খায়রুল বাশার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অপটিক্যাল ফাইবার বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা গ্রামীণফোনের অনেক গ্রাহক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

মি. বাশার বলেছেন, “সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমরা নেটওয়ার্কের এই সমস্যা শনাক্ত করি। দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে আমাদের প্রকৌশলীরা সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হন। এখন গ্রাহকরা গ্রামীণফোনের সব ধরণের সেবা ব্যবহার করতে পারছেন।”

তবে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ শতভাগ সংযোগ ফিরেছে বলে দাবি করলেও, বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অনেক গ্রাহক সংযোগ ফিরে পাননি বলে জানা গেছে।

এর আগে গ্রামীণফোন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে একটি পোস্ট করে জানায় যে ‘ফাইবার অপটিক ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে’ সাময়িকভাবে ফোন করতে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে গ্রাহকদের।

ঐ পোস্টে তারা জানায় যে তাদের কর্মীরা এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

আরো পড়তে পারেন:

কী কারণে নেটওয়ার্কে এই সমস্যা

এর আগে সকাল ১১টা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের অনেকে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে সমস্যার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।

নেটওয়ার্ক না থাকায় ব্যবহারকারীরা ফোন করতে ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছিলেন না বলে তাদের পোস্টে উল্লেখ করেন।

গ্রামীণফোনের কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান মি. বাশার বলেছেন, কয়েকটি জেলায় সড়কে উন্নয়ন কাজের কারণে এই এ সমস্যার উৎপত্তি ঘটে।

তিনি বলেন, “গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ বিভাগের কাজ চলছে এখন। সেসময় রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি করার এক পর্যায়ে অপটিক্যাল ফাইবার ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং কিছু এলাকায় গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হয়।”

মি. বাশারের বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় গ্রামীণফোনের অনেক গ্রাহক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

তবে চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের আরো কিছু অঞ্চল থেকেও অনেক গ্রামীণফোন গ্রাহক সংযোগ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে আজ সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল সাত কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার প্রায়।

দেশের মোট গ্রাহকের সংখ্যা এখন ১৮ কোটি আট হাজারের মতো।