'নৌকা সরাবে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্রের দায়িত্ব নেবে না'

আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র পার্টির বোঝাপড়া নিয়ে সমকালের প্রধান শিরোনাম, ‘নৌকা সরাবে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্রের দায়িত্ব নেবে না’। খবরে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) মধ্যে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সেখানে ‘সম্মানজনক’ সংখ্যক আসন ছাড়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। জাপাকে ছেড়ে দেওয়া আসন থেকে নৌকা সরাতে রাজি হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দায়িত্ব নিতে চায় না শাসক দল।

অন্যদিকে জয় নিশ্চিতে জাপা চায়, তাদেরকে যেসব আসন ছাড়া হবে, সেখানে শুধু নৌকা নয়; আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও থাকতে পারবেন না।

বুধবারের বৈঠকে আওয়ামী লীগের কাছে ৬০টির বেশি আসনে ছাড় চেয়েছিল জাপা। আওয়ামী লীগ ১০-১২টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কমবেশি ৩০টি আসন ছাড়তে পারে।

আওয়ামী লীগের সাথে আসন সমঝোতা নিয়ে প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, ‘শরিক মিত্রদের নিজেদের শক্তিতে জয়ী হওয়া কঠিন’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দফায় দফায় শরিক ও মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

কিন্তু আসন ভাগাভাগি বা সমঝোতার বিষয়ে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটকে চূড়ান্ত কথা দিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা।

এদিকে, ১৭ই ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার পর্যন্ত এভাবে শরিক ও মিত্রদের অপেক্ষায় রাখতে চেয়েছে আওয়ামীলীগ। অন্যদিকে, জাপা ও ১৪ দলের শরিকরা আওয়ামীলীগের পেছনে আসন নিশ্চয়তার আশায় ঘুরছে।

এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি সহ সরকার বিরোধী আন্দোলনে থাকা দলগুলো।

কিন্তু এরপরও জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের নিজেদের শক্তিতে এককভাবে জয়ী হওয়া কঠিন। সে কারণে তারা আসল ভাগাভাগির পাশাপাশি জয়ের নিশ্চয়তা চাইছে।

এদিকে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিভক্তি প্রসঙ্গে যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর, ‘সংকটে তৃণমূল আওয়ামী লীগ’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এবারের বিএনপিবিহীন নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি আসনেই আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বাইরে দলের আরও এক বা একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নেমেছেন ভোটের লড়াইয়ে।

বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতে আওয়ামী লীগের এই কৌশলের কারণে বিপাকে পড়েছে দলটির তৃণমূল নেতারা। বেশিরভাগ আসনেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী এবং দলেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্র্মীরা।

এতে তৃণমূলে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ সংকট। পাশাপাশি প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এ অবস্থায় দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বিষয়টি সমাধান করা না গেলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে-এমন আশঙ্কা তৃণমূল নেতাকর্মীদের। যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, কৌশলগত কারণেই তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিএনপি নেতাদের কারাদণ্ড প্রসঙ্গে দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার খবর, ‘610 BNP-Jamaat men jailed in one month’ অর্থাৎ ‘এক মাসে বিএনপি-জামায়াতের ৬১০ নেতাকর্মী কারাদণ্ড’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে কয়েক বছর আগে দায়ের করা মামলায় গত এক মাসে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের ফ্রন্ট সংগঠনের অন্তত ৬১০ নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রাস্তায় অবৈধ জমায়েত, সংঘাত, ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, হামলা, পুলিশকে লাঞ্ছিত করা এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়াসহ নানা অভিযোগে ২০১২ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে দায়ের করা ৩০টি মামলায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে পুরনো মামলায় এত লোককে একসাথে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

কারাগারে মৃত্যু নিয়ে নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, ‘Deaths in jail on rise’ অর্থাৎ ‘কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে’। খবরে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে বিএনপির বেশ কয়েকজন কর্মীসহ এ বছর জেল হেফাজতে প্রায় ১০০ জন মারা গিয়েছে।

বিএনপি, অধিকারকর্মী এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এমন অভিযোগ করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে জেল হেফাজতে ৯৩ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে – যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

