আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বাংলাদেশের কাছে হেরে ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা যা বলছেন
যদিও ছিল নিয়মরক্ষার ম্যাচ, তবুও রবিবারের এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হওয়ার দুদিন আগে বাংলাদেশের কাছে ভারতকে হারতে দেখে দেশটির ক্রিকেটপ্রেমী মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোনও বিশ্লেষক যেমন বলছেন যে এই হার লজ্জার, কেউ লিখেছেন রবিবার ফাইনালের আগে ভারতীয় দলের মনোবলে চিড় ধরিয়ে দিল এই ম্যাচ।
তবে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পত্রপত্রিকা, সবাই শুভমন গিলের সেঞ্চুরির নিয়ে খুবই উৎফুল্ল। আকষর প্যাটেলের ঝোড়ো ইনিংস নিয়েও তার প্রশংসা করছেন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
আবার শুভমন গিলের শতরান যে কোনও কাজে লাগল না, সেটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকে।
সাচিনের পরে শুভমন
কৌস্তুব গুডিয়াপতি নামে একজন এক্স (পূর্বতন টুইটার) ব্যবহারকারী লিখেছেন, সাচিন তেন্ডুলকর ২০১২ সালে আর শুভমন গিল ২০২৩ -এ – এশিয়া কাপে শতরান করেছেন, কিন্তু দুজনের শতরানই কোনও কাজে এল না, অর্থাৎ সেই ম্যাচ আর শুক্রবারের ম্যাচ দুটিতেই ভারত হেরেছে।
ঘটনাচক্রে দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশের কাছেই হেরেছে এবং এশিয়া কাপে মাত্র এই দুবারই বাংলাদেশের কাছে হেরেছে ভারত।
ক্রিকেটার রবিন উথাপ্পা শুভমন গিল আর আকষর প্যাটেলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের কথা যেমন লিখেছেন, তেমনই তানজিম হাসান সাকিব আর মুস্তাফিজুর রহমান অসাধারণ বোলিংয়েরও প্রশংসা করেছেন।
শুভমন গিলের শতরান
শুক্রবারের ম্যাচের কথা লিখতে গিয়ে প্রত্যেকেই শুভমন গিলের শতরানের উল্লেখ করেছেন।
একদিনের ক্রিকেটে এটি শুভমন গিলের পঞ্চম সেঞ্চুরি, এ বছরের চতুর্থ।
গত বছরের আগস্টে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরি (একটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ) এবং শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলার সময় একটি সেঞ্চুরি করেন তিনি।
শুভমন গিল প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক বছরে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
ওপরে ‘ফিদা’ বিশ্লেষকরা
শুভমন গিলের শতরান নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে খ্যাতনামা ক্রিকেট ভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে লিখেছেন, “কেন শুভমন গিল একজন শক্তিশালী ব্যাটসম্যান, সেটার ব্যাখ্যা তার ইনিংসেই পাওয়া যায়। তবে এখনও ‘ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস’। যখন তিনি ম্যাচ শেষ করা পর্যন্ত পৌঁছবেন, তখন তিনি এক আশ্চর্য প্লেয়ার হয়ে উঠবেন।”
প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং ধারাভাষ্যকার মুহম্মদ কাইফ এক্স-এ লিখেছেন “বিশ্বকাপের আগে গিলের সেঞ্চুরি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য সুখবর। চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি অবশ্যই তার প্রতিভার প্রতিফলন। তিনি নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।“
প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার মন্তব্য, শুভমন গিলের উচ্চমানের ইনিংস... ভারত যে পরিস্থিতিতে ছিল... এটা তার অন্যতম সেরা ইনিংস।“
বেশিরভাগ ক্রিকেট-প্রেমী শুভমন গিলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও আকষর প্যাটেলের ব্যাটিং নিয়েও সবাই উচ্ছ্বসিত।
নিশা নামে এক এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ভারত হেরে থাকতে পারে, কিন্তু আকষর প্যাটেল আমাদের হৃদয় জিতে নিয়েছে। কী সাহসী ইনিংস।“
স্যার বইসএক্স নামে আরেকজন এক্স-এ লিখেছেন , “ এই ম্যাচটাকে মনে রাখা হবে আকষর প্যাটেলের দুর্দান্ত প্রচেষ্টার জন্য।“
দল নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা
কেন ভারত হারল, তার পর্যালোচনা করছে ভারতে পত্র পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যম।
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা যেমন প্রতিবেদনের শুরুতেই লিখেছে যে ছয় রানে হারলেও ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা একেবারেই চিন্তিত নন।
পত্রিকাটি লিখেছে, “তিনি ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্যই এই দল গড়া হয়েছিল। সকলে আদৌ কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করতে তৈরি কি না, দেখে নিতে চেয়েছিলেন।“
তবে ওই পত্রিকাতেই ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক মালহোত্রা লিখেছেন যে ‘নিয়মরক্ষার ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হার যেমন লজ্জার, তেমনই বিশ্বকাপের আগে উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়ে গেল।‘
তার কথায়, মাঝের সারির ব্যাটিং ব্যর্থতা হার নিশ্চিত করে দিয়েছে। আবার এক জায়গায় তিনি লিখেছেন ‘বিরাট, বুমরা, হার্দিক, সিরাজ এবং কুলদীপকে বিশ্রামে রেখে দলকে নতুন ভাবে সাজিয়েছিল দ্রাবিড়। কিন্তু যা দেখলাম তাতে কি ধরে নিতে হবে যে, রিজার্ভ বেঞ্চের ক্রিকেটাররা সেভাবে তৈরিই নয়!”
মিডল অর্ডার যে পুরোপুরি ধ্বসে গিয়েছিল শুক্রবারের ম্যাচে, তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে সব পত্র পত্রিকাতেই।
রোহিত শর্মা সহ পাঁচ জন ব্যাটসম্যান যে দুই অঙ্কের রানও করতে পারেন নি, সেটাও উল্লেখ করা হচ্ছে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে।
আশুতোষ শ্রীবাস্তব নামে এক এক্স (আগেকার টুইটার) ব্যবহারকারী লিখেছেন কেএল রাহুল, সুর্যকুমার যাদভ, ইশান কিশান আর জাডেজা ‘নির্বোধ’এর মতো ব্যাট করেছে।
'শুধু শুভমন গিল আর আকশর প্যাটেল লড়াই করার সাহস দেখিয়েছে', মন্তব্য মি. শ্রীবাস্তবের।
রেকর্ড রবীন্দ্র জাডেজারও
শুক্রবারের ম্যাচ নিয়ে লিখতে গিয়ে ভারতের পত্র পত্রিকাগুলো এটাও লিখেছে যে ভারতীয় স্পিনার রবীন্দ্র জাডেজা একটা উইকেট পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এটা ছিল তার একদিনের আন্তর্জাতিকের দুশোতম উইকেট।
শামিম হুসেইনের উইকেটটি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ভারতের সেই বোলারদের দলে প্রবেশ করলেন, যাদের একদিনের ক্রিকেটে ২০০টি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
বিশ্বে এমন মোট ৪০ জন ক্রিকেটার আছেন যাদের এই রেকর্ড আছে।
ভারতে এর আগে অনিল কুম্বলে, জভাগল শ্রীনাথ, অজিত আগরকর, জাহির খান, হরভজন সিং আর কপিল দেব একদিনের ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের রেকর্ড আছে।