তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি

অবরোধ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচীর সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আগামী রবি ও সোমবার দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় অনলাইন ব্রিফিং-এ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হরতালের এ ঘোষণা দিয়েছেন।

রবিবার ভোর ছয়টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা করেন মি. রিজভী।

আগামী ৭ই জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে নির্বাচন কমিশন বুধবার যে তফসিল ঘোষণা করেছে সেটির প্রতিবাদে হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি।

নির্বাচন কমিশন এমন এক সময়ে এ তফসিল ঘোষণা করেছে যখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য বিএনপি এবং তাদের সমমনা দলগুলো অবরোধ কর্মসূচী পালন করছে।

মি. রিজভী অভিযোগ করেন সারাদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও তাদের বাসায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিএনপির পাশাপাশি নুরুল হক নূরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদও রবি ও সোমবার ৪৮ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে।

সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিএনপির ডাকা পঞ্চম দফা অবরোধ কর্মসূচী শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়।

গত ২৮শে অক্টোবর ঢাকায় রাজনৈতিক রাজনৈতিক সংঘাতের পর বিএনপি একদিন হরতালের ডাক দিয়েছিল। এরপর থেকে পাঁচ দফায় মোট ১০দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করে দলটি।

পুলিশ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশে সতর্ক অবস্থা রয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মত পরিবর্তন করে নির্বাচনে আসলে তারা বিএনপিকে স্বাগত জানাবে।

“আমরা চাইনা এমন নির্বাচন, সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। এখনো আমাদের এ আহবান সবার প্রতি রইল।”

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চায়। তবে মি. কাদের আবারো সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংলাপের সময় এখন আর অবশিষ্ট নেই।

“মি. লু’র চিঠি নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমি আলাপ করেছি। সেই চিঠির জবাব আমরা দুই-একদিনের মধ্যেই তাকে দিব। এটা একটা কার্টেসি (সৌজন্য),” বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নাম উল্লেখ না করে রুহুল কবির রিজভী প্রতি ইঙ্গিত করে কৌতুক করেন মি. কাদের।

তিনি বলেন, “ হঠাৎ হঠাৎ কোন গুহা থেকে বের হয় মাবুদ আল্লাহ জানে। তাকে ধরার জন্য এমন জোর কোন চেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি।”

নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা মিছিল-সমাবেশ করেছে।

নির্বাচনের তফসিল

ছবির উৎস, Getty Images

তফসিল নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বুধবার সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণার পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির এক ভার্চুয়াল ব্রিফিং করেন। এরপর তার সে লিখিত বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়।

আগামী বছরের সাতই জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ ৩০শে নভেম্বর।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি বলেছেন।

এরপর মি. রিজভী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশা, জনমত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর্যুপরি আহবান উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন একতরফা নির্বাচনের তামাশার তফসিল ঘোষণা করেছে।

“প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার ভাষণে বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করবেন। এটা ডাহা মিথ্যা, ভন্ডামিপূর্ণ ও মেকি। শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন বিশ্বাস করা চোরাবালিতে পড়ার সামিল।”

এই নির্বাচন কমিশন সব জেনে-শুনেই দেশকে এক গভীর সংকটের মধ্যে ঠেলে দিতে তফসিল ঘোষণা করেছে বলে মি. রিজভী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

মি. রিজভী তার বক্তব্যে আরও বলেন শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।