ঢাকার গুলশানের বহুতল ভবনে আগুনে নিহত দুই, দুজন চিকিৎসাধীন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন লাগার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়ে দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত দুই জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহতরা হলেন আনোয়ার এবং রাজু। তারা দুজনই ভবনটিতে বাবুর্চির কাজ করতেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান জোনের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল আহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা আগুণ থেকে বাঁচতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ার কারণে মারা গিয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তারা শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আরও দুজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

মি. আহাদ জানান, ১৯শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। দমকলকর্মীদের চেষ্টায় রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং রাত ১২টার মধ্যে তল্লাশি অভিযান শেষ করা হয়।

"যারা মারা গিয়েছেন তারা নিজেদের বাঁচার তাগিদে লাফ দিয়েছেন। আমরা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বার বার মানা করেছিলাম। তারা লাফিয়ে না পরলে হয়তো বাঁচানো যেতো। যারা ধৈর্য্য রেখেছেন তাদের সবাইকে আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি।" তিনি বলেন

শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, যাদেরকে ভর্তি করা হয়েছে তাদের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

আগুন লাগার এ ঘটনায় ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভবনের ভেতরে আপাতত শুধুমাত্র ফ্ল্যাট মালিকরা তাদের নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে প্রবেশ করতে পারছেন এবং ফ্ল্যাট বুঝে নিচ্ছেন।

আগুন নেভার পরপরই ফ্ল্যাটগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করেছে। তবে কোন পুলিশ সদস্য ওপরে যাননি, তাই ফ্ল্যাটের ভেতরে কি অবস্থা সেটা বলা যাচ্ছে না।

দমকলকর্মীদের পাশাপাশি উদ্ধার কাজে যোগ দেয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরাও। টানা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুন লাগার কারণ জানতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে আগুন ধরার পর ভবনটির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে লোকজন আটকে পড়েন।

ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, সন্ধ্যা সাতটার দিকে ১২ তলা ভবনটির ৭ তলায় আগুন লাগে। পরে আগুন ওপরের তলাগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে।

শুরুতে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য গেলেও আগুন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ায় ধাপে ধাপে মোট ১৯টি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে নিয়োজিত করা হয়।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে ধারণকৃত ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গিয়েছে ভবনটির সাত তলা ভবন থেকে চার জন আগুন থেকে বাঁচতে নীচে লাফিয়ে পড়ছেন।

তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গুলশান থানা পুলিশ বলছে, ভবনটি আবাসিক এবং প্রতিটি ফ্লোরে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।

আগুন লাগার পর ভবনটির বিভিন্ন তলা থেকে আটকে পড়া মানুষদের চিৎকার করে সাহায্য চাইতে দেখা যায়। অনেকেই ছাদে আশ্রয় নেয়ার পর তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ভবনে আটকে পড়া বাসিন্দাদের আত্মীয় স্বজনরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।