সম্প্রতি মারা যাওয়া বন্দীদের অধিকাংশের বয়স ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। এদিকে নয়ই ডিসেম্বর পর্যন্ত, দেশের ৬৮টি কারাগারে ৮৪ হাজার ৮৫১ জন বন্দী আছেন যা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ।

গত ২৮শে অক্টোবর ঢাকায় দলের মহাসমাবেশ ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে পুলিশ ২৩ হাজার ৬৪৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

সম্প্রতি জেল হেফাজতে মারা যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিবার অভিযোগ করেছে, কারাগারে পাঠানোর আগে ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না এবং গ্রেফতারের পর তাদের হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে।

আসকের দাবি, বাংলাদেশের কারাগারগুলো দুর্নীতিতে ভরা। কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং জনাকীর্ণ কারাগারের কারণে এ ধরনের মৃত্যু হতে পারে।

প্রার্থীতা ফেরত পাওয়া নিয়ে নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর, ‘প্রার্থিতা পেলেন ৫৬ নামঞ্জুর ৩২ জনের’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার মধ্যে ৫৬ জন প্রার্থী প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

এরমধ্যে রয়েছেন, বিকল্পধারার মাহি বি চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনী এবং আলেচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নৌকা প্রতীকের নাসিরুল ইসলাম খান।

এছাড়া ৩২ জন প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর আর ছয়জনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে ইসি থেকে জানা গেছে।

নির্বাচন ভবনে রোববার থেকে শুরু হয় প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিল শুনানি যা শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে ৫৬১টি আপিল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন।

নিপাহ ভাইরাস নিয়ে কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর, ‘নিপাহ ভাইরাস : চলতি বছরে ১০ জনের মৃত্যু’। খবরে বলা হচ্ছে, দেশে চলতি বছর নিপাহ ভাইরাসে ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চারজন শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবন যাপন করছে।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর এ সংখ্যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

রবিবার ঢাকার মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) আয়োজনে এবং আইসিডিডিআরবির কারিগরি সহায়তায় ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকি বিষয়ে অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

নিপাহ ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফল আহারি) গোত্রীয় বাদুড়। বাদুড় থেকে মানুষে এই রোগের সংক্রমণ হয়। বাংলাদেশে শীত মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সাধারণত খেজুরের কাঁচা রস পানের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়।

আইইডিসিআরের সভায় জানানো হয়, গত ২৩ বছরে দেশে ৩৩৯ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৪০ জন মারা গেছে।

নিপাহ ভাইরাসে জন্য এখনো কোনো অ্যান্টিভাইরাল আবিষ্কার হয়নি। বাংলাদেশে প্রথম নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয় ২০০১ সালে মেহেরপুরে।

রিজার্ভ নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের প্রধান শিরোনাম, ‘An injection of $1.73bn to keep reserves stable before polls’ অর্থাৎ ‘ভোটের আগে রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে ১৭৩ কোটি ডলার ঢোকানো হচ্ছে’

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য ৪০ কোটি ডলার পলিসি-ভিত্তিক ঋণের অনুমোদন দিয়েছে।

আগামী দুই দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বিতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপরন্তু, ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাংক থেকে সম্ভাব্য ২৫ কোটি ডলার ঋণ এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক থেকে আরও ৪০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সরকার বিভিন্ন দাতা সংস্থার থেকে ১৭৩ কোটি ডলার সংগ্রহের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আসন্ন ৭ই জানুয়ারির নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই তহবিল প্রবাহ।

এদিকে আইএমএফ ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ১২ই ডিসেম্বর ছাড় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসব উদ্যোগের কারণে ডিসেম্বরে রিজার্ভ কমবে না বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)সহ অর্থনীতিবিদরা।

বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে বণিক বার্তার প্রধান খবর, ‘ব্যাংক ও বিদ্যুৎ কোম্পানি উভয়ই ঝুঁকিতে’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে কেনা বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত আট মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। বিল না পাওয়ায় এরই মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

আবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ করা ব্যাংকগুলোর ঋণের কিস্তিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এতে দেশের অনেক বিদ্যুৎ কোম্পানিই খেলাপির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পাওনা থাকার বিষয়ে বিপিডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ বিভাগ থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ডলারের সংকট রয়েছে। যে কারণে এ বকেয়া আরো বেড়ে যাচ্ছে